বাড়িতে বসে বই খুলে দেওয়া যাবে পরীক্ষা, আসছে নতুন পরীক্ষা পদ্ধতি

সম্প্রতি দেশের সর্বোচ্চ আদালত, সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর স্তরের চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা নিতেই হবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে। অনলাইন বা অফলাইনে পরীক্ষা নেওয়া যাবে, তবে পরীক্ষা না দিয়ে সার্টিফিকেট পাবেননা পড়ুয়ারা।
এই অবস্থায় পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় যতটা সম্ভব অফলাইনে পরীক্ষা নিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে।

তবে সেপ্টেম্বরে কোনোভাবেই পরীক্ষা নেওয়া চলবেনা। পরীক্ষা নিতে হলে তা নিতে হবে অক্টোবরে। এই সংক্রান্ত বিষয়ে আজ ভিডিও কনফারেন্সে রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্যদের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা বৈঠক করেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী তথা তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষা ১ থেকে ১৮ অক্টোবরের মধ্যে নিতে হবে। পরীক্ষার রেজাল্ট বের হবে ৩১ অক্টোবর।

বর্তমান কোরোনা পরিস্থিতিতে ছাত্রদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে কিভাবে পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে সেই নিয়েই এখন চিন্তায় বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ। একদিকে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যত, অন্যদিকে কোরোনা পরিস্থিতিতে পরীক্ষা।
এমন অবস্থায় ওপেন বুক এক্সামের কথায় ভাবছেন বিভিন্ন মহলের বিশেষজ্ঞরা। এক কথায় বই খুলেই পরীক্ষা দেবে ছাত্রছাত্রীরা। বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে এইরকম পরীক্ষার খুব একটা নজির না থাকলেও এটা নতুন কিছুনা। এর আগে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম নম্বরের পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে এই পন্থা অবলম্বন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, করোনা আবহের মধ্যেই কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষা ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে তা সম্ভব নয় বলেই জানিয়েছিল অনেক রাজ্য। পরীক্ষা বাতিলের দাবি করা হয়েছিল।  সেই নিয়ে মামলা হয় সুপ্রিম কোর্টেও। তারই শুনানিতে দেশের শীর্ষ আদালত জানায়, কোনও রাজ্য যদি মনে করে  ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা নিতে পারবে না, তাহলে তারা ইউজিসির সঙ্গে কথা বলে পরীক্ষার দিন পিছোতেই পারে। কিন্তু পরীক্ষা কোনওভাবেই বাতিল করা যাবে না।

কীভাবে নেওয়া হবে এই পরীক্ষা?

পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ই মেলের মাধ্যমে বা হোয়াটসঅ্যাপে ছাত্রছাত্রীদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। পরীক্ষার্থীদের সেই প্রশ্নের উত্তর লিখে পাঠানোর জন্য নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হবে এবং সেই সময়ের মধ্যে উত্তর লিখে মূল্যায়নের জন্য ফের কতৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেবেন ছাত্রছাত্রীরা। সাধারণ ভাবেই হোম অ্যাসেসমেন্ট অর্থাৎ বাড়ি থেকে পরীক্ষা দেওয়ার ফলে উত্তর লেখার সময় ছাত্রছাত্রীরা বই বা ইন্টারনেট বা অন্যকিছুর সাহায্যে উত্তর লিখবেন তা মেনে নিয়েই এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে।

যেখানে ইন্টারনেট কানেকশন নেই সেখানে কিভাবে পরীক্ষা হবে?

যেসব অঞ্চলে প্রত্যন্ত গ্রাম বা যাদের কাছে ইন্টারনেট কানেকশন নেই সেখানে একটি সেন্টারে নেট সংযোগ করে বেশ কিছু পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে নেট কানেকশন এর খরচ বহন করবে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ বা রাজ্য সরকার। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই একটি পন্থাই দেখতে পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

তৃণমূলপন্থী অধ্যাপক সংগঠন ওয়েবকুপার সভানেত্রী কৃষ্ণকলি বসু এই বিষয় বলেন যে ইউজিসির কাছে ওপেন বুক এক্সামের জন্য আবেদন জানাতে তাদের তরফ থেকে রাজ্য সরকারকে প্রস্তাব দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন যে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নেওয়ার এই একটাই যুক্তিসঙ্গত উপায় হওয়ায় ইউজিসির এতে কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়।

পশ্চিমবঙ্গের শিবপুর IIESTতে (তৎকালীন BESU) বছর দশেক আগে খুব কম নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হয় এই পদ্ধতিতে। এই পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তৎকালীন উপাচার্য অজয় কুমার রায়ের। রাজ্যের কারিগরি শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় ও ‘হোম অ্যাসেসমেন্ট’ পদ্ধতিতেই মূল্যায়ণ করেছে। অবশ্য বিদেশে এই পদ্ধতি বেশ পরিচিত। তাহলে কি এই পদ্ধতিতেই এবার পরীক্ষা হবে বাংলায়?!