এই রোগই কেড়ে নিল বাপ্পি লাহিড়ীর প্রাণ! জানুন এই রোগ সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

বুধবার সকালেই সুদূর মুম্বাই থেকে ভেসে এল দুঃসংবাদ। প্রয়াত হয়েছেন বাপ্পি লাহিড়ী (Bappi Lahiri)। বিগত ১ মাস যাবত অসুস্থ ছিলেন তিনি। এর মধ্যেও তার মৃত্যুর খবর রটেছে। তাই প্রথম খবর পাওয়ার পর ভক্তরা আশা করেছিলেন, এই দুঃসংবাদও রটনা! তবে তা নয়। ৬৯ বছর বয়সেই মৃত্যু হল ভারতের ‘ডিস্কো কিং’য়ের। মুম্বাইয়ের ক্রিটিকেয়ার হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। তার মৃত্যুর পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানালেন হাসপাতালে কর্ণধার ডা: দীপক নমজোশি।

তিনি সংবাদসংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, “লাহিড়িকে এক মাসের জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং তাঁকে ছেড়ে দেওয়া সোমবার। কিন্তু মঙ্গলবার তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতেই চিকিৎসক ডেকে নেন। তারপর তাঁকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা ছিল। মাঝরাতের কিছু আগে তিনি ওএসএ-তে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারান।” OSA বা ডাক্তারি পরিভাষায় অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়াতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে কিংবদন্তি গায়কের। এই রোগ সম্পর্কে চিকিৎসকদের কী মত? জানুন সবিস্তারে।

অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া (OSA) কি?

এই রোগটিতে ঘুমের সময় শরীরের উপরের অংশের শ্বাসনালী বরাবর শিথিল হয়ে পড়ে। এতে শ্বাস নেওয়ার সময় সমস্যা হয়। জিভ এবং সফট প্যালেটের মত অংশ ঘুমের সময় শিথিল হয়ে পড়ে। এই সময় শ্বাস নেওয়ার পথ ছোট হয়ে আসে। অনেক সময় এতে ঘুমের মধ্যে শ্বাস নেওয়াও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সাধারণত ঘুমের সময় নাক এবং মুখের মাধ্যমে ফুসফুসে যথেষ্ট পরিমাণে অক্সিজেন পৌঁছে যায়। তবে OSA এর সমস্যা যাদের থাকে তাদের ঘুমের মধ্যে শ্বাস নিতে অসুবিধা হয়।

Obstructive Sleep Apnea - Symptoms, Causes & Treatment

OSA কাদের হয় ?

যে কোনও ব্যক্তিরই এই সমস্যা হতে পারে। বয়স্ক পুরুষের মধ্যে সমস্যাটা বেশি দেখা যায়। মেনোপজের পর মহিলাদের মধ্যেও অনেক সময় সমস্যা দেখা দেয়। অনেক বাচ্চাদের মধ্যেও এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই রোগে আক্রান্তরা বেশিরভাগ সময় ঘুমের মধ্যে নাক ডাকেন। তবে নাক ডাকলেই যে তা OSA, এই ধারণা ঠিক নয়।

OSA ভবিষ্যতে কোন কোন রোগ ডেকে আনতে পারে : OSA থেকে ভবিষ্যতে হাই ব্লাড প্রেসার, হার্টের রোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, আর্টিয়াল ফিব্রিলেশন, পালমোনারি হাইপারটেনশনের সমস্যা হতে পারে।

OSA এর রোগ লক্ষণ কি কি?

  • ১. শরীরে কখনও এই সঠিক মাত্রায় অক্সিজেন পৌঁছায় না। তাই দিনের বেলাতেও ঘুম পায়।
  • ২. ঘুমের সময় খুব জোরে জোরে নাক ডাকার সমস্যা থাকে।
  • ৩. ঘুমের সময় মাঝে মাঝে শ্বাস আটকে যায়।
  • ৪. ঘুমের সময় শ্বাস নেওয়ার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়।
  • ৫. বারবার ঘুম ভেঙে যায়।
  • ৬. সকালে ঘুম থেকে উঠে মাথা ব্যাথা, ভুলে যাওয়া বা অবসন্ন বোধ করার মতোও সমস্যা দেখা দেয়।

OSA এর কারণ?

  • ১. ওবেসিটি
  • ২. হাইপার থাইরয়েডিজম, পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোমের মত রোগ।
  • ৩. অ্যাজমা এবং সিওপিডির সমস্যা।
  • ৪. স্ট্রোক
  • ৫. হার্ট এবং কিডনি ফেলিওর
  • ৬. পরিবারের কারও এই রোগ থাকলেও জিনগতভাবে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

OSA এর চিকিৎসা?

প্রথমত রোগ নির্ণয় করতে হবে। সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নানাবিধ টেস্ট করাতে হতে পারে। রোগের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার পাশাপাশি ওজন কমাতে হতে পারে এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে হবে।