এই ৫টি নিয়ম মেনে ১১৭ দিন পর শুরু হল ক্রিকেট

করোনা আবহে বিশ্ব জুড়ে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল ক্রীড়া জগৎ। মার্চ মাস থেকেই বন্ধ হয়ে যায় ক্রিকেট। কিন্তু আবার ১১৭ দিন পর শুরু হলো ২২ গজের খেলা।  বুধবার আবার লম্বা সময়ের পর সাউদাম্পটনে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট ম্যাচ খেলতে নামবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ইংল্যান্ডে পৌঁছানোর পর টানা ২ দিন কয়ারিন্টিনে থাকে তারপরই শুরু হয় ম্যাচের প্রস্তুতি। তবে আগের মতন সাধারণ নিয়ম অনুসারে এই খেলা হবেনা। বর্তমান পরিস্থিতিতে খেলা হলেও মানতে হবে অনেক নিয়ম।

আইসিসির কাছে সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার ও ম্যাচ অফিসিয়ালদের সুরক্ষা। সেই দিকে নজর রেখেই একাধিক নিয়ম লাগু করা হয়েছে যা মানতে হবে উভয় দলকেই।

প্রথম যে পদক্ষেপ আইসিসির তরফে নেওয়া হয়েছে, তা হল সফররত দলকে কোয়ারেন্টাইনে থাকা। জুন মাসেই ইংল্যান্ডে পৌঁছে যায় জেসন হোল্ডারের নেতৃত্বাধীন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তারপর ২১ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয় ক্রিকেটারদের। সবার নমুনা পরীক্ষা করে দেখা হয়।

ম্যাচ চলাকালীন যে যে নিয়ম মানতে হবে

১. কোভিড ১৯ রিপ্লেসমেন্ট :- ম্যাচে রিপ্লেসমেন্ট এর বিষয়টি বছর খানেক আগেই শুরু হয়। ম্যাচ চলাকালীন কোনো খেলোয়াড়ের আঘাত লাগলে সেক্ষেত্রে চলতি ম্যাচের মধ্যেই সেই খেলোয়াড়কে বদলি করে তার সাবস্টিটিউট হিসেবে অন্য কোনো খেলোয়াড়কে মাঠে নামানো যায়। এবার ম্যাচে কোভিড রিপ্লেসমেন্ট শুরু হলো। বিষয়টা খানিকটা একই। ম্যাচ চলাকালীন যদি কোনো খেলোয়াড়ের করোনা সংক্রমন ধরা পড়ে, সেক্ষেত্রে তাকে রিপ্লেস করে অন্য খেলোয়াড়কে মাঠে নামার অনুমতি দেওয়া হবে।

২. বলে থুতু :- বল করার আগে বোলাররা বলে লালা লাগিয়ে নেন ভালো সুইং এবং রিভার্স সুইং পাওয়ার জন্য। কিন্তু এখন থেকে বলে ঘাম ও লালা লাগানো নিষিদ্ধ করলো আইসিসি।আম্পায়ার এবং ম্যাচের রেফারিকে এই বিষয় বিশেষ নজর রাখতে বলা হয়েছে।

যদি ম্যাচ চলাকালীন অভ্যাসবশত দেখা যায় কেউ বলে লালা বা ঘাম লাগিয়েছেন তবে তাকে ওয়ার্নিং দেবেন তারা। যদি দ্বিতীয়বার এই ভুল হয়ে যায় তবে বিপক্ষের দলকে ৫ রান পেনাল্টি হিসেবে দেওয়া হবে। কোনও বলে লালা লাগানো হলে সেই বল ভালোভাবে পরিষ্কার করে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলের শাইন বজায় রাখার জন্য টাওয়াল বা কাপড় ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

৩. বাইরের আম্পায়ার :- ক্রিকেটের ক্ষেত্রে আম্পায়ারের নিরপেক্ষতা সবথেকে বেশী প্রয়োজন। সেই কারণেই আগে যখন দুই দলের মধ্যে ম্যাচ হতো তখন দুই দল বাদে অন্য কোনো দেশের আম্পায়ারকে নিযুক্ত করা হতো। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সম্ভব হবেনা। নিয়মের সম্পূর্ণ পরিবর্তন ঘটানো হলো। বাইরের দেশ থেকে আম্পায়ারকে আনলে রোগের ঝুকি বৃদ্ধি পাবে। সেই কারণে বাইরে থেকে আম্পায়ার আনা যাবেনা। যে দেশে ম্যাচ হবে সেই দেশের আম্পায়ারকে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে।

৪. অতিরিক্ত ডিআরএস :- ঘোরোয়া আম্পায়ারদের অভিজ্ঞতা সাধারণত বাইরের আম্পায়ারদের থেকে কম হয়। সেই কারণেই ম্যাচে আরও অতিরিক্ত ডিআরএস ব্যাবহারের অনুমতি দিলো আইসিসি। আগে প্রতি ম্যাচে আম্পায়ারের সাথে ২ জন  ডিআরএস থাকতো কিন্তু এখন আরও অতিরিক্ত ১ জন অর্থাৎ ৩ জন ডিআরএস থাকতে পারবে।

৫. অতিরিক্ত লোগো :- জার্সিতে পূর্বের থেকে অতিরিক্ত লোগো ব্যবহার করা যাবে। সেই লোগোর মাপ হবে ৩২ বর্গইঞ্চির কম এবং লোগো তে থাকবে করোনা সতর্কতা। আগে তিনটি লোগো ব্যাবহার করা যেত, সেই সংখ্যা এখন বেড়ে ৪ টি হয়েছে।