৭ জীবনের গল্প প্রমাণ করে, সব সম্ভব 

স্বপ্নের কাছাকাছি এসেও হাল ছেড়ে দেয় অনেকে। আফসোস করতে হয়। পরিস্থিতি যতই প্রতিকূল হোক কিছু মানুষ সেই অবস্থাতেও স্বপ্ন লালন করেন। যে কোনও রকম বাধাকেই তাঁরা অতিক্রম করতে পারেন মনের জোরে। তাঁদের ইচ্ছাশক্তির কোনও তুলনা হয়না।

রাষ্ট্রনায়ক, রাজনীতিবিদ ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট বলেছিলেন, ‘যখন আপনি দড়ির শেষ প্রান্তে উপস্থিত তখন একটা গিঁট বাধুন এবং ঝুলে পড়ুন।’ অনেক মানুষের জীবন শুরু হয় সোনার চামচ মুখে দিয়ে কিন্তু স্বপ্ন তাড়া করতে গিয়ে আধপেটা খেয়ে থাকতেও কসুর করেন না তাঁরা। শেষ পর্যন্ত স্বপ্ন পূরণ করে তবেই থামেন। এখানে তেমনই ৭ মানুষের জীবনের গল্প বেছে নিয়েছি আমরা যারা মনে করেন সবকিছুই সম্ভব।

আরো পড়ুন : বাবা মদ্যপ, মা নারকেল বেচে, ছেলে সফল IAS পরীক্ষায়

Source

গোবিন্দ জয়সোয়াল

মাত্র ২২ বছর বয়সে ২০০৬ সালে গোবিন্দ জয়সোয়াল সিভিস সার্ভিস পরীক্ষায় ৪৮ র‍্যাঙ্ক করেন। বাবা পেশায় রিক্সাচালক। কাটা দুয়েক জমি ছিল, ছেলের পড়াশোনার জন্য সেটাও বিক্রি করে দিয়েছেন। জমি বিক্রির টাকায় ছেলেকে পড়িয়েছিলেন কোচিং ক্লাসে। দশ থেকে চৌদ্দ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকত না। তারপরেও সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথম পঞ্চাশ জনের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন। জমি বিক্রির সময় যে পুলিশটা ব্যাগড়া দিয়েছিল এখন সেই ‘স্যর’ ছাড়া কথা বলে না। তিন বোন আছে। বাবা চেয়েছিলেন বাস্তুজমির কিছুটা বিক্রি করতে। গোবিন্দ রাজি হননি। বোনেদের বিয়ে তিনিই দেবেন।

আরো পড়ুন : অটো ড্রাইভারের মেয়ে, জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথম

Source

কার্তিক সাহানি

আইআইটি তাঁর অ্যাডমিশন বাতিল করে দিয়েছিল। তখনই ভেবেছিলেন বিদেশ চলে যাবেন, স্ট্যানফোর্ড। শিক্ষাব্যবস্থা তাঁর মতো মেধাবী ছাত্রের জন্য জায়গা খুঁজে দিতে ব্যর্থ হয়েছে। কার্তিক সাহানির একমাত্র দূর্বলতা তিনি অন্ধ। ভারতে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অষ্টম শ্রেণীর পর একজন অন্ধ শিক্ষার্থী কেবল কলা এবং সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করতে পারে। সেখানে কার্তিক চেয়েছিলেন বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে। অনেক আবেদন নিবেদন এবং কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় লাগাতার প্রচারের ফলে সিবিএসই বোর্ড থেকে বিজ্ঞান নিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি মেলে। তাক লাগানো ৯৬ শতাংশ নাম্বার পেয়ে উর্তীর্ণ হয় কার্তিক। এরপরেও আইআইটি তাঁকে অ্যাডমিশন দেয়নি। কুছ পরোয়া নেহি। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় সাদর আমন্ত্রণ জানিয়েছে। সেখানেই ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছেন কার্তিক।

