পিস্তল ছেড়ে খুন্তি ধরলো শান্টু, শ্বশুরের জন্য একের পর এক ভাজলো মাছ

“খেলা ঘর”র খেলা এবার জমে উঠছে! রাগী শশুর মশাইকে জব্দ করার এবং তার মন জিতে নেওয়ার প্রচেষ্টায় কোনো কার্পণ্য করছে না “শান্টু”। “স্টার জলসা”র অন্যতম জনপ্রিয় ধারাবাহিকটি ক্রমেই আরও বেশি করে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে দর্শকের। “শান্টু-পূর্ণা”র বিবাহ পর্ব সম্পন্ন হতে না হতেই ধারাবাহিকের মোড় ঘুরেছে অন্যদিকে। যা দর্শককে কিন্তু ধারাবাহিকের প্রতি আরও বেশি অনুরক্ত করে তুলছে।

“খেলাঘর” ধারাবাহিকের গল্পের প্লট অন্যান্য ধারাবাহিকের তুলনায় বেশ অন্যরকম। বড়লোক বাড়ির শিক্ষিতা, সুন্দরী “পূর্ণা” কিভাবে একটি সমাজবিরোধী গুন্ডাকে আবারও সমাজের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনে, সেই নিয়েই প্রতিদিন সন্ধ্যে ৬ টা থেকে ৬.৩০ টার স্লটে রমরমিয়ে এগিয়ে চলেছে ধারাবাহিকের গল্প। প্রথম থেকেই ধারাবাহিকটি কিন্তু দর্শক বেশ পছন্দ করেছেন। টিআরপি রেটের নিরিখেও কিন্তু “খেলাঘর” খুব একটা পিছিয়ে নেই।

“শান্টু” ওরফে “দিগ্বিজয় রায়” এর স্ত্রী হয়ে “পূর্ণা” থাকে অন্ধকার জগত থেকে আলোর জগতে আনতে চায়। সমাজ এবং পরিস্থিতির চাপে পড়ে, রাজনীতির ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয়েছিল কলেজের প্রথম বর্ষের মেধাবী ছাত্র “দ্বিগ্বিজয় রায়”কে। একটি খুনের ঘটনা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তাকে “শান্টু” গুন্ডা করে তোলে। সেই “শান্টু”কে আবারো “দিগ্বিজয় রায়” করে তোলার লড়াই লড়ছে “পূর্ণা”।

প্রথমে ঘটনাচক্রে “শান্টু-পূর্ণা”র বিয়ে হলেও সম্প্রতি ধুমধাম করে সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান মেনে দুজনের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। সমস্ত ষড়যন্ত্র কাটিয়ে, বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে দুজনের মিলন হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে শান্টুর উপর বেশ ক্ষুব্ধ “পূর্ণা”র বাবা তথা হাইকোর্টের বিচারপতি “বরুণ চ্যাটার্জী”! শান্টুকে প্রথম থেকেই জামাই হিসেবে একদম পছন্দ ছিল না তার। কিন্তু মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে শেষমেষ বিয়েতে রাজি হতে হয়েছিল তাকে।

জামাই হয়ে “শান্টু” ‌সম্প্রতি দ্বিরাগমনে এসেছে তার শ্বশুরবাড়িতে। শশুরবাড়ির অন্যান্য সদস্যরা তার পক্ষে থাকলেও শ্বশুরমশাই কিন্তু তাকে বাড়িতে ঢুকতে দিতেই প্রথমে রাজি ছিলেন না। তাতে অবশ্য থোড়াই কেয়ার “শান্টু”। কথার মারপ্যাঁচে শশুরমশাইকে প্যাঁচে ফেলে শ্বশুর বাড়িতে প্রবেশ করেছে “শান্টু”। তবে আসল চমক ছিল বাকি।

শশুর মশাইকে খুশি করার জন্য এবার “শান্টু” হলো ভজহরি মান্না! দিরাগমনে শ্বশুরবাড়িতে এসে রাগী শ্বশুর মশাইকে রান্না করে খাওয়াবে “শান্টু”! কথায় আছে না “মনের ঘরে প্রবেশ করার জন্য পেটের রাস্তা ধরতে হয়”! “শান্টু” এখন সেই পথ ধরেছে। তাই রীতিমতো হাতা খুন্তি নিয়ে রান্নাঘরে  শ্যালিকাদের সঙ্গে হাজির হয়েছে আমাদের “শান্টু গুন্ডা”!

শ্যালিকারা তাকে রান্নার কাজে সহায়তা করছে। আর “শান্টু”ও নিজেকে ভজহরি মান্না ভেবে মাছ ভাজতে শুরু করেছে! শশুর মশাইকে আজ মাছ রান্না করেই খাওয়াবে সে। এই তার চ্যালেঞ্জ! সাধারণত দ্বিরাগমনে মাছের মুড়ো’টা জামাইয়ের পাতেই পড়ে। তবে “শান্টু” রাগী শ্বশুরের মাথা ঠান্ডা করার জন্য মাছ রান্না করে সেই মাছের মুড়োটা শ্বশুর মশাইকেই খাওয়াতে চায়। রান্নাঘরে এখন তাই রান্না হচ্ছে জোরকদমে।

এখন “শান্টু”র হাতের রান্না খেয়ে শ্বশুরমশাইয়ের রাগ ঠান্ডা হয় না আরও চড়ে যায় তা আগামী পর্বেই জানা যাবে। দর্শকেরা কিন্তু গল্পের এই মোড় বেশ উপভোগ করছেন। যাদের শ্বশুরমশাই রাগী, তারাও কার্যত “শান্টু”র দেখানো পথ অবলম্বন করার পরিকল্পনা করছেন। আপাতত হাসি-মজার মাঝে শ্বশুরবাড়িতে “শান্টু”র দ্বিরাগমন পর্ব বেশ ভালোই কাটছে।