আত্মহত্যা নাকি ‘পরিকল্পিত খুন’? সুশান্তের মৃত্যুতে নয়া মোড়

আত্মহত্যা নাকি ‘পরিকল্পিত খুন’ সুশান্তের মৃত্যুতে নয়া মোড়

তার শেষ মুভি তে তিনি ম্যাসেজ দিয়েছিলেন-মৃত্যুটা কোন সমস্যার সমাধান নয়! অথচ বাস্তব জীবনে নিজেই সেটা মেনে চলতে পারলেন না! অভিনয়ের অসম্ভব দক্ষতা, পারদর্শিতা থাকা সত্ত্বেও নিজের অফুরন্ত প্রতিভার বিকাশ না ঘটিয়েই তিনি চলে গেলেন। তিনি কেদারনাথের অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত।

লাখলাখ মানুষের হার্ট থ্রব হওয়া এই মানুষটি বাস্তব জীবনে কি সত্যিই এতটা নিঃসঙ্গ ছিলেন? যে তাকে আত্মহত্যার মতো চূড়ান্ত পথ বেছে নিতে হলো? হ্যাঁ তিনি ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন। কিন্তু ডিপ্রেশনে তো প্রতিটি মানুষই কখনও না কখনও ভোগেন।তাই বলে আত্মহত্যা করবেন?

সুশান্ত সিং রাজপুত এর মৃত্যুর পর থেকেই নেট দুনিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে তাকে ঘিরে নানা রকমের আলোচনা। কেউ ইতিবাচকভাবে আলোচনা করছেন। কেউ আবার চরম ঘৃণ্য মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন সুশান্ত সিং রাজপুতের প্রাণহীন দেহের ছবি ট্রোলড করে! অনেকে আবার সন্দেহ প্রকাশ করছেন যে এটা সত্যি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত খুন? কারণ আত্মহত্যা করলে গলায় ওরকম লাল গোল দাগ সচরাচর হয় না!

উল্লেখ্য সুশান্তের মৃত্যুর পর তার বাবা কৃষ্ণ কুমার সিংহ গতকাল রাতেই মুম্বাইয়ে এসেছেন। সুশান্ত যে এরকম চরম পরিনতি বেছে নিতে চলেছেন তার আঁচ তার পরিবারের কেউ পাননি শনিবারের রাত অবধি। এক সাক্ষাৎকারে মামার বিস্ফোরক দাবি, “ঘরের ছেলে আত্মহত্যা করতেই পারে না! ঘর থেকেও কোনও স্যুইসাইড নোট মেলেনি। কেউ পরিকল্পিত ভাবে খুন করেছে তাঁকে। সিবিআই-এর কাছে তাই তাঁর আর্জি, ভাল করে তদন্ত করুক গোয়েন্দা সংস্থা। তাহলেই বেরিয়ে আসবে আসল তথ্য।”

পাটনার রাজীবনগরের বাড়িতে সুশান্তের বাবা একা থাকেন। সেখানে দীর্ঘদিন ধরেই তার বাবাকে দেখাশুনা করে লক্ষ্মী নামে একজন কেয়ারটেকার। তিনি বলেন,”বেশিরভাগ দিনই বাবা ও ছেলের মধ্যে ফোনে কথা হতো। কিন্তু সুশান্তের মধ্যে কখনোই এমন কিছু দেখিনি যে মনে হয়েছে সে এই জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ!”তিনিআরো বলেন-“যে সুশান্ত সবসময় অন্যকে উৎসাহ জাগাতো! সেই ছেলেটিই নিজেকে শেষ করে দিল!এটা বিশ্বাস করা যাচ্ছে না!”

রাজীনগরের প্রতিবেশী অন্য একজন তরুণী বললেন-” বেশ কয়েকদিন আগে একবার গ্রামের বাড়ি আসে সুশান্ত।তখন তার সাথে দেখা হয়েছিল সুশান্তের মধ্যে সবসময় একটা পজিটিভিটি লক্ষ্য করতাম।ও যে আত্মহত্যা করেছে এটা ভাবাই যাচ্ছেনা। বারবার মনে প্রশ্ন আসছে কেন এমনটা করল?”