আরো পড়ুন: মোটরবাইকই অ্যামুলেন্স! লাখো মানুষের সেবায় করিমুল

Source

বাবর আলি

বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ হেডমাস্টার হিসাবে পরিচিত বাবর আলি। মাত্র ১৬ বছর বয়সে সিদ্ধান্ত নেন গ্রামের সমস্ত শিশুকে পড়াশোনা শেখাতে হবে। তখন দ্বাদশ শ্রেনীতে পড়ে। বাড়ির লাগোয়া ঘরেই খুলে ফেললেন ‘আনন্দ শিক্ষা নিকেতন’ বিদ্যালয়। সকালে নিজে স্কুলে পড়তেন। দুপুরে গ্রামের অন্যদের স্কুলে পড়াতেন। প্রায় ৮০০ পড়ুয়া আছে বাবরের স্কুলে। সরকার স্বীকৃতি দিয়েছে এই স্কুলকে। উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের গ্রামের অন্য স্কুলে স্থানান্তরের অনুমোদন আছে।

আরো পড়ুন : ৯৯ বছরের পদ্মশ্রী সম্মানে সম্মানিত বাংলা মায়ের এক বীর সন্তানের কাহিনী

Source

সালুমারদ থিমাক্কা

টানা ৮০ বছর ধরে ৮০০০ গাছ লাগিয়েছেন। প্রতিটি গাছই তাঁর সন্তান। কর্ণাটকের ১৯২৮ সালে এক ঠিকে শ্রমিকের সঙ্গে বিয়ে হয়। কয়েক বছর কেটে গেলেও কোনও সন্তানাদি না হওয়ায় দুঃখে কলা গাছ বসান। সেই শুরু। স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে টানা চার কিলোমিটার জমিতে ২৮৪ টি কলা গাছ বসিয়েছিলেন। স্বামী মারা যাওয়ার পরেও সেগুলির দেখভাল করেন, নিত্য জল দেন। সরকার তাঁকে দেশের অন্যতম পরিবেশবিদের সম্মান দিয়েছে। ওই ২৮৪টি কলা গাছের তত্ত্বাবধানও করছে কর্ণাটক সরকার।

আরো পড়ুন : পাঁচ IAS সফলদের জীবনযুদ্ধের কাহিনী যা আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে

Source

কে জয়গণেশ

দক্ষিণ ভারতের ভেল্লর গ্রামে কে জয়গণেশের জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। দরিদ্র পরিবার। পড়াশোনার জন্য হোটেলে বেয়ারার কাজ করেছেন। উপার্জনের টাকায় পড়েছেন কোচিং ক্লাসে। সাতবারের চেষ্টায় সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ১৫৬ র‍্যাঙ্ক করেছেন।

আরো পড়ুন : ৪ বছর বয়সের ছেলের মা হয়েও, UPSC পরীক্ষায় মেয়েদের মধ্যে প্রথম

Source

আশিস গোয়েল

শারিরীক প্রতিবন্ধীদের সংরক্ষণ কোটায় সরকারি চাকরি পেয়েছিলেন মুম্বাইয়ের দৃষ্টিহীন আশিস গোয়েল। রাজি হননি আশিস। এমবিএ পড়ার জন্য ভর্তি হয়ে যান এনএমআইএমএস। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়নের জন্য আশিস গোয়েলকে সম্মানিত করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি। এখন লন্ডনের জেপি মর্গ্যান বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করছেন।

আরো পড়ুন : পাঁচ IAS সফলদের জীবনযুদ্ধের কাহিনী যা আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে

Source

কল্পনা সরোজ

স্কুলে পড়াশোনার সময় সহপাঠীরা তাঁকে ‘অচ্ছুৎ’ করেছিল। জন্মসূত্রে ছিলেন দলিত। মাত্র ১২ বছর বয়সে পরিবার জোর করে বিয়ে দিয়ে দেয়। কিন্তু বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সেই বিয়ে ভেঙে পালিয়ে আসেন মুম্বাই। লোকসানে চলা একটি ধাতব ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি কিনে নেন। কল্পনার হাতে আসার পর থেকেই কারখানা লাভের মুখ দেখতে শুরু করে। এখন বছরে লক্ষাধিক টাকার লেনদেন হয়। কয়েকশো কর্মী কাজ করেন। জীবনের হাল না ছেড়ে লড়ে গেছেন কল্পনা। তাই সাফল্য ধরা দিয়েছে তাঁর কাছেই।

আমাদের প্রতিটি পোস্ট WhatsApp-এ পেতে ⇒ এখানে ক্লিক করুন