সাপের মণি আসলে কি ? নাগমণি কল্পনা না বাস্তব ? জানুন নাগমণি রহস্য

বিষাক্ত,সরীসৃপ প্রাণীদের তালিকায় প্রথমেই সাপের কথা মাথায় আসে। সাপ সম্পর্কে জানার আগ্রহ সবার। ছোটবেলায় রূপকথার গল্পে সাপের উজ্জ্বল মণি নিয়ে অনেক পড়েছি আমরা। নাগমণি বললেই ছোটবেলায় পড়া রূপকথার গল্প মনে যায়। স্মৃতির পর্দা জুড়ে সাপ ও সাপের মাথার ঝলমলে রত্ন।এই মণি কেন দেখা যায় না বা কোথায় থাকে এই নিয়েও জল্পনা অনেক রয়েছে।

এই মণি বয়স্ক সাপের মাথায় তৈরি হয় (কমপক্ষে ১০০ বছর)। যদিও সাধারণ সাপ ততদিন বাঁচে না। কারও কারও মতে এটি সাতরাজার ধন। তারা দাবি করেন এই রত্নটি এতই ঝলমলে উজ্জ্বল হয় যে এর আশপাশ অমাবস্যা রাতের অন্ধকারেও আলোকিত হয়ে যায়। এর থেকে আলো ঠিকরে বের হয়।

নাগমনি

কেউ কেউ বিশ্বাস করেন, নাগমণিধারী বিষধর সাপ ‘ইচ্ছাধারী’ অর্থাৎ যখন যেমন ইচ্ছা সেই রূপ ধরতে পারে। এই ‘নাগমণি’র সত্যাসত্য নিয়ে আধুনিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ যাই বলুক- বাস্তবে অনেক মানুষই এতে বিশ্বাস করে। এমন বিশ্বাসও প্রচলিত আছে যে, এই মণি যার কাছে থাকে তার ওপর বিষ বা বিষাক্ত কিছু প্রভাব ফেলতে পারে না এবং তিনি নীরোগ থাকেন।

সাপের মাথায় কোনও মণি থাকে না। থাকলে কখনও না কখনও কারও না কারও মাথায় সেটা দেখা যেত। এমনকী, নিজে না দেখলেও অন্য কেউ না কেউ দেখত। তাই পুরো বিষয়টা একটা মিথ। তাহলে সাপের মণি যাকে বলা হয়, সেটা কী?

নাগমণি কল্পনা না বাস্তব ?

সাপের মণি আসলে কাল্পনিক বিষয়। এটি  বিষেরই জমা একটি অংশ। গবেষনায় দেখা গেছে, বিষধর সাপ যখন বৃদ্ধ হয়ে যায় তখন তার বিষথলিটি শুকিয়ে ক্রমশ পাথরে পরিণত হয়। এর অবস্থান হয় সাপের মাথার পেছন দিকে। অনেক সাপুরিয়া তা সংগ্রহ করে জরি-বটির কাজে ব্যবহার করে।

আমরা জানি, সাপের বিষ থেকে দুর্লভ আর কঠিন রোগের ওষুধ তৈরি হয়। তাই শুকিয়ে পাথর হয়ে যাওয়া সেই বিষেরও কিছু রাসায়নিক তথা ঔষধি প্রয়োগ থাকতে পারে। এটাকে ভিত্তি করে সাপুড়েরা সাধারণ মানুষকে বোকা বানায়।

গবেষণায় এটাও প্রমাণিত হয়েছে যে এই পাথর আলো ছড়ায় না এমনকি এর কোনো উজ্জ্বলতাও নেই। যেহেতু মাথায় থাকে তাই সকলের ধারণা এটি মণি।