আরও এক দফা লকডাউনের ইঙ্গিত, ১৮মে থেকে মিলবে আরও কিছু ছাড়

কোরোনা ভাইরাস মোকাবিলায় গত ২৩ মার্চ থেকে দেশ জুড়ে চলছে দফায় দফায় লক ডাউন। গত ৪ মে থেকে দেশজুড়ে তৃতীয় দফার লক ডাউন শুরু হয়েছে যা শেষ হওয়ার কথা আগামী ১৭ মে। কিন্তু দেশের কোরোনা পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যাবে দেশে কোরোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ৭০ হাজার।

এমন অবস্থায় পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে সেই নিয়ে ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী দের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই কনফারেন্সের পর ইঙ্গিত পাওয়া গেল যে দেশ জুড়ে চলতে থাকা লক ডাউন ১৭ মে এর পড়েও বাড়তে পারে। রাজ্যগুলির পরিস্থিতি কিরকম, রাজ্যগুলির লক ডাউন বিষয় কি মত তা ১৫ মের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীদের লিখিত ভাবে জানাতে বলা হয়েছে।

তবে তৃতীয়ত দফার পর চতুর্থ দফায় লক ডাউন বাড়লেও বেশ কিছু ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিতও দিলেন প্রধানমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সের পড়ে তিনি জানান যে যেভাবে প্রথম দফার লক ডাউনের ক্ষেত্রে নাওয়া পদক্ষেপ দ্বিতীয় দফায় প্রয়োজন হয়নি তেমনই তৃতীয় ডফার লক ডাউনে যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে তার প্রয়োজন চতুর্থ দফার লক ডাউনের ক্ষেত্রে হবেনা। এর থেকে বোঝাই যাচ্ছে দেশের ধ্বসে যাওয়া অর্থনীতিকে উজ্জীবিত করতে দেশের অর্থনৈতিক কাজকর্ম যতটা সম্ভব সচল করতে চাইছে কেন্দ্র।

ভিডিও কনফারেন্সে মুখ্যমন্ত্রী রা দাবি জানান যে কোন রাজ্যে কোন অঞ্চল বা কোন জেলা রেড জোন এর মধ্যে পড়বে তা ঠিক করার অধিকার রাজ্যেকে দাওয়া হোক। কোন অঞ্চলে কি কি অর্থনৈতিক কাজ শুরু হবে এবং কোথায় হবেনা তার সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের বদলে রাজ্য নিক। কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সহ অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন কে গোটা জেলার বদলে কোনো একটি অঞ্চলকে কন্টেনমেন্ট জোন হিসেবে চিহ্নিত করলেই হবে নকি সেই সিদ্ধান্তও রাজ্য গুলোকেই নিতে দেওয়া হোক। মুখ্যমন্ত্রীদের দাবির মুখে পড়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মুখ্যমন্ত্রী দের অনুরোধ করেন যে লক ডাউন চলাকালীন ও পরবর্তী সময় রাজ্যগুলির কি চাইছে তার নীল নক্সা ১৫ ই মে এর মধ্যেই যেন কেন্দ্রকে দেয়।

বৈঠকে কিছু রাজ্য লক ডাউন জারি রাখার পক্ষে নিজের মত জানায়। এই রাজ্যগুলির মধ্যে আছে পঞ্জাব, মহারাষ্ট্র ও অসম নিয়ে চারটি রাজ্য। অন্যদিকে গুজরাট লক ডাউন তুলে দাওয়ার পক্ষে মত জানায়। আবার বেশ কিছু রাজ্য মত জানিয়েছে যে সন্ধ্যে ৭ টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত নাইট কার্ফু জারি করে দাওয়া উচিৎ। অন্যদিকে কেন্দ্র ১২ মে থেকে যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

আরও পড়ুন :- লকডাউনে ঠিক কি কি করা যাবে না, আপনার প্রশ্ন এবং আমাদের উত্তর

এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তামিলনাড়ু ও তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী জানান যে ৩১ মে পর্যন্ত তাদের রাজ্যে ট্রেনের প্রয়োজন নেই। তারা কেন্দ্র সরকারের চালু করা শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন নিয়েও আপত্তি জানান। বাঘেলও দাবি তোলে যে ট্রেন, বিমান, আন্তঃরাজ্য বাস চালুর আগে কেন্দ্রের উচিৎ রাজ্যগুলির সাথে আলোচনা করা। অন্যদিকে মহারাষ্ট্রের উদ্ভব ঠাকরে জরুরি পরিষেবায় নিযুক্ত ব্যাক্তিদের জন্য লোকাল ট্রেন চালু করার দাবি তোলেন।

প্রায় সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীই রাজ্যের জন্য আর্থিক সাহায্য, ছোট-মাঝারি শিল্প থেকে শুরু করে পরিকাঠামো প্রকল্পের জন্য সুরাহা এবং, সুদের হার কমানো এর দাবি তুলেছেন। কৃষিপণ্যের বাজারিকরণের দাবিও তুলেছেন। এমন অবস্থায় কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক রাজস্ব ঘাটতি অনুদান হিসেবে দেশের ১৪টি রাজ্যের জন্য ৬,১৯৫ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে। এই রাজ্যগুলির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ আছে।

আরও পড়ুন :- লকডাউন তুলে নিলে ভারতে মৃতের সংখ্যা কোথায় পৌঁছতে পারে

অন্যদিকে সরকারি সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যার ৫০ শতাংশই দেশের ছয়টি বড় শহর মুম্বই, দিল্লি, আমদাবাদ, চেন্নাই, পুণে ও ইনদওর এর। অন্যদিকে মোট মৃতের সংখ্যা এর ৫৫ শতাংশ এই ছয়টি শহরের।অন্যদিকে অর্থনৈতিক কার্যকলাপ এই শহরগুলিতে অন্যান্য অঞ্চলের থেকে বেশী।অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামলে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী জানান যে অন্যান্য দেশে কোরোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করার ফলে কোরোনা পরবর্তী সময়ে ভারতে পর্যটন শিল্পে লাভ হওয়ার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তাকে কার্যকর করতে হবে।