মুসলিম হয়ে গণেশ চতুর্থীর শুভেচ্ছা! নেটপাড়ায় মীরকে মারমুখি জনতা

মুসলিম হয়েও গণেশ চতুর্থীর শুভেচ্ছা! মীরকে জাহান্নামে পাঠালেন কট্টরবাদীরা

গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে সারা দেশজুড়ে উৎসবের আবহ। এই আবহে সকলেই সকলকে উৎসবের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে উঠে নেট মাধ্যমে সকলকে শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন বাংলা টেলিভিশনের প্রখ্যাত সঞ্চালক তথা রেডিও মির্চি ৯৮.৩ এর রেডিও জকি মীর আফসার আলি (Mir Afsar Ali) তথা মীর। তবে তিনি সাম্প্রদায়িকতা ভুলে উৎসবের আনন্দে মেতে উঠলে কি হবে?তার পোস্টের নিচে কট্টরবাদীরা কার্যত তার বিরুদ্ধে রীতিমতো যেন ফতোয়া জারি করেছে!

রেডিও জকি, কৌতূকাভিনেতা, জনপ্রিয় সঞ্চালক ছাড়াও মীর আফসার আলির রয়েছে আরও একটি বিশেষ পরিচয়। তিনি সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে উঠে প্রকৃত মানুষ হিসেবে নিজের পরিচয় দিতে জানেন। এর আগেও জাতি-ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে সকলকে শুভেচ্ছার বার্তা জানিয়েছেন তিনি। আর তার জন্য বরাবর কট্টরপন্থীদের নিশানায় পড়তেও হয়েছে তাকে। তবে তাতে অবশ্য খুব একটা বিচলিত নন মীর। তিনি তার নিজের ইচ্ছেকেই প্রাধান্য দেন, সমালোচনাকে নয়।

শুক্রবার গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে নিজের ইনস্টাগ্রাম ওয়ালে নেটিজেনদের উদ্দেশ্যে উৎসবের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মীর। গণেশের ছবি পোস্ট করে তিনি সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখেছেন, “শুভ হোক। সুস্থ থাকুন। গণপতি বাপ্পা মোরিয়া…”। আর এতেই কার্যত মীরের পোস্টের কমেন্ট বক্সে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন নীতি পুলিশেরা। মীরকে উদ্দেশ্য করে কট্টরপন্থীদের তরফ থেকে একের পর এক কটাক্ষ, সমালোচনা ধেয়ে আসে।

এমনকি মীরের ধর্ম তুলে প্রশ্ন করতেও ছাড়েননি এই ধর্মান্ধরা। মুসলিম ধর্মাবলম্বী হয়ে তিনি কীভাবে হিন্দুদের পূজার উৎসবে সামিল হতে পারলেন? এই প্রশ্ন ক্রমাগত বিদ্ধ করতে থাকে তাকে। একজন তো আবার মীরকে সরাসরি সতর্ক করে কমেন্ট করেছেন, “সবচেয়ে বড় পাপ হল শির্ক আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে তুলনা করা! আল্লাহ সব পাপ ক্ষমা করলেও শির্কের পাপ কখনো ক্ষমা করবেন না! চিরকাল জাহান্নামে থাকতে হবে (সূরা, নিসা-৪৮)”।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by Mir Afsar Ali (@mirchimir13)

আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “মীরভাই নিজে মুসলিম হয়ে কীভাবে মূর্তিপুজোকে সমর্থন করলে তুমি!” যদিও এই নীতি পুলিশদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি মীর। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় তার বিরুদ্ধে প্রশ্নের পাহাড় জমছে ঠিকই, কিন্তু সেই প্রশ্নের জবাব পাচ্ছেন না কেউই। এদিকে সময় যত এগোচ্ছে, তার পোস্টের নিচে কমেন্ট বক্স ততই ভরে উঠছে সমালোচকদের কু-মন্তব্য।

তবে মীরের বিশেষ বন্ধু ও FOODKA-র মালিক ইন্দ্রজিৎ লাহিড়ি অবশ্য এর মাঝেও মশকরা করার রসদ খুঁজে পেয়েছেন। তিনি কমেন্ট করেন, “কমেন্ট পড়তে এসেