পেট্রোল ডিজেলের দামে আগুন লাগছে কেন? জেনে নিন দাম সংক্রান্ত ৫ তথ্য

২০১৭ সালের জুন থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতার উপর ভিত্তি করে প্রতিদিন জ্বালানির দাম সংশোধন করছে। আগে একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর সরকার নিজে জ্বালানির দাম ঠিক করত। তেল বণ্টন পর্যন্ত যে টাকা খরচ হয় এবং যে দামে তেল বিক্রি হয়, এই দুইয়ের ফারাকের (আন্ডার রিকভারি) অঙ্ক সরকার তেল-সংস্থাগুলোকে দিয়ে দেয়। তবে এই অঙ্ক মেটানোর জন্য ঘুরপথে প্রভাব পড়ে রাজকোষের উপরেই।

সরকার এই ক’বছরে যে পদক্ষেপ করেছে তাতে রাজকোষ ঘাটতি কিছুটা কমাতে পারলেও, পেট্রোলিয়ামের দাম অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। ক্রমাগত দাম বাড়তে থাকার জন্য অনেকেই সরাসরি সরকারকে দায়ী করেন। প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়ার মতে, দক্ষিণ এশিয়ার অন্য গরিব দেশগুলোর থেকে ভারতে পেট্রোলের উপর করের পরিমাণ অনেকটাই বেশি, কারণ এ দেশে কেন্দ্রের পাশাপাশি রাজ্যগুলোও পেট্রোপণ্যের উপরে কর আরোপ করে।

আসলে জ্বালানির উপর সরকারের রাজস্ব আদায় অনেকটাই নির্ভর করে। তাই তারা করের হার কোনও মতেই কমাবে না। রাজ্যগুলোর কাছে রাজস্ব আদায়ের সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ উৎস হল জ্বালানি ও মদ। এছাড়া আমদানি বাজারের ভারসাম্যহীনতা নষ্ট হওয়ারও আশঙ্কাও রয়েছে। আর্থিক হিসাবে আমাদের দেশের আমদানির ৬০ শতাংশই খরচ হয় জ্বালানি আমদানি করতে। তেলের উপর শুল্ক যদি হঠাৎ কমিয়ে দেওয়া হয়, তা হলে স্বাভাবিক নিয়মেই তেলের ব্যবহার বাড়বে, বাড়াতে হবে তেলের আমদানিও। যা কেন্দ্র ও রাজ্যগুলোকে সমস্যায় ফেলবে।

যতই দাম বাড়ুক, দেশে জ্বালানির চাহিদা কিন্তু সব সময়ই প্রবল। শুধু গাড়ির মালিকরাই জ্বালানি ব্যবহার করেন না, খাদ্যশস্য থেকে সবজি সব কিছুরই পরিবহণের জন্য জ্বালানির প্রয়োজন রয়েছে। শহরাঞ্চলের বিভিন্ন ছোট-বড় ব্যবসায় জ্বালানি দরকার হয়। বলতে গেলে, জ্বালানি কিন্তু এ দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড।

কেন্দ্র ও রাজ্যের শুল্ক কমানোর আরও একটি উপায় রয়েছে, পেট্রল ও ডিজেলের সম হারে জিএসটি বসান। এই প্রস্তাবটিও সম্প্রতি পেশ করা হয়েছে। জ্বালানির উপর রাজ্যগুলি যে শুল্ক  আরোপ করে, তা প্রতিটি রাজ্যে সমান নয়। যেমন, মহারাষ্ট্র, যেখানে পেট্রলের উপর ৪০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়, সেখানে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে শুল্কের হার মাত্র ৬ শতাংশ। ডিজেলের উপর শুল্কের হার রাজ্যগুলোতে ৬ শতাংশ থেকে ২৬ শতাংশ অবধি।” এই শুল্কের হার যদি প্রতিটি রাজ্যে এক করে দেওয়া হয়, তাহলে কোনও কোনো রাজ্যে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাবে, আবার কয়েকটি রাজ্য অস্বাভাবিক মাত্রায় রাজস্ব হারাবে।
মনে রাখা প্রয়োজন, এদেশে জ্বালানির দাম শুধুমাত্র অর্থনীতির উপর নির্ভর করে না, রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপরও ভীষণ ভাবে নির্ভর করে। তাই সাধারণ মানুষের সমস্যা-মুক্তির জন্য আপাতত কোনও পথই খোলা নেই।

আরও পড়ুন : পেট্রোল পাম্পে এই ৪টি পদ্ধতিতে আপনার সাথে প্রতারণা করা হয়

পেট্রোল-ডিজেলের দাম সংক্রান্ত ৫ তথ্য –

Loading...

১) গত কয়েক মাসে মহানগরগুলিতে পেট্রোল ও ডিজেলের মধ্যে দামের ফারাক ছিল খুবই কম। এক বছর আগে এই দামের পার্থক্য ছিল দিল্লীতে ১১ টাকা এবং মুম্বইতে ১৬ টাকা। কিন্তু এখন সেই মূল্য কমে একক সংখ্যায় দাঁড়িয়েছে।
২) গোয়া, উড়িষ্যা এবং গুজরাট – এই ৩ রাজ্যে ডিজেলের তুলনায় পেট্রোল বেশী সস্তা। গোয়ায় ডিজেলের দাম পেট্রোলের চেয়ে ২ টাকা বেশী। গুজরাট, উড়িষ্যা এবং আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে পেট্রোলের দামের চেয়ে ডিজেল ১ টাকা বেশী।
৩) উত্তরপ্রদেশ সরকার ভ্যাট বসানোর কারণে দিল্লীর মধ্যে নয়ডা এবং গুরগাওতে পেট্রোলের দাম সস্তা। যেমন গুরগাওতে পেট্রোলের দাম ৭৫.৭৭ টাকা ও ডিজেলের দাম ৭০.৭১ টাকা। সেখানে ভ্যাট ছাড়া দিল্লীর বুকে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম যথাক্রমে ৭৬.৯১ টাকা এবং ৭১.৭৪ টাকা।
৪) অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির কারণেই দেশে পেটপণ্যের এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ থাকতে পারে না। তারওপর ওপেক অর্থাৎ পেট্রোলিয়াম রপ্তানী দেশের সংস্থাগুলি সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার কারনেও পেট্রপণ্যে মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে।
৫) এসবের ফলে হু হু করে কমেছে টাকার মূল্য। মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য হ্রাসের ফলে অপরিশোধিত তেলের আমদানি এবং খুচরো জ্বালানীর মূল্যও বেড়েছে।

Loading...