ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে, অসম্ভব কে সম্ভব করে সন্তানের মুখ দেখেছেন নীতা আম্বানি

931

মাতৃত্বের অনুভূতি পৃথিবীর সকল পার্থিব সুখের ঊর্ধ্বে। মাতৃত্বই নারীকে পূর্ণতা দেয়। “মাতৃত্ব’, এই ছোট্ট শব্দটির উপর সকল নারী জাতির মনে এক অপরিসীম ভালোলাগা বোধ লুকিয়ে থাকে। তাই তো শতযন্ত্রণা উপেক্ষা করেও একজন নারী সন্তানের জন্ম দেন। সন্তানের সঙ্গে তার যে নাড়ির টান রয়েছে! মায়ের সাথে সন্তানের সম্পর্ক হয় আত্মিক। পৃথিবীর আর কোনও সম্পর্ক এই সম্পর্ককে ছাপিয়ে যেতে পারে না।

‘মা’ কথাটি বলতে যেমন মানুষের মনে প্রচন্ড আগ্রহ তেমনি ‘মা’ কথাটি শুনতেও প্রত্যেকটি নারীর মনের গভীরে একটা স্বপ্ন লালিত হয়। নারী জাতী নিজের অজান্তেই প্রকৃতিগতভাবে এই স্বপ্ন লালন করে। মা শব্দটির সাথে জড়িয়ে রয়েছে ,মাতৃত্ব সম্পর্কটি।আর সেই মাতৃত্বের কথা বলতে গেলে সর্ব প্রথমে বলতে হয়,মাতৃত্ব! অদ্ভূত এক অনুভূতি। একজন নারী যেন পূর্ণতা পায় সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে।এ যেন নারীর এক নতুন জন্ম যা তাকে দেয় সৃষ্টির আনন্দ, সন্তানের হাসিতে হারিয়ে যাওয়ার সুখ এবং জীবন ও পৃথিবী কে নতুনভাবে উপলব্ধি করার ঐশ্বরিক এক ক্ষমতা।

রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ব্যবসায়ী মুকেশ আম্বানিকে ধনকুবের বলা হয়। ১৯৮৫তে মুকেশের সঙ্গে বিয়ে হয় নীতার আর বিয়ের ঠিক এক বছর পর নীতা আম্বানি তার জীবনের সবথেকে বড় দুঃসংবাদটি পেয়েছিলেন। স্কুলে পড়াকালীন বাচ্চাদের লালন পালন নিয়ে প্রবন্ধ লেখা নীতা  ২৩ বছর বয়সে এসে জানতে পারেন মাতৃসুখ থেকে বঞ্চিত তিনি। কিন্তু জীবনের লড়াইতে হেরে যাননি নীতা আম্বানি, লড়াই করে গিয়েছেন চেষ্টা করে গিয়েছেন। অবশেষে অদম্য ইচ্ছা শক্তির জোরে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে, অসম্ভব কে সম্ভব করে যেভাবে মা হয়েছিলেন নীতা আম্বানি।

বিয়ের পর যখন নীতা জানতে পারেন, তিনি মা হতে পারবেন না তখন স্বাভাবিক ভাবেই ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। তবে এই অবস্থাতেও তিনি পাশে পেয়েছিলেন দুই পরিবারকে এবং স্বামী মুকেশ আম্বানিকে।  বিভিন্ন চিকিৎসকদের কাছে পরামর্শ নিয়ে তারা আইভিএফ পদ্ধতির কথা জানতে পারেন। IVF পদ্ধতি তখন একেবারেই নতুন, সেভাবে এই পদ্ধতির প্রচলন হয় নি। মনে আশঙ্কা তো ছিলোই। তবে মা হওয়ার জন্য এই নতুন পদ্ধতির কথা শুনেও ভয় না পেয়ে রাজি হয়ে যান নীতা আম্বানি। পারিবারিক বন্ধু এবং চিকিৎসক ফিরুজা পারিখ IVF  পদ্ধতির কথা প্রথম তাদের বলেন এরপর কড়া ওষুধ ও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের চিকিৎসা শুরু হয়।

১৯৯১  সালে নীতা যখন প্রথম গর্ভবতী হওয়ার খবর পেয়েছিলেন তখন খুশিতে আত্মহারা হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সেই খুশি দ্বিগুন হয়ে উঠেছিল যখন যমজ সন্তানের জন্ম দেন নীতা আম্বানি। তার যমজ দুই সন্তান ঈশা আম্বানি ও আকাশ আম্বানি। ওজন  ৪৭ কেজি থেকে বেড়ে হয়েছিল ৯০ কেজি। এরপর ১৯৯৫ সালে দ্বিতীয়বার মা হন নীতা আম্বানি। তখন তাদের দ্বিতীয় ছেলে অনন্ত আম্বানির জন্ম হয়।