লক্ষ্ণী পুজোকে কোজাগরী বলা হয় কেন, জেনে নিন আসল কারণ

উমার কৈলাশে ফেরার পর থেকেই ঘরে ঘরে শুরু হয়ে গেছে মা লক্ষ্মীর (Devi Laxmi) আরাধনার প্রস্তুতি। আগামী ৩০ অক্টোবর কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো। দেবীর কৈলাস গমনের পড়ে আশ্বিন মাসের শেষ পূর্ণিমাকে কোজাগরী পূর্ণিমা বলা হয়। জানেন কি এই “কোজাগরী” শব্দের অর্থ কী?

কোজাগরী শব্দের উৎপত্তি ‘কো জাগতী’ থেকে যার আক্ষরিক অর্থ “কে জেগে আছো?”। হিন্দু পুরাণ মতে এই কোজাগরী পূর্ণিমার দিন দেবী লক্ষ্মী মর্ত্যে আসেন এবং ভক্তদের আশীর্বাদ দেন। এই তিথিতে যে ব্যাক্তি সারারাত জেগে থেকে দেবীর আরাধনা করেন দেবী তার বাড়িতেই প্রবেশ করেন এবং সুখ সমৃদ্ধি ও শান্তি দেন।

বলা হয় এই তিথিতে বাড়ির দরজা সারারাত খোলা রাখতে হয় এবং জেগে থাকতে হয়।যার বাড়ির দরজা বন্ধ থাকে তার বাড়িতে দেবী প্রবেশ করেন না এবং সেখান থেকে ফিরে চলে যান।এই তিথিতে পুজোর বিশেষত্ব হলো সারারাত জেগে মা লক্ষ্মীর আরাধনা করা।

এই তিথি নিয়ে অনেক রকম ধারণা প্রচলিত আছে। প্রচলিত এক ধারণা অনুসারে এই রাতে যে ব্যাক্তি সারারাত জেগে পাশা খেলেন তাকে মা লক্ষ্মী ধন সম্পত্তি দান করেন। আবার অনেকে মনে করেন এই দিনে অন্যের বাগান থেকে কোনরকম ফল বা শস্য চুরি করলে মা লক্ষ্মী আশীর্বাদ করেন।

এই কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর দিন নানান রূপে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়। অনেকেই এইদিন আড়ি লক্ষ্মী রূপে দেবীর পুজো করেন। এক্ষেত্রে  ধান ভর্তি ঝুড়ির ওপর কাঠের লম্বা দুটি সিঁদূর কৌটো রাখা হয় এবং তাকে লাল চেলিতে মুড়ে মা লক্ষ্মী রূপে পুজো করা হয়।অনেকে আবার বানিজ্যিক নৌকার প্রতীক হিসেবে লক্ষ্মী পুজোতে সপ্ত তরীর মাধ্যমে লক্ষ্মী আরাধনা করেন।

এই রীতিতে মা লক্ষ্মী কে কলার পেটোর তৈরি সাতটি নৌকা অর্পন করা হয়।অনেকে এই নৌকায়  টাকা, শস্য, হরিতকি, কড়ি, হলুদ রাখেন।পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে লক্ষ্মীসরা (যেমন ঢাকাই সরা, ফরিদপুরি সরা, সুরেশ্বরী সরা ও শান্তিপুরি সরা) আঁকা হয়। এই পট চিত্রের মাধ্যমেও লক্ষ্মী পুজো করেন অনেকে।

আরও পড়ুন : বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীপূজা করা হয় কেন, মা লক্ষ্মীর কৃপা লাভের উপায়

অঞ্চল ভেদে এই চিত্র বিভিন্ন ধরনের হয়।কথাও শুধু দেবী লক্ষ্মী, কোথাও জয়া ও বিজয়া-সহ লক্ষ্মীকে আঁকা হয়। আবার সুরেশ্বরী সরায় মহিষাসুরমর্দিনীর চিত্রের নীচের দিকে বাহন পেঁচা সহ মা লক্ষ্মীকে আঁকা হয়। বাংলার অনেক স্থানে আবার কলার বের ও লক্ষ্মীর মুখ সমন্বিত পোড়া মাটির ঘটে চাল বা জল ভরে সেই ঘটকে লক্ষ্মী রূপে পুজো করেন।

আরও পড়ুন : মা লক্ষ্মীর বাহন পেঁচা কেন? বাড়িতে মা লক্ষ্মীর কিরকম ছবি রাখা উচিত?

ইতিমধ্যেই বাংলার ঘরে ঘরে নিজস্ব রীতি নীতি মেনে মা লক্ষ্মীর আবাহনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। উমার ফেরার পরে বাঙালির মনের বিষাদ লক্ষ্মীর ঘরে ফেরার আনন্দে পরিণত হয়ে যায়। স্বাস্থ্য বিধি মেনেই আগামী ৩০ অক্টোবর লক্ষ্ণী আসবে ঘরে।