‘প্রেম’ করছেন মিঠাই, প্রিয় মানুষের সঙ্গে অভিনেত্রীর ছবি ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

বাংলা টেলি ধারাবাহিকগুলির মধ্যে এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থান করছে “জি বাংলা”র “মিঠাই”। বিগত প্রায় ৪ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে টেলিভিশন রেটিং পয়েন্টের নিরিখে “স্টার জলসা” এবং “জি বাংলা”র অন্যান্য সকল টপ রেটেড ধারাবাহিককে পেছনে ফেলে দিয়েছে “মিঠাই”। “স্টার জলসা” এবং “জি বাংলা”র অনুরাগীরা এখন কার্যত “মিঠাই” দেখতেই বেশি পছন্দ করছেন। ধারাবাহিক প্রেমীদের মন কেড়েছে মিষ্টি এবং প্রাণবন্ত “মিঠাই”।

মিষ্টি ছাড়া বাঙালিকে কল্পনাও করা যায় না। ভোজন রসিক বাঙ্গালী মিষ্টি প্রেমিকও বটে। অতএব সেই বাঙালির যে মিষ্টি বানাতে জানা এবং মিষ্টি স্বভাবের মেয়ে “মিঠাই”কে পছন্দ হবেই, তা আর আলাদা করে বলে দেওয়ার অপেক্ষা রাখে না। বাঙালির ঐতিহ্য, বাংলার অতি পুরাতন মিষ্টি “মনোহরা” বানাতে পারে “মিঠাই”। আর তার এই গুণের জন্যই কলকাতার “সিদ্ধেশ্বর মোদক” এর মিষ্টির দোকান এবং পরিবারে ঠাঁই পেয়েছে “মিঠাই” ময়রা!

বরাবর হাসিখুশি, চঞ্চল, প্রাণবন্ত “মিঠাই” এর কপালেই আবার “উচ্ছে বাবু”র মতো স্বামী জুটেছে! মোদক পরিবারের বড় ছেলে “সিদ্ধার্থ” বড়ই রাগী এবং গম্ভীর প্রকৃতির। তার ভয়ে তটস্থ পরিবারের সকল সদস্য। তবে “মিঠাই” কিন্তু তার “উচ্ছে বাবু”কে মোটেই ভয় পায় না। বরং সকলের সামনে “সিদ্ধার্থ” এর নকল করে পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোটায়। বাড়ির সকলের অত্যন্ত পছন্দের “মিঠাই” এর সঙ্গে শুধু “উচ্ছে বাবু”রই একটু-আধটু ঝামেলা বাঁধে।

“উচ্ছে বাবু”র কাছে বকুনি খেয়ে অবশ্য “মিঠাই” এর মনে বেশ কষ্টও হয়। তবে বারবার “ননসেন্স” এবং “ডিসগাস্টিং” শুনতে শুনতে সেও খানিক অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে। পর্দায় এই জুটির দুষ্টু-মিষ্টি রসায়ন দর্শকের বেশ পছন্দের। একদিকে রাগী, গম্ভীর, বেরসিক স্বভাবের “সিদ্ধার্থ”, যে কিনা অতিরিক্ত স্বাস্থ্যসচেতনতার দরুণ মিষ্টি একেবারেই পছন্দ করে না, অপরদিকে মিষ্টি বানাতে এক্সপার্ট মিষ্টি স্বভাবের “মিঠাই”; এমন জুটি দর্শকের মনে জায়গা করে নিতে বাধ্য।

তবে পর্দায় তো না হয় “সিদ্ধার্থ” এর সঙ্গে জোট বেঁধেছে “মিঠাই”, আসল জীবনে “মিঠাই” এর জুড়িদার কে? “মিঠাই” অর্থাৎ সৌমিতৃষা কুন্ডুর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তার অনুরাগীদের আগ্রহ কিছু কম নেই। বাস্তব জীবনে তিনি কার সঙ্গে প্রেম করছেন তা জানার জন্য উৎসুক “মিঠাই”প্রেমীরা। অভিনেত্রী অবশ্য সমস্ত সাক্ষাৎকারে বলেন যে তিনি এখনও তার মনের মানুষের খোঁজ পাননি। তবে হালফিলের একটি ছবিকে কেন্দ্র করে নেটদুনিয়ায় জল্পনার ভারত চলছে।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় সৌমিতৃষাকে দেখা গেল শুভ্রজিৎ সাহার সঙ্গে। “করুণাময়ী রানী রাসমণি”তে “রাণীমা”র নাতি “যদুনাথ” এর ভূমিকায় অভিনয় করছেন তিনি। তার সঙ্গে একটি ছবি আপাতত “মিঠাই” এর ফ্যান পেজে ঘুরছে। যা দেখে অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে তাহলে কি “মিঠাই” এবার তার মনের মানুষের খোঁজ পেয়েছে? শুভজিৎয়ের সঙ্গেই কি তাহলে চুপিচুপি প্রেম নিবেদন চলছে সৌমিতৃষার?

অভিনেত্রী কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার এই গুঞ্জনে বেশ রেগে গিয়েছেন। তিনি জানাচ্ছেন, তেমন কোনও ব্যাপারই নয়। শুভ্রজিৎ আসলে তার খুব ভালো বন্ধু। সম্প্রতি করোনা আক্রান্ত হয়েছে শুভজিৎ। তাই বন্ধুর আরোগ্য কামনায় তার সঙ্গে নিজের একটি ছবি আপলোড করেছেন তিনি।

তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “২ সহ-অভিনেতা প্রিয়াঙ্কা চট্টোপাধ্যায় এবং শুভ্রজিৎ সাহা আমার খুব ভাল বন্ধু। ২ জনেই কোভিড পজিটিভ। তাই ওঁদের ছবি দিয়ে দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছি”। শুভ্রজিৎ এর সঙ্গে তার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে গুঞ্জন উঠেছে তাতে বেশ বিরক্ত হয়েছেন অভিনেত্রী। নেটিজেনদের প্রতি তার প্রশ্ন, “২০২১-এ এসেও ছেলে বন্ধুর সঙ্গে ছবি দেওয়া মানেই সে প্রেমিক?”