‘থলথলে, মাংসের তাল’ বলে অপমান, ‘মিঠাই’য়ের প্রমিলা লাহার যোগ্য জবাবে মুখ বন্ধ সমালোচকদের

মোটা বলে অবিরাম শুনেছেন কটাক্ষ, ইন্ডাস্ট্রির সম্পর্কে মুখ খুললেন অরিজিতা মুখার্জি

বাংলা টেলিভিশনের (Bengali Telivision) অভিনেত্রীদের ঝাঁ চকচকে সুন্দরী না হলে যেন ঠিক চলে না ইন্ডাস্ট্রির। এখনও ইন্ডাস্ট্রির অনেকের মনের মধ্যে এই বদ্ধমূল ধারণা রয়েই গিয়েছে। তাই তো নায়িকা হোন বা পার্শ্ব চরিত্রের অভিনেত্রী, অভিনয়ের দুনিয়াতে কালো বা মোটা হওয়াটা যেন অপরাধ। স্বাস্থ্য একটু ভাল হওয়ার জন্য একসময় ইন্ডাস্ট্রিতে চরম অপমানিত হয়েছিলেন অভিনেত্রী অরিজিতা মুখোপাধ্যায়ও (Arijita Mukherjee)।

‘মিঠাই’ (Mithai), ‘আয় তবে সহচরী’র (Aay Tobe Sohochori) পর এখন ‘নিম ফুলের মধু’ (Nim Phuler Modhu) ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন অরিজিতা। তবে তার কাজ অবশ্যই শুরু হয়েছিল থিয়েটারের মঞ্চ থেকে। প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রাক্তনী অরিজিতা বড় হয়েছেন শান্তিনিকেতনে। ইংল্যান্ডে থিয়েটার প্রশিক্ষক হিসেবে এক বছর কাটিয়েও এসেছেন অভিনেত্রী। তবে তিনিই তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তাই শেষমেষ অভিনয়টাকেই পেশা করে নিয়ে অরিজিতাকে আসতেই হল টেলিভিশনের পর্দায়।

তবে এখানে এসে তার অভিজ্ঞতা প্রথম প্রথম খুব একটা সুখের হয়নি। চেহারা নিয়ে অবিরাম কটাক্ষ শুনতে হয়েছিল তাকে। তবে এটাকেই তিনি জীবনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেন। তার যে অনেক কিছুই প্রমাণ করার ছিল ইন্ডাস্ট্রিতে এসে। তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন দেখতে সুন্দর না হলেও দর্শকের মন ছোঁয়া যায়, তাদের থেকে ভালবাসাও পাওয়া যায়।

এখন রাস্তায় তাকে দেখলে দর্শকরা দাঁড়িয়ে পড়েন, তার চরিত্রের নাম ধরে প্রশংসা করেন। এটাই অভিনেত্রীর অনেক বড় পাওনা। তিনি দেখতে ‘যথেষ্ট ভাল’ নন। তাই ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকার লড়াইটা তার পক্ষে ছিল আরও বেশি কঠিন। তবে কঠিন লড়াই জিতে নিয়ে অরিজিতা প্রমাণ করে দিয়েছেন দর্শকদের ভালোবাসা পেতে হলে অভিনয় ছাড়া সত্যিই আর কিছু লাগে না।

‘আয় তবে সহচরী’তে বরফির মামিমা, তারপর ‘মিঠাই’তে প্রমিলা লাহিড়ীর চরিত্রে দর্শকদের মনের মধ্যে দাগ কেটেছেন অভিনেত্রী। অথচ ‘যথেষ্ট ভাল’ দেখতে নন বলেই নাকি বেশ কিছু কাজ থেকে তাকে বাতিল করা হয়েছিল। আনন্দবাজারের কাছে অভিনেত্রী জানিয়েছেন সহকর্মী থেকে শুরু করে ইন্ডাস্ট্রিতে অনেকেই তার চেহারা নিয়ে কটাক্ষ করেছেন।

অভিনেত্রীর কথায়, “যেন আমি একটা মাংসের তাল! আর কোনও অস্তিত্ব নেই! সেখান থেকে প্রমাণ করতে হয়েছে যে, অভিনয়টা পারি। ওটাই পারি, আর যত দিন যাবে আরও ভাল পারব। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, চরিত্রের প্রয়োজনে আমি ওজন কমাব না! সেটা এক বারও বলিনি। এখনও দরকার হয়নি তাই নিজের চেহারাতেই ক্যামেরার সামনে আসি। ফিটনেস নিয়েও আমার কোনও সমস্যা হয়নি।”