মুখে অজস্র দাগ থাকা সত্বেও এই অভিনেত্রী করেন না মেকআপ, কারণ জানলে স্যালুট জানাবেন

২০২০ সালের ফোর্বস ইন্ডিয়া’স ৩০ আন্ডার ৩০’-তে তালিকাভূক্ত হয়েছিলেন তিনি। দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রির তিনিই একমাত্র অভিনেত্রী যাঁর নাম এই তালিকায় ছিল।

Sai Pallavi

ফর্সা-উজ্জ্বল ত্বক, ব্রণ-মেচেতার দাগ মুক্ত চেহারা, মহিলাদের সৌন্দর্যের মাপকাঠি, যা সমাজ নির্ধারণ করে দিয়েছে। বিশেষত বলিউড (Bollywood) সুন্দরীদের মেকআপবিহীন চেহারা যেন আমরা কল্পনাও করতে পারি না। পর্দায় তাদের উপস্থিতি মানেই মুখের উপর চড়া মেকআপের (Make up) প্রলেপ, যা দেখে মুগ্ধ হবেন দর্শক। আর বলিউড সুন্দরীরাও কখনোই ‘নো মেকআপ লুক’ নিয়ে প্রকাশ্যে আসতে চান না। পর্দায় হোক অথবা পর্দার বাইরে, চড়া মেক আপ ছাড়া তারাও বেরোতে ভরসা পাননা।

তবে এই বলিউডেই এমন একজন অভিনেত্রী রয়েছেন যিনি বলিউডের স্রোতে নিজেকে না ভাসিয়ে বরং সর্বদা উল্টো পথে হাঁটেন। তিনি গ্ল্যামারের পেছনে ছোটেন না। নিজের দাগ ছোপ যুক্ত চেহারা সকলের সামনে তুলে ধরতে দ্বিধাবোধ করেন না। তিনি দক্ষিণের অভিনেত্রী সাই পল্লবী (Sai Pallavi)। এই অভিনেত্রী আজ পর্যন্ত যে ক’টি ছবিতে অভিনয় করেছেন বা যতবার তাকে প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছে, ততবার মেকআপ ছাড়াই ক্যামেরার সামনে এসেছেন তিনি।

সাই পল্লবীর গালে রয়েছে অসংখ্য ব্রণের দাগ। কোকড়ানো চুল সর্বদা উস্কোখুস্কোই থাকে। আর নিজের এই অবতারেই ক্যামেরার সামনে এসে শট দেন অভিনেত্রী। তবে এর জন্য কিন্তু দর্শকেরা তাকে নিয়ে সমালোচনা করেন না। উপরন্তু তার অভিনয় দক্ষতা নিয়ে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন তাকে। দক্ষিণী এই অভিনেত্রীর পুরো নাম সাই পল্লবী সেন্থামারাই। ১৯৯২ সালে ৯ই মে তামিলনাড়ুর নীলগিরি জেলার কোটাগিরিতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

তামিলনাড়ু কোয়েম্বাটুরেই কেটেছে তার ছোটবেলা। তবে এখন অবশ্য মা, বাবা এবং বোনকে নিয়ে কোচিতে থাকেন অভিনেত্রী। পল্লবীর বাবা আবগারি দপ্তরে কাজ করেন। তার মা একজন নৃত্যশিল্পী। মায়ের সেই গুন তিনিও পেয়েছেন। তিনি কখনও নাচের প্রশিক্ষণ নেননি। তবে পর্দায় নাচের দৃশ্যে তার পারফরম্যান্স দর্শককে মুগ্ধ করে। গ্ল্যামার দুনিয়াতে থাকলেও পল্লবী সর্বদাই নিজেকে সাধারণভাবে উপস্থাপন করতেই পছন্দ করেন।

অভিনয় করার সময় কলাকুশলীদের অল্পবিস্তর মেকআপ করতেই হয়। পর্দায় নিজেদের সুন্দর দেখানোর প্রচেষ্টায় কোনরূপ কার্পণ্য করেন না তারা। তবে পল্লবী কিন্তু সেই দলে নন যারা মেকআপের আড়ালে চেহারার দাগ লুকিয়ে রাখতে চান। মুখে ব্রণের লাল দাগ, এলোমেলো চুলের ক্যামেরার সামনে ধরা দেন তিনি। চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে হয়তো অল্পবিস্তর মেকআপের পরশ তার গালে এসেও লাগে। তবে সেই মেকআপ কখনোই তার চেহারার দাগ মুছে দিতে পারেনা। পল্লবীও অবশ্য তা চান না।

Sai Pallavi

শুধু মেকআপ নিয়ে আপত্তি নয়, ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচলিত বহু বিষয়েই আপত্তি রয়েছে তার। যেমন, তিনি কখনোই ছোট পোশাকে পর্দার সামনে আসবেন না, ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করবেন না, নায়কের সঙ্গে চুম্বন দৃশ্যেও অভিনয় করবেন না। এত আপত্তির পরেও কিন্তু কাজ পেতে খুব একটা সমস্যা হয় না তার। পল্লবীর এত শর্ত মেনেও তাকে ইন্ডাস্ট্রি জায়গা করে দিয়েছে। আসলে একটা সময় ছিল যখন পল্লবী নিজের চেহারা নিয়ে হীনমন্যতায় ভুগতেন। কেরিয়ারের শুরুতে বলিউডে সেভাবে সুযোগ পাচ্ছিলেন না তিনি।

Sai Pallavi

এরপর যখন বলিউডে তার অভিষেক হয়, তখন কিন্তু তাকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি যেমন, তাকে সেভাবেই গ্রহণ করেছেন দর্শক। উল্লেখ্য, নিজের আদর্শবাদের বোধ থেকেই ত্বকের রঙ ফর্সাকারী ক্রিমের ২ কোটি টাকার বিজ্ঞাপনের প্রস্তাব ফিরিয়েছিলেন তিনি। তার মনে হয়েছিল এমন বিজ্ঞাপন মহিলাদের জন্য অপমানজনক। পল্লবীর এই সিদ্ধান্ত ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসিত হয়।

Sai Pallavi

জানলে হয়তো অবাক হবেন, পল্লবী একজন সফল চিকিৎসকও বটে। ২০১৬ সালে জর্জিয়ার টিবিলিসি স্টেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন তিনি। পড়াশোনা চলাকালীনই ২০১৪ সালে ‘প্রেমাম’ ছবিতে কাজের সুযোগ পান তিনি। সেই ছিল তার প্রথম ছবি।

এরপর পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকেই জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছুটি নিয়ে এসে ভারতে শুটিং সেরে গিয়েছেন তিনি। আজ তিনি দক্ষিণের একজন সফলতম অভিনেত্রী। ২০২০ সালের ‘ফোর্বস ইন্ডিয়া’স ৩০ আন্ডার ৩০’-তে তালিকায় দক্ষিণের একমাত্র অভিনেত্রী হিসেবে পল্লবী নাম ছিল।