অশ্লীলতায় ভরা রাজা-মাম্পির ফুলশয্যা, ধিক্কার জানাচ্ছে নেটমাধ্যম

নেট মাধ্যমের আলোচনার হট টপিক এখন রাজা-মাম্পির (Raja-Mampi) ফুলশয্যা! জনপ্রিয় এই জুটিকে কাছাকাছি (Intimate Scene) আসতে দেখে একদল নেটিজেন তো বেজায় খুশি। ফুলশয্যার রাতে নবদম্পতি প্রেম, গল্প-আড্ডা, আদর-সোহাগে ভরা ভালোবাসার বন্যায় ভেসেছেন দর্শকও। রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জি (Rahul Arunodoy Banerjee) এবং রুকমা রায়ের (Rooqma Roy) এই কেমিস্ট্রি যেন প্রত্যাশিতই ছিল। অন্তত রাম্পি জুটির সমর্থকদের চোখে তা মোটেই দৃষ্টিকটু বলে মনে হয়নি।

রাজা-মাম্পি জুটির সমর্থকরা বরং তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করেছেন এই দৃশ্য। তবে গোল বেঁধেছে তাদের নিয়ে যারা পরিবারের সকল সদস্যদের সঙ্গে বসে ধারাবাহিকের এই পর্ব দেখছিলেন। আসলে এই সমাজ এখনও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি দেখতে অভ্যস্ত নয়। তাই অস্বস্তিটা তাদেরই বেশি। এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা-পর্যালোচনা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। মজার মজার মিমে ভরে উঠেছে নেট মাধ্যম। কোথাও আবার নেটিজেন রীতিমতো খড়গহস্ত!

সমালোচকেরা রাম্পির ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের কিছু ছবি সোশ্যাল মাধ্যমে আপলোড করে মিম বানিয়ে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘পরিবারের সঙ্গে স্টার জলসা দেখতে বসেছিলাম…!’ কেউ জানিয়েছেন, তিনি মায়ের সঙ্গে বসে দেখছিলেন। এরপর যে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়ে গিয়েছিলেন তিনি, তা আর আলাদা করে বলে দেওয়ার অপেক্ষা রাখে না। জনৈক নেটিজেনের মন্তব্য, ‘হাসতেও পারছিলাম না, দেখতেও পারছিলাম না!’

তবে কেউ কেউ আবার রসিকতা করে হলেও রাজা-মাম্পির অন্তরঙ্গ মুহূর্তের দৃশ্যের পক্ষেই সওয়াল করেছেন। তাদের দাবি, বর্তমান যুগের বয়স্ক প্রজন্ম আসলে ভক্তিমূলক ধারাবাহিক ছেড়ে এই ধরণের ঘনিষ্ঠ প্রেমাচারের দৃশ্য দেখতেই বেশি পছন্দ করছেন। অতএব চলুক এই দৃশ্য। এই নিয়ে বিতর্ক যখন ক্রমশ দানা বাঁধছে তখন মুখ খুললেন রাজা ওরফে রাহুল ব্যানার্জি। ঠিক কী বললেন তিনি? আসুন জেনে নেওয়া যাক তার কথা থেকেই।

 রাহুলের বক্তব্য, ‘‘সন্দীপ্তা সেনের সঙ্গে ‘তুমি আসবে বলে’ ধারাবাহিকে এর থেকেও সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করেছি। এর আগেও প্রচুর ধারাবাহিকে এই ধরনের দৃশ্য দেখানো হয়েছে। সুতরাং, এ ভাবে ‘গেল গেল’ রব তোলার কিচ্ছু নেই!’’ তিনি জানিয়েছেন, তার কাছে এমন অন্তত ৮০ টা ইতিবাচক পোস্ট রয়েছে, যেখানে তাদের এই দৃশ্যকে সমর্থন জানানো হয়েছে। দর্শক তাদের অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন।

রাহুলের মতে, অন্তরঙ্গ দৃশ্য দেখানোর বদলে যদি আদ্দিকালের বাংলা সিনেমার মতো দুটি ফুলকে কাছাকাছি আনার দৃশ্য দেখিয়ে দেওয়া হতো, তাহলে তা বেশী হাস্যকর মনে হতো। এ সম্পর্কে বিশ্ব বিখ্যাত চিত্রকর পাবলো পিকাসোর একটি বেশ প্রাসঙ্গিক বক্তব্য, নগ্ন নারীর চেয়ে আংশিক নগ্নিকা বেশি অশ্লীল। সেই বক্তব্য তুলে ধরে রাহুলের মন্তব্য, ‘‘গালে-কপালে চুম্বন আর জড়িয়ে ধরা- এই ভঙ্গিগুলো দিয়েই আমরা দৃশ্যকল্প তৈরির চেষ্টা করেছি।’’ অতএব এতে সমালোচনা কিংবা বিতর্কের বিষয়বস্তু খুঁজে পাচ্ছেন না রাহুল।