নতুন শিক্ষানীতিতে কী কী বদল হল, দেখে নিন একনজরে

সম্প্রতি আমাদের সামনে এসেছে কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন শিক্ষানীতির ধারণা। নতুন শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার তিনটি মূল স্তর অর্থাৎ প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এর পরিবর্তন ঘটতে চলেছে যার ফলে তর্ক বিতর্ক হচ্ছে সব স্তরেই।

সাধারণত কয়েক দশক পর পরই দেশের শিক্ষা নীতির পরিবর্তন হয়। ১৯৬৮ সালে ইন্দিরা গান্ধীর সময়কালীন শিক্ষা নীতির পরে রাজীব গান্ধী ১৯৮৬ সালে নতুন শিক্ষানীতি আনেন যা নরসিংহ রাওয়ের সময় (১৯৯২) সালে পরিবর্তিত হয়। এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রধানমন্ত্রিত্ব কালীন সময় নতুন শিক্ষানীতি প্রস্তাবিত হলো।

বিশেষজ্ঞদের মতে এই নতুন শিক্ষা নীতির ফলে দেশের পড়ুয়াদের বিদেশে গিয়ে পড়াশোনা করতে সুবিধা হবে।এই নতুন শিক্ষানীতিতে স্নাতক স্তরের আগেই ৫ বছরের মাল্টিডিসিপ্লিনারি কোর্স পড়তে হবে পড়ুয়াদের।

নতুন শিক্ষা নীতিতে কী কী বদল হল

মনে করা হচ্ছে, এর ফলে পড়ুয়াদের বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় অনেক বেশী বিকল্প বাড়বে। শুধু তাই নয় মনে করা হচ্ছে বোর্ডের পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের চাপ কমবে। নতুন শিক্ষানীতি তে একদিকে যেমন সিলেবাসের চাপ কমবে তেমনই শিক্ষার্থীদের ধারণা পরিষ্কার করার দিকে জোর দেওয়া হবে।

শিক্ষার প্যাটার্ন পরিবর্তন

এর আগের শেষ শিক্ষানীতি অনুসারে স্কুল শিক্ষার প্যাটার্ন ছিল ১০+২  (মাধ্যমিক+ উচ্চ মাধ্যমিক) কিন্তু এবার সেই প্যাটার্ন বদলে হবে ৫+৩+৩+৪। বাচ্চাদের শিক্ষার প্রথম পাঁচ বছর ( ৩ থেকে ৮) প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা চলবে। পরবর্তী তিন বছর (৮ থেকে ১১) প্রিপেরাটরি স্টেজের শিক্ষা দেওয়া হবে শিক্ষার্থীদের। তার পরের তিন বছর (১১ থেকে ১৪) শিক্ষার মধ্যবর্তী পর্যায় বা মিডল স্টেজ চলবে। এর পরবর্তী চার বছর (১৪ থেকে ১৮) স্কুল শিক্ষার শেষ ধাপের পঠনপাঠন চলবে।

প্রী স্কুলিং সরকারের অধীনে

প্রী স্কুলিং এর বিষয়টি আগে স্কুলের ওপর নির্ভরশীল ছিল কিন্তু এখন সম্পুর্ণ বিষয়টিই সরকারের অধীনে থাকবে, স্কুলে মিড ডে মিলের ব্যবস্থা করা হবে।

বাধ্যতামূলক মাতৃভাষা

নতুন শিক্ষানীতিতে বলা হয়েছে সব মাধ্যমের স্কুলেই শুরু থেকে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত মাতৃভাষা পড়া বাধ্যতামূলক হবে। মা বাবার দুজনের ভাষা দুরকম হলে বাচ্চাকে দুরকম ভাষাই শেখানোর চেষ্টা করতে হবে।

স্কুল জীবন থেকে গবেষণার সুযোগ

নয়া শিক্ষানীতি অনুযায়ী স্কুল জীবনের শেষ চার বছরের সেকেন্ডারি কোর্স এ পড়ুয়ারা গবেষণার সুযোগ পাবে।  এমনভাবে এই ব্যবস্থা করা হবে যাতে যাতে স্নাতক স্তরে পড়ুয়াদের কাছে বিষয়টির প্রতি যথেষ্ট জ্ঞান থাকে এবং স্নাতক স্তরে পড়ুয়ারা সরাসরি রিসার্চ প্রোগ্রাম শুরু করার সুযোগ পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে এর ফলে শিক্ষার একমুখী ধারা ভাঙতে শুরু করবে।

এম ফিলের গুরুত্ব হ্রাস

বর্তমানে পিএইচডি করার জন্য এম ফিল করতে হয়। কিন্তু নতুন শিক্ষা নীতিতে এই এম ফিলের সার্বিক গুরুত্ব কমবে এবং পড়ুয়ারা মাস্টার্সের পরে সরাসরি পিএইচডি শুরু করতে পারবে।

সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া

তবে এই পদ্ধতি বেশ সময়সাপেক্ষ। অনেকগুলি ধাপ পেরোতে হবে এই শিক্ষানীতি প্রয়োগ করতে হলে। প্রতিটি রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রক যখন মনে করবে যে তাদের রাজ্যে এই কাঠামো প্রয়োগের যথেষ্ট সুবিধা আছে তখনই এই নীতি প্রয়োগ করা হবে।ধারণা করা হচ্ছে এই সম্পূর্ণ বিষয়টি চালু হবে ২০৪০ সালের মধ্যে। এই নীতি চালু করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ফান্ডিং প্রয়োজন।

নতুন শিক্ষানীতির প্রতিটি বিষয় ভিত্তিক কমিটি ঠিক করবে এই শিক্ষানীতি লাগু করতে প্রতি বছর কি কি পদক্ষেপ নিতে হবে। এই কমিটি গুলিতে শিক্ষা দফতর, মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক এবং স্কুল বোর্ডের মতন সরকারি প্রতিনিধিরা থাকবেন। সরকারি তরফে দাবি শিক্ষার পরিকাঠামো এইভাবে গড়ে উঠবে যাতে বিশ্বের শীর্ষ ১০০ টি বিশ্ববিদ্যালয় এই দেশেই নিজেদের ক্যাম্পাস গড়তে পারে।