২০৫০ সালের মধ্যে প্রতি চারজনে একজন হবেন কালা, সমীক্ষায় চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

বিশ্বজুড়ে সব বয়সের মানুষের মধ্যেই বাড়ছে বধিরতা। বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানাচ্ছে আগামী ৩০ বছরের মধ্যে বিশ্বের ৯০ কোটির বেশি মানুষ কানের সমস্যা কাল থাকবেন। এছাড়াও ৬০ শতাংশ শিশু শ্রবণ প্রতিবন্ধকতার শিকার হবেন। বিশেষজ্ঞদের কথায় ইতিমধ্যেই বিশ্বের তিন কোটির বেশি শিশুর শ্রবণ প্রতিবন্ধকতার রয়েছে। যেহেতু বাচ্চারা কানে শুনে সে কথা বলতে শেখে সেহেতু শ্রবণ প্রতিবন্ধকতা থাকলে শিশু কথা বলতে শিখবে না।বর্তমানে এই সংখ্যাটা অনেক হয়ে গেল এই বিষয়ে সর্তকতা অবলম্বন করে না কেউই।

সমীক্ষা থেকে দেখা যাচ্ছে প্রতি ১০০ জন শিশুর মধ্যে চার থেকে পাঁচ জনের থাকছে এই সমস্যা। অন্তঃকর্ণের সমস্যা হওয়া খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়, কিন্তু এক্ষেত্রে দেরি না করে সত্বর যোগাযোগ করতে হবে ডাক্তারের সাথে। গর্ভাবস্থায় কোনও রোগের দরুনও এটি ঘটতে পারে, তাই প্রথম থেকেই সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে।

শব্দদূষণ শ্রবণ শক্তি ক্ষয় হওয়ার অন্যতম কারণ। এছাড়াও ঘরের ভেতরে কানে হেডফোন (Headphone) গুঁজে অনেক ঘণ্টা কাটানো, জোর ভলিউমের সিনেমা বা গান দেখা,হেডফোন লাগিয়ে ভিডিও কনফারেন্স কথাবার্তা,মোবাইলের রেডিয়েশন ইত্যাদি ও শ্রবণ শক্তি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে হেডফোন কানে লাগানো থাকলে মোবাইল বা ল্যাপটপ থেকে রেডিয়েশন সরাসরি মাথার কোষে আঘাত করে। এর ফলে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া ছাড়াও স্মৃতিশক্তির উপরেও প্রভাব পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে এইজন্য আগে দরকার লাইফস্টাইল ম্যানেজমেন্ট এবং যে কোন অসুখের সঠিক সময়ে চিকিৎসা।

এছাড়াও সেফটিপিন বা কাঠি দিয়ে কান খোঁচানো ফলে সমস্যা হতে পারে। ইয়ারবাড (Earbud) ব্যবহার করলেও অসাবধানে কানের খোঁচাখুঁচিতে ঘটতে পারে বিপদ। এগুলোর থেকে সংক্রমণ ছড়ায় যা কানের ব্যাধি তো বটেই এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে এই বাডসের খোঁচা কানের অডিটরি লোগকে উত্তেজিত করে এবং কানের তরুণাস্থি ক্ষতিগ্রস্ত করে। শ্রবণ শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ায় অস্ত্রোপচারের সাহায্য নিতে হয় অনেককে।

অনেক সময় ইয়ারফোন থেকেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। ইয়ারবাড সব সময় নিজেরটা নিজে ব্যবহার করা উচিত এবং অন্য কারো সাথে শেয়ার না করাই উচিত। সমীক্ষা থেকে দেখা যায় প্রত্যেক বছর ইয়ারবাড ব্যবহারের ফলে সাত হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। সমীক্ষা থেকে আরও জানা যায় প্রায় ৩৬ শতাংশ মানুষ এই বিষয় সম্পর্কে অবগত। পাশাপাশি ২৯ শতাংশ মানুষ সবটা জেনেই কানের বাড ব্যবহার করেন।