সেখানকার প্রাক্তন সাংসদ লাভলী আনন্দ সম্পর্কে সুশান্তের দুঃসম্পর্কের আত্মীয়। তিনি বললেন-“এই বিষয়টি নিয়ে ভালোমতো তদন্ত হওয়া দরকার।কিছুদিন আগেই সুশান্তের ম্যানেজার আত্মহত্যা করে।এবার আমাদের ঘরের ছেলেটাও আত্মহত্যা করলো। এটা একটা কাকতালীয় ব্যাপার বিশ্বাসই করা যাচ্ছে না।”

ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে নতুন তথ্য। দিন কয়েক ধরেই বান্ধবীর সঙ্গে ঝামেলা চলছিল অভিনেতার। নভেম্বরেই বিয়ে করার কথা ছিল তাঁর সঙ্গে। এমনকী লকডাউনের সময়ও বান্ধবীর সঙ্গেই থাকছিলেন সুশান্ত। কিন্তু পরে মনোমালিন্য হওয়ায় অন্যত্র চলে যান। মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চের কাছে রয়েছে সুশান্তের ২টি মোবাইল এবং ল্যাপটপ। সেই সূত্র ধরেই কি জানতে পারা গেল বান্ধবীর সঙ্গে ঝামেলার কথা? উঠছে প্রশ্ন!

ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, ঝগড়া মেটানোর জন্য ফোন করা হলেও উত্তর দিচ্ছিলেন না অভিনেতার বান্ধবী। এমনকী, সুশান্তের ব্যবহারে অদ্ভূত পরিবর্তন লক্ষ্য করেছিলেন অভিনেতার দিদিও। আত্মহত্যার নেপথ্যের কারণ কি এটাই? ক্রমশ জটিল হচ্ছে রহস্য। এখন প্রশ্ন, সেই বান্ধবীটিই বা কে? সেকথা অবশ্য খোলসা করতে চাননি তাঁদের কেউই!

বলিপাড়ায় গুঞ্জন সুশান্ত নাকি রিয়া চক্রবর্তীর প্রেমে পড়েছেন। লিভ-ইন করছিলেন বলেও শোনা যায়। যদিও সুশান্ত কিংবা রিয়ার কেউই তাঁদের সম্পর্কের কথা অফিশিয়ালি ঘোষণা করেননি কখনও। এই প্রসঙ্গে কোনও রকম মন্তব্য করেননি রিয়া। উপরন্তু সোশ্যাল মিডিয়াতে শোকবার্তাও জ্ঞাপন করেননি। অন্যদিকে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, মহেশ ভাট নাকি রিয়াকে এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছিলেন!

গত ৬ মাস ধরেই ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন। জুহুর এক হাসপাতালে নিয়মিত দেখাতেও যেতেন। ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, বান্ধবীর সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণেই নাকি শেষের দিকে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন সুশান্ত। তাঁর ব্যবহারে বেশ পরিবর্তনও লক্ষ্য করেছিলেন বন্ধুরা। মৃত্যুর আগে মাদক সেবনও করেননি, বলছে অভিনেতার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট। অতএব, ঠান্ডা মাথায় পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন :- ১৩ বলিউড তারকা যারা মানসিক অবসাদে আত্মহত্যা করেছেন

যদিও প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে আত্মহত্যাই করেছেন সুশান্ত। এর মধ্যেই সোমবার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসে পুলিশের। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, গলায় ফাঁস লাগানোর কারণে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে সুশান্তের। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে যা-ই থাকুক সুশান্তের মৃত্যুর তদন্ত নিয়ে কোনও রকম ফাঁক রাখতে চাইছে না মুম্বই পুলিশ। সে কারণেই তাঁর ভিসেরার নমুনা সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে রাসায়নিক বিশ্লেষণের জন্য। পুলিশ সূত্রে খবর, সেই নমুনা ফরেন্সিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হবে।