মিষ্টির সাধ জমজমাট, তৃতীয় লিঙ্গের বন্ধুদের আমন্ত্রণ করে বাড়িতে আনলো গুনগুন

‘খড় কুটো’র (Khorkuto) মুখার্জিবাড়িতে আজ যেন রীতিমতো জলসা বসেছে। বাড়ির বড় বউয়ের সাধের অনুষ্ঠান বলে কথা! হাড়কেপ্পন জ্যাঠাইও তাই গুনগুনের পাল্লায় পড়ে দরাজ হাতে টাকা খরচ করতে বাধ্য। মম টু বি মিষ্টিকেও বেশ মিষ্টি লাগছে দেখতে। পটকার কথায়, ‘একেবারে যেন লক্ষ্মী প্রতিমা’! ‘সৌগুন’ আর জ্যাঠাই-বড়মার বিবাহবার্ষিকী ধুমধাম করে পালনের পর এখন বাড়ির নতুন সদস্যের আগমনের প্রস্তুতি চলছে মুখার্জি বাড়িতে।

অনুষ্ঠান মানেই বন্ধুবান্ধব আর আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে প্রচুর আনন্দ, হৈ-হুল্লোড় আর খাওয়া-দাওয়া। মুখার্জি পরিবারের সদস্যরা সকলেই সকলের বন্ধু-বান্ধব, স্কুল-কলেজ অথবা অফিস কলিগদের নিমন্ত্রণ করে নিয়ে এসেছেন। অতিথি আপ্যায়ন চলছে পুরোদমে। আর তার মাঝেই গুনগুনও তার বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে হাজির। না, গুনগুন কিন্তু তার সেই কলেজের বন্ধু-বান্ধবদের নিমন্ত্রণ করেনি। বদলে নতুন বন্ধু পাতিয়ে নিয়েছে সে।

 তার সেই বন্ধু হলেন সমাজের তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা। যাদের কোনও আনন্দের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ করার কথা সমাজের কেউই কখনও ভাবতে পারেন না। একবিংশ শতাব্দীতেও তারা সমাজে ব্রাত্য হয়ে রয়েছেন। যারা ছোট ছোট বাচ্চাদের ভালো চান, যাদের আশীর্বাদ ছাড়া সদ্যোজাত শিশুদের মঙ্গল অসম্পূর্ণই থেকে যায়, তাদের দেখলেই দূর ছাই করে সমাজ। এভাবে বারংবার অপমানিত, অপদস্থ হতে হতে তারাও যেন নিজেদের সেই চোখেই দেখতে শুরু করেন।

তবে সমাজের সেই প্রচলিত চল ভেঙে দিয়েছে গুনগুন। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের ছায়া মাড়াতেও যেখানে সকলে অমঙ্গলের আশঙ্কা করেন, গুনগুন সেখানে তার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে তাদেরকেই নিজের বন্ধু বানিয়ে ফেলেছে। সে দেখিয়ে দিয়েছে, সমাজের সকল আনন্দ অনুষ্ঠানে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরাও আমন্ত্রণ পাওয়ার দাবি রাখেন। যারা সমাজের মঙ্গল যান, আগামী প্রজন্মকে সর্বদাই আশীর্বাদ করেন, এটুকু সম্মান তো তাদের প্রাপ্য। নয় কি?

তবে শুধু গুনগুন একা নয়, পটকাও তার এই উদ্যোগে তাকে সমর্থন জানিয়েছে। তিনি গুনগুনের বন্ধুদের আশ্বস্ত করেছেন, তাদের বাড়িতে গুনগুনের অতিথিদের মাথায় করে রাখা হবে। এমন ভালোবাসার আমন্ত্রন কেউ কি উপেক্ষা করতে পারেন? গুনগুনের বন্ধুরাও পারেননি। তারাও সদলবলে আসবেন মুখার্জী বাড়িতে, হবু মাকে আশীর্বাদ করে যাবেন। সমাজ যাদের দেখলেই মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দেয়, মুখ ঘুরিয়ে নেয়, মুখার্জি পরিবারের দরজা তাদের জন্য খোলা।

প্রসঙ্গত, ধারাবাহিকের এই পর্যায়ে সমাজের জন্য বিশেষ বার্তা রাখতে চেয়েছেন চিত্রনাট্যকার লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। এই ধারাবাহিক যেন সত্যিই ভাবতে শেখায়, এভাবেও তো ভাবা যায়! তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরাও এই সমাজেরই অংশ। লিঙ্গ বৈষম্যের বিরুদ্ধে যেখানে আমরা এত কথা বলি, এত প্রতিবাদ জানাই, সেখানে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের নিয়ে এই ভেদাভেদ কেন? তারাও তো আমাদের সুখেরই ভাগীদার। তাহলে সুখের দিনে, আনন্দের অনুষ্ঠানে তাদের উপেক্ষা করা কেন? প্রশ্ন রেখেছে ‘খড়কুটো’।