মোদীর উপহার, মাসিক ৩,০০০ টাকা নিশ্চিত পেনশন! জানুন কী করতে হবে?

2278

একটি মেগা পেনশন প্রকল্প শুরু করতে চলেছে সরকার। তার নাম, ‘প্রধানমন্ত্রী শ্রম যোগী মন্ধন।’ কী হবে ওই প্রকল্পের আওতায়? অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের প্রতি মাসে ১০০ টাকা করে জমা করতে হবে। পরিবর্তে ৬০ বছর বয়সের পর আজীবন প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে পেনশন পাবেন শ্রমিকরা।

প্রস্তাবিত এই মেগা পেনশন সুবিধা পাবেন অসংগঠিত ক্ষেত্রে ১০ কোটি শ্রমিক। এবং এই পেনশন যোজনা শুরু হওয়ার ফলে তা গোটা পৃথিবীর মধ্যে বৃহত্তম পেনশন যোজনা বলে বিবেচিত হবে।

নরেন্দ্র মোদী জানান, অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্য আগে কখনো এ ভাবে ভাবা হয়নি দেশে অসংগঠিত শ্রমিকের সংখ্যা ৪০-৪২ কোটি। তাঁদের জন্যই প্রধানমন্ত্রী শ্রম যোগী মন্ধন প্রকল্প আনা হয়েছে।

কারা পেতে পারেন এই পেনশন?

কুলি, মুটে, রিক্সা চালক, রাজমিস্ত্রির যোগাড়ে, কাগজ কুরিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন যিনি, যাঁরা বিড়ি বেঁধে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন, ক্ষেতমজুর, মুচি, ধোপা সহ অসংগঠিত ক্ষেত্রে যাঁরা কাজ করে থাকেন সেই সব মানুষেরাই এই পেনশন প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বলেই জানা গিয়েছে ৷

জেনে নিন প্রকল্পের খুঁটিনাটি-

আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে চালু হচ্ছে এই প্রকল্পের কাজ।

শুধুমাত্র অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মরতরাই এই প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

আবেদনকারীর মাসিক আয় ১৫ হাজার টাকা বেশি হলে চলবে না।

আবেদনকারীর অবশ্যই ন্যূনতম একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং আধার নম্বর থাকতে হবে।

কে কোন বয়সে প্রকল্পে যোগ দিচ্ছেন, তার উপরেই নির্ভর করবে তাঁকে গুনতে হওয়া টাকার অঙ্ক। যেমন, কেউ ১৮ বছর বয়সে যোগ দিলে, মাসে দিতে হবে ৫৫ টাকা। ২৯ বছরে এলে লাগবে ১০০ টাকা। ২০০ টাকা দিতে হবে ৪০ বছরে শুরু করলে।

যাঁদের বয়স ১৮ বছরের এবং ৪০ বছরের বেশি নয় এবং যাঁরা আগে থেকে সরকারি অন্য প্রকল্পের পেনশনের অংশীদার না হবেন তাঁরাই পাবেন এই পেনশনের সুবিধা ৷

জাতীয় পেনশন প্রকল্প (এনপিএস), কর্মী পিএফ প্রকল্প (ইপিএফ), এমপ্লয়িজ স্টেট ইনশিওরেন্স কর্পোরেশন প্রকল্পে শামিল থাকলে নতুন প্রকল্পের সুবিধা মিলবে না। এই সুবিধা পাওয়া যাবে না আয়করদাতা হলেও।

প্রকল্পে সঞ্চয় অনিমিত হয়ে গেলে তা পরবর্তীতে সুদ-সহ মিটিয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

সঞ্চয়ের ১০ বছর পর প্রকল্প থেকে বেরিয়ে আসা যাবে। তবে শুধুমাত্র ব্যাঙ্কের সেভিংস অ্যাকাউন্টের সুদের হারে টাকা ফেরত পাবেন।

সঞ্চয়কারীর মৃত্যু হলে তাঁর আইনি উত্তরাধিকারী তা নিয়মিত ভাবে চালাতে পারবেন।

৬০ বছরের আগে সঞ্চয়ে অক্ষমতা দেখা দিলে পেনশন স্কিমের সুদের হারেই গচ্ছিত টাকা তুলে নেওয়া যাবে।

আরও পড়ুন ঃ ফাঁস হলো অমিতাভ বচ্চনের সম্পত্তির হিসাব

নিয়মিত টাকা দিয়ে যাওয়ার সময়ে মাঝপথে মৃত্যু হলে, প্রকল্প চালিয়ে যেতে পারবেন তাঁর স্বামী/ স্ত্রী। সে ক্ষেত্রে বাকি সময় নিজের ভাগের টাকা দিতে হবে তাঁকে।চাইলে প্রকল্প ছাড়তে পারবেন মৃত ব্যক্তির স্বামী/ স্ত্রী। সে ক্ষেত্রে তত দিন পর্যন্ত গোনা টাকা সুদ সমেত ফেরত পাবেন তিনি।

টাকা জমা দেওয়াকালীন কেউ পঙ্গু হয়ে গেলে, তাঁর স্বামী/ স্ত্রী বাকি সময় টাকা গুনে প্রকল্প চালিয়ে যেতে পারেন। নয়তো তত দিন পর্যন্ত গোনা টাকা তুলে নিতে পারেন সুদ সমেত।

পেনশন পাওয়ার সময়ে মারা গেলে অবশ্য তাঁর স্বামী/ স্ত্রী তার পর থেকে অর্ধেক পেনশন পাবেন।

Loading...