রাতারাতি বদলে গেল বৃদ্ধের ভাগ্য, একটি ভিডিও বদলে দিল বাবার জীবন

আবারও মানবিকতার পরিচয় দিল সোশ্যাল মিডিয়া। ঘটনাটা ঘটলো দিল্লির মালব্য নগরে। সেখানেই এক বৃদ্ধর ছোট্ট একটি খাবার দোকান “বাবাকা ধাবা (Babaka Dhaba)”। সেখানেই মটর পনীর, সাথে রুটি, পুরি বিক্রি করে সংসার চালাতেন বৃদ্ধ। কিন্তু লক ডাউনের সময় বিক্রি নেই বললেই চলে। সংসারের দৈন দশা রীতিমত অসহনীয় হয়ে উঠেছিল তার কাছে।

খদ্দের নেই, চোখের জলে দিন কাটছে বৃদ্ধ ধাবা ওয়ালার, তাঁর আর্তি পৌঁছে গিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ার আমজনতা থেকে তারকা মহলে। এরপর একের পর এক পোস্ট। কয়েক ঘণ্টা পরই দোকানে উপচে পড়ল ভির।

গতকাল এই দোকানের একটি ছোট্ট ভিডিও টুইটারে পোস্ট করেন একজন নেটিজেন যেখানে অঝোরে কাদতে দেখা যায় বৃদ্ধকে।বৃদ্ধ ভিডিওতে তার বিক্রি না হওয়া খাবার দেখাচ্ছেন এবং সাথেই নিজের অসহয়তার কথা বলেন বৃদ্ধ। দারিদ্রতার জন্য তার চোখে মুখে পড়েছে দৈন্যের ছাপ।

পোস্ট করার পর মুহূর্তের মধ্যেই সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়।ধাবার পরিস্থিতি এবং মালিকের অসহায়তা সাধারণ নেট নাগরিকদের ছুঁয়ে যায়। এরপরেই ঘটে যায় সেই অবিশ্বাস্য ঘটনা। পরদিন সকাল থেকে বাবাকা ধাবায় ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতন। রীতিমত লাইন দিয়ে মটর পনীর খাচ্ছেন খদ্দেররা। বৃদ্ধ মালিক নেট দুনিয়ার এই খবর জানেননা ঠিকই তবে আগের মতন খদ্দের পেয়ে বেজায় খুশি তিনি।

সকাল থেকে ‘বাবাকা ধাবা’র সামনে তিলধারণের জায়গা নেই! একের পর এক খদ্দের এসে খেয়ে চলেছেন মটর-পনির। বৃদ্ধ মালিক তো অবাক হয়ে গেছেন! তিনি না জানেন এই নেট-দুনিয়ার কারসাজি, না জানেন নিজের ভাইরাল হওয়ার খবর। তবে সে যাই হোক না কেন, আবার আগের মতো খদ্দের পেয়ে, খাবার বিক্রি করতে পেরে, তিনি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।

এভাবেই আরেক বৃদ্ধ মানুষের পাশে দাড়িয়ে মানবিকতার পরিচয় দিল নেট নাগরিকরা।দিল্লির নাগরিকদের এই অসাধারণ সাড়া পাওয়ায় এখনও সোশ্যাল মিডিয়া দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই ধাবা।

 

তবে এবার আর বৃদ্ধির চোখে জল নেই, আছে মুখে হাসি।তবে তার দোকানের মটর পনীরের স্বাদ যে অসাধারণ তাও আঙ্গুল চাটতে চাটতে স্বীকার করছেন খদ্দেররা।আবারও প্রমাণিত হলো, সোশ্যাল মিডিয়া চাইলেই কি না করতে পারে।