নিঃসন্তান বলে একঘরে করেছিল সমাজ, প্রতিশোধ নিলেন ৮০০০ সন্তানের মা হয়ে

89

বিবাহিত জীবনের ২৫ বছর পের করেছেন, তারপরেও হয়নি কোনও সন্তান৷ সমাজ তাকে বহিষ্কার করেছিল৷ কারণ গর্ভধারণ করতে না পারলে নাকি নারী পূর্ণতা পায় না। কিন্তু এই প্রচলিত ধারনাকেই পাল্টে দিলেন থিম্মাক্কা। সন্তান না হওয়ায় স্বামীর সঙ্গে এক অভুতপূর্ব সিদ্ধান্ত নেন থিম্মাক্কা৷ ঠিক করেন, গাছ লাগাবেন। আর তাদেরই বড় করবেন সন্তানস্নেহে। নিলেন এক মধুর প্রতিশোধ।

প্রথম বছরে ১০টি, দ্বিতীয় বছরে ১৫টি, তৃতীয় বছরে ২০টি বটগাছের চারা লাগালেন। এক সময় এই সন্তানদের দেখাশোনার জন্য দিনমজুরির কাজও ছেড়ে দেন চিক্কাইয়া। থিম্মাক্কা রোজগার করতেন, আর বাড়ি ফিরে স্বামীর সঙ্গে সন্তানদের দেখভাল করতেন।

রোজ প্রায় চার কিলোমিটার পেরিয়ে তাঁরা এই গাছগুলিতে জল দেওয়ার কাজ করতেন। গবাদি পশুর হাত থেকে চারাগাছগুলিকে বাঁচাতে কাঁটাতারের বেড়াও বানিয়ে দেন।

১৯৯৬ সালে ‘জাতীয় নাগরিক সম্মান’ ভূষিত হওয়ার পর তার কথা জানতে পারে গোটা দেশ। বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা এগিয়ে আসে তাঁকে সাহায্য করতে।

থিম্মাক্কার কোন প্রাতিষ্ঠানিক কোন শিক্ষা নেই, নেই কোন বড় ডিগ্রি নেই। গ্রামের আর পাঁচজন দরিদ্র ভারতীয় নারীর মতোই শ্রমিক হিসেবে কাজ করে জীবন চালানো এক নারী। ভূমিহীন দিনমজুর এই দম্পতি সমাজেও ছিলেন একঘরে, কারণ তারা বন্ধ্যা।

২০১৬ সালে বিবিসি-র বিচারে বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালী মহিলাদের তালিকায় রয়েছে সালুমারাদা থিম্মাক্কার নামও। আন্তর্জাতিক স্তরের উদ্যোগে থিম্মাক্কা ফাউন্ডেশনেও তৈরি হয়েছে বিদেশের বিভিন্ন জায়গায়। বর্তমানে থিম্মাক্কার গাছগুলিকে দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছে কর্নাটক সরকার।

গত ৮০ বছরে প্রায় ৮০০০ গাছ পুঁতে তাদের বড় করে তুলেছেন ১০৬ বছর বয়সী এই বৃক্ষমাতা। সেই থিম্মাকাই এ বার পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।

Loading...