একজন হিন্দুকে বাঁচাতে রোজা ভেঙে রক্ত দিল এক মুসলিম

রক্তের অভাবে ক্রমশ নেতিয়ে পড়ছিল ৮ বছরের শিশু। বহু জায়গায় চেষ্টা করেও এ পজেটিভ গ্রুপের রক্ত জোগাড় করতে পারেনি তার বাবা। শেষে একরত্তি শিশু মনোজ কুমারকে বাঁচাতে এগিয়ে এলেন মুসলিম যুবক জাভেদ আলম। রামজানের উপবাস ভেঙে রক্ত দিলেন তিনি। জাত, ধর্মের বেড়া ডিঙিয়ে জয় হল মনুষ্যত্বের। জাভেদ প্রমাণ করলেন ধর্মীয় আচরণের চেয়েও মানবিকতা অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ।

Photo : IndiaToday

বিহারের গোপালগঞ্জের এই ঘটনা তৈরি করল হিন্দু-মুসলিম ভাতৃত্বের নয়া নজির। গোপালগঞ্জের বাসিন্দা ভূপেন্দ্র কুমারের ৮ বছরের ছেলে দুরারোগ্য থ্যালাসেমিয়ায় ভুগছে। মাঝে মাঝেই রক্ত দিতে হয় তাকে। গত সপ্তাহে মনোজের শরীরের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা হঠাত করে পড়ে যায়। ছোট্ট শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে ছোটেন ভূপেন্দ্র। কিন্তু এ পজেটিভ গ্রুপের রক্ত পাওয়া যায় না কোথাও। বেশ কয়েকটি হাসপাতাল এবং ব্লাডব্যাঙ্কে ঘুরেও রক্ত না পেয়ে হতাশ হয়ে যোগাযোগ করেন রক্তদান সমিতির সঙ্গে। তাঁরাই খোঁজ দেন জাভেদ আলমের।

আরো পড়ুন : হিন্দু ধর্মে মেয়েদের নানান অলঙ্কার পরার পেছনে আশ্চর্যজনক বৈজ্ঞানিক কারণ

Photo : ANI

এনডিটিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাভেদ বলেন, ‘বন্ধু আনোয়ার রক্তদান করার কথা বলল। তাঁকে আমি জানিয়েছিলাম, রোজা আছে। এখন সম্ভব নয়। কিন্তু শিশুটিকে দেখে আর থাকতে পারলাম না। বেচারা থ্যালাসেমিয়ায় ধুঁকছে। ওকে দেখেই সিদ্ধান্ত নিই, জীবনে রোজা রাখার অনেক সুযোগ মিলবে।

আরো পড়ুন : হিন্দু ধর্মে দেহ পুড়িয়ে অন্তিম সংস্কার করা হয় কেন ?

Photo : ANI

এই মুহূর্তে রক্ত দিয়ে শিশুর প্রাণ বাঁচানো অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ।’ তাই চিকিৎসকের পরামর্শে হাসপাতালের খাবার খেয়েই রোজা ভাঙেন জাভেদ। খাবার খেয়ে শিশু মনোজকে রক্ত দান করেন তিনি। জাভেদের কথায়, ‘আমার ধর্ম সবার আগে মানুষকে সাহায্য করতে শেখায়। তাই রোজা ভেঙে শিশুকে রক্ত দিতে অসুবিধা হয়নি।’
ধর্মের নামে রক্ত ঝরার এই অস্থির সময়ে রোজা ভেঙে রক্ত দেওয়া আসলে সম্প্রীতির শরীরে রক্তদান।

আমাদের প্রতিটি পোস্ট WhatsApp-এ পেতে ⇒ এখানে ক্লিক করুন