বাংলার ৬ জাগ্রত কালী মন্দির, যেখানে গেলে কেউ খালি হাতে ফেরে না, মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হবেই

বাংলার ৬ টি খুবই জাগ্রত কালীমন্দির, যেখানে গেলেই পূরণ হয় মনস্কামনা

বাংলায় সর্বাধিক জনপ্রিয় ও প্রচলিত পুজো হল কালী পুজো। আমরা বাঙালীরা বিশ্বাস করি যে কালী ঠাকুর কখনও তাঁর ভক্তদের খালি হাতে ফেরান না। আর তাই বোধহয় সারা রাজ্য জুড়েই অসংখ্য কালী মন্দির ছড়িয়ে রয়েছে, আর তাদের ঘিরে রয়েছে নানা মিথ, পুরাকাহিনী ও লোকবিশ্বাস। আজ আমি আপনাদের জানাবো এমন ৬টি জাগ্রত কালী মন্দির সম্পর্কে—যেখানে গেলে দেবী আপনাকে খালি হাতে ফেরাবেন না। সবসময়ই আপনার মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করবেন।

১. কীর্তিশ্বরী মন্দির, মুর্শিদাবাদ : ৫১ সতীপীঠের অন্যতম মন্দির হল এই কীর্তিশ্বরী মন্দির। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় অবস্থিত এই মন্দিরটি এই জেলার অন্যতম প্রাচীন কালী মন্দির। গোটা বাংলা জুড়েই এই মন্দির খুবই জাগ্রত বলে প্রসিদ্ধ। কথিত আছে, এখানে দেবীর মুকুট পড়েছিল। এই মন্দিরে কোনও বিশেষ বিগ্রহের পুজো হয় না। একটি কালো পাথরকেই বিগ্রহ রূপে পুজো করা হয়ে থাকে।

২. কঙ্কালীতলা মন্দির, বোলপুর : এটিও একটি সতীপীঠ। এটি অবস্থিত বীরভূম জেলার বোলপুরের কাছে। এই মন্দিরটিও অত্যন্ত জাগ্রত এবং এখানে কোনও বিগ্রহ পুজো করা হয় না। এখানে দেবীর কোমর পড়েছিল বলে কথিত রয়েছে। সেই কোমরকে ভগবান শিব এক কুণ্ডের মধ্যে গুপ্ত অবস্থায় রেখে গিয়েছিলেন। সে জন্য এই মন্দিরের কুণ্ডটি খুবই পবিত্র বলে মনে করা হয়।

৩. কনকদুর্গা মন্দির, ঝাড়গ্রাম : রাজ্যের জঙ্গলমহল ঝাড়গ্রামের চিল্কিগড়ে অবস্থিত কনকদুর্গা মন্দির। জঙ্গলে ঘেরা একটি গা-ছমছমে জায়গায় রয়েছে এই জাগ্রত মন্দিরটি। বলা হয়, এই মন্দিরে আগে নরবলি প্রথা চালু ছিল। ঢুলুঙ নদীর তীরেই অবস্থিত এই মন্দিরটি।এই মন্দিরের আরাধ্য দেবী কনক দুর্গা।এখানে দেবী দুর্গার মহাভোগে হাঁসের ডিমও দেওয়া হয়। এখানে দেবীর পুজো হয়ে থাকে কালিকা পুরাণ এবং তন্ত্র মতে।

৪. সর্বমঙ্গলা মন্দির,গড়বেতা : কথিত আছে রাজা বিক্রমাদিত্য শব দেহের উপর বসে এই মন্দিরের দেবীকে তুষ্ট করেছিলেন। এছাড়াও শোনা যায় এই মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন স্বয়ং বিশ্বকর্মা। আরও বলা হয়, এখানে নাকি এক রাতের মধ্যে সাতটি পুকুর খনন করা হয়েছিল। এই পুকুরের মধ্যেই মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়। এখানে আরাধ্য দেবী সর্বমঙ্গলা দেবীর মূর্তি অষ্টধাতু দিয়ে তৈরি। এছাড়াও এখানে দশভূজার মূর্তিও দেখা যায়।

৫.তারাপীঠ, বীরভূম : পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম জাগ্রত ও প্রসিদ্ধ কালী মন্দির হল তারাপীঠ। কথিত আছে, এখানে দেবীর ত্রিনয়ন পড়েছিল। এখানে দেবীর পুজো করা হয় মা তারা রূপে। এই মন্দির জুড়ে নানা লোককথা প্রচলিত আছে। শোনা যায় সাধক বামাক্ষ্যাপা এই মন্দিরে মা তারার পুজো করতেন এবং পাশেই শ্মশান ক্ষেত্রে তিনি সিদ্ধিলাভ করেছিলেন।   এই মন্দিরে কোন বিগ্রহের পুজো করা হয় না। একটি পাথরকে বিগ্রহ রূপে পুজো করা হয়ে থাকে। সেই পাথরের উপর মা তারার প্রতিকৃতি এবং পদচিহ্ন বসিয়ে পুজো করা হয়।

৬. দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির, কলকাতা : কলকাতার তথা পশিমবঙ্গের অন্যতম বিখ্যাত কালী মন্দির হল দক্ষিণেশ্বর মন্দির। এখানে মা ভবতারিণীর পুজো করা হয়। এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেন রানী রাসমণি। উনবিংশ শতাব্দীর পরম যোগী শ্রীরামকৃষ্ণ দেব এই মন্দিরে দেবী কালিকাকে মাতৃ রূপে পুজো করতেন। কথিত আছে রাণী রাসমণি মা কালীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

৭. কালীঘাট মন্দির, কলকাতা : সতীপীঠের অন্যতম মন্দির হল কালীঘাট মন্দির। কথিত আছে, এখানে দেবীর ডান পায়ের চারটি আঙুল পড়েছিল। অন্য একটি মতে, এখানে দেবীর ডান পায়ের একটি আঙুল পড়েছিল। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এই মন্দিরকে খুবই জাগ্রত মনে করেন। আদি গঙ্গার তীরে অবস্থিত এই মন্দিরটি প্রায় দুই শতাব্দী পুরোনো। বলা হয়, আদি গঙ্গার তীরে একবার এক ব্রাহ্মণ সাধনা করছিলেন। সেই সময় তিনি দেখেন নদীর কাছে একটি জায়গা থেকে অলৌকিক আলোর বিচ্ছুরণ ঘটছে। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন সেখানে একটি আঙুলের মতো মূর্তি রয়েছে। সেখানেই পরবর্তীতে কালীঘাট মন্দিরের স্থাপনা হয়।