মাত্র ১ টাকায় মিলবে স্যানেটারি প্যাড, কেন্দ্রের বড় ঘোষণা

প্রধানমন্ত্রীর নানা প্রকল্পের মধ্যে থেকে মহিলাদের জন্য একটি প্রকল্প চালু করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জনৌষধি কেন্দ্রগুলির থেকে দেশের প্রায় ছয় হাজার জনৌষধি কেন্দ্র থেকে খুব অল্প টাকাতেই মহিলাদের জন্য পাওয়া যাচ্ছে।

২০১৯ সাল থেকে প্রত্যন্ত এলাকার মহিলাদের কম টাকায় দেওয়া হচ্ছে স্যানিটারি ন্যাপকিন। কেন্দ্র সরকার এই প্রকল্পটিকেই আরও বিস্তারিত করতে বছরে ১২ হাজার কোটি টাকার নতুন প্রকল্পের সূচনা করছেন। আগামী দিনে মা বোনেদের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে আরো বড় পরিকল্পনা নেওয়ার পথে হাঁটছে কেন্দ্রীয় সরকার।

সুবিধা ব্যান্ড চালু হয়েছিল ২০১৮ সালে। নারীর স্বাস্থ্য উন্নয়ন প্রকল্পেই এই ব্যান্ড চালু হয়েছিল। তবে তখন আড়াই টাকায় স্যানিটারি ন্যাপকিন পাওয়া যেত। ২০১৯ সালে স্যানিটারি ন্যাপকিনের দাম আড়াই টাকা থেকে এক টাকা করা হয়। এই স্যানিটারি ন্যাপকিন পরিবেশ বান্ধব  অক্সো বায়ো-ডিগ্রেডেবল।

অর্থাৎ এই স্যানিটারি ন্যাপকিন অক্সিজেনের সংস্পর্শে এলেই ছোট ছোট টুকরোই ভেঙে মাটিতে মিশে যাবে এটি কোনোভাবেই পরিবেশ দূষণ ঘটাবে না।ঋতুকালীন সময়ে আর্থিক সামর্থ্য না থাকার জন্য আদিবাসী ঘরের গরীব মহিলারা কাপড় অথবা ছাই ব্যবহার করে থাকতেন।

২০১৫  সালে একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল যে ৫০ শতাংশ মহিলারাই  একমাত্র এই দেশে স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনতে পারেন। তাই মহিলাদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সুরক্ষার কথা ভেবে ই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন যে বাজারচলতি স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনতে না পারলে পাটের তৈরি স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনতে পারেন।

সেই সময় পাট দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে সানিট্যারি নাপকিন তৈরি করার প্রস্তাবে জুট বোর্ড ও অনুমোদন দেয়। কিন্তু পরে প্রস্তাব নিয়ে নানারকম টানাপোড়েন শুরু হয় তখন ২০১৮ সাল থেকে মোদি সরকার চালু করে দেন সুবিধা ব্রান্ড। এই সময় মোদি সরকার থেকে জানানো হয়েছে একটি স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরি করতে আড়াই টাকা খরচ পরে,কোন রকম লাভ না রেখেই সেই টাকা দিয়ে বিক্রি করা হবে স্যানিটারি ন্যাপকিন। এরপর ২০১৯ সাল থেকেই স্যানিটারি ন্যাপকিনের দাম কমিয়ে ১ টাকা করা হয় মহিলাদের সুবিধার্থেই।

এইবার সুবিধা ব্যান্ডের এই প্রকল্পকে আরো বড়ো আকারে পৌঁছে দেওয়া হবে আরো বেশি সংখ্যক মহিলার কাছে। কেন্দ্রীয় সার ও রাসায়নিক মন্ত্রকের দুই শীর্ষকর্তা এই বিষয়ের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পেয়েছেন।

এই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করতে ফার্মাসিউটিক্যাল বিভাগ ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক শীর্ষস্থানীয় কর্তা ব্যক্তিদের মধ্যে বিগত দুইসপ্তাহ ধরেই আলোচনা চলছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষবর্ধন, পরিবেশমন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী মনসুখ মনদাভিয়া

এই প্রকল্পের নেতৃত্বে আছেন।এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকে এই প্রকল্পে অংশ নিতে বলা হয়েছে এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য একটাই গ্রামে গ্রামে স্যানিটারি ন্যাপকিন সম্পর্কে সচেতনতা প্রচার করা।আর্থিক সঙ্গতি না থাকার জন্য যারা স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনতে পারেন না সেই সকল মহিলারা আজ ও ঋতুকালীন সময়ে একটুকরো কাপড় অথবা ছাই ব্যবহার করেন তাদেরকে এই গুলো ব্যবহার থেকে বারণ করতে হবে এবং তাদেরকে এক টাকায় স্বল্পমূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।