ভারতের বিখ্যাত কয়েটি সরস্বতী মন্দির সম্পর্কে জেনে নিন

96

প্রতি বছর মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের শ্রী পঞ্চমী তিথিতে দেবী সরস্বতীর পূজা করা হয়। সরস্বতী হলেন- জ্ঞান, বিদ্যা, সংস্কৃতি ও শুদ্ধতার দেবী। সরস্বতী পূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি অন্যতম প্রচলিত পূজা। শিক্ষা, সংগীত ও শিল্পকলায় সফলতার আশায় শিক্ষার্থীরা দেবীর পূজা করে থাকে।

বাকদেবী, বিরাজ, সারদা, ব্রাহ্মী, শতরূপা, মহাশ্বেতা, পৃথুধর, বকেশ্বরী সহ আরো অনেক নামেই দেবী ভক্তের হৃদয়ে বিরাক করে। সৌম্যাবয়ব, শুভ্র বসন, হংস-সংবলিত, পুস্তক ও বীণা ধারিণী এই দেবী বাঙালির মানসলোকে এমন এক প্রতিমূর্তিতে বিরাজিত, যেখানে কোনো অন্ধকার নেই, নেই অজ্ঞানতা বা সংস্কারের কালো ছায়া। পুরাণ অনুযায়ী দেবী সরস্বতী ব্রহ্মের মুখ থেকে উথ্থান। দেবীর সকল সৌন্দর্য্য ও দীপ্তির উৎস মূলত ব্রহ্মা। পঞ্চ মস্তকধারী দেবী ব্রহ্মা এক স্বকীয় নিদর্শন।

যে দেবীকে ছাড়া আমাদের একটা দিনও চলে না, সেই দেবীর মন্দির চোখে পড়ে কি? যদি বলি হ্যাঁ আছে, আপনার জানা নেই। তাই বিদ্যে দেবীকে যদি সত্যি মন থেকে ভালোবেসে থাকেন, তাহলে একবার অন্তত জীবনে সরস্বতীদেবীর এই মন্দিরে গিয়ে তাঁর দর্শন করে আসুন।

ভোজনশালা

মা সরস্বতীর এই মন্দিরটি অতি প্রাচীন। মধ্যপ্রদেশের ধড় জেলায় অবস্থিত দেবীর মন্দিরটির নাম ভোজনশালা। জানা যায়, রাজা ভোজ ১০৩৪ অব্দে মন্দিরটি নির্মাণ করিয়েছিলেন। আলাউদ্দিন খিলজি ১৩০৫ অব্দে এখানে আক্রমণ করেছিলেন। ভোজনশালাকে মুসলিম ধর্মস্থান করারও চেষ্টা করেন। তবে, কালের নিয়মে কোনওটাই বন্ধ হয়নি। কড়া পুলিশি পাহারায় এখন নামাজ আদানের পর সরস্বতী পূজা হয় এখানে।

কুঠানুরে সরস্বতী

তামিলনাড়ুতে বাগ দেবীর একটি মন্দির আছে। জায়গাটির নাম কুঠানুর। বিজয়া দশমীর সন্ধ্যায় এখানে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। যাঁরা গান-বাজনা ভালোবাসেন, তাঁরা বছরের ওইদিন এখানে দেবীর আরাধনা করতে আসেন। ভক্তদের বিশ্বাস, কলকাতায় যিনি দেবী আদ্যা, তিনিই মহারাষ্ট্রে দেবী লক্ষ্মী। আর তামিলনাড়ুতে তিনিই সরস্বতী।

বিদ্যা সরস্বতী

এখানে প্রতি বছর বসন্ত পঞ্চমী এবং নবরাত্রি দেবীর আরাধনা হয় ঘটা করে। বাগদেবী এখানে হংসবাহিনী রূপে পূজিত হন। নবরাত্রির মূলা নক্ষত্রম দেবীর আরাধনার সবচেয়ে ভালো মুহূর্ত। ওই মূলা নক্ষত্রম নাকি দেবীর জন্ম নক্ষত্র।

মকাম্বিকা

কেরালার পাঁচিকোড়ে অবস্থিত বাগদেবর মন্দিরটিতে বসন্ত পঞ্চমী নয়, এখানে দেবীর মূল আরাধনা হয় দশেরার সময়। নবমীতে ঘটা করে ফল, মূল এবং গুড় দিয়ে দেবীকে আরাধনা করা হয়। তবে, দেবীকে ডাকার আগে সৃষ্টির পালনকর্তা বিষ্ণুর পুজো করতে হয় রীতি মেনে। দশেরার দিন যে পুজো হয় দেবীর, তাকে পূজাভাইপু বলে। ওইদিন দেবীর সামনে বই এবং অন্যান্য দর্শনীয় সামগ্রী রেখে দেবীকে পূজা করার চল।

জ্ঞান সরস্বতী

দেবী এখানে পূজিত হন জ্ঞানদায়িনী হিসেবে। ছোটো বাচ্চাদের স্কুলে দেওয়ার আগে তাদের বাবা-মা’রা দূরদূর থেকে এখানে আসেন অক্ষর অভ্যাসম উপলক্ষ্যে। জম্মু-কাশ্মীরেও দেবীর এরকম একটি মন্দির আছে।

শ্রীংগেরি সারদা পীঠম

এই মন্দিরটি কর্নাটক জেলায় অবস্থিত। জানা যায়, আদি শঙ্করাচার্য তুঙ্গ নদীর ধারে দেবীর মন্দিরটি অষ্টাদশ শতাব্দীতে স্থাপন করেন। বলা হয়, দেবীর আদি মূর্তিটি চন্দন কাঠ দিয়ে তৈরি হয়েছিল। পরে রাজা বিদ্যারানুলু তাকে সোনার মূর্তিতে রূপ দেন।

আরও পড়ুন : সরস্বতী পুজোর আগে কুল খেতে নেই কেন? জেনে নিন কারণ

প্রৌঢ়া সরস্বতী

জায়গাটি কাশ্মীরে হলেও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অধীনে এখন। বলা হয়, পশ্চিম কাশ্মীরের সারদাবনমে মহামুনি মাতঙ্গের পুত্র শাণ্ডিল্য মুনির সামনে প্রকট হতেন দেবী। সেই থেকে দেবীর নাম সারদা। তবে, কি করে পৌঢ়া সরস্বতী হলে, তা নিয়ে কোনও ব্যাখ্যা নেই।

আরও পড়ুন : সরস্বতীর বাহন তো হাঁস কিন্তু কিছু ছবিতে ময়ূর থাকে কেন ?

পুস্করে সরস্বতী

রাজস্থানের পুস্করে দেবীর মন্দির অতিপ্রাচীন। এখানকার পিলানি অঞ্চলে মন্দির নাকি সত্তরটি পিলার উপরের তৈরি। অসাধারণ ভাস্কর্যেরও দেখা মেলে। প্রতি বছর ভক্তরা দেবীর আরাধণা করতে আসেন বিশেষ দিনে।

Loading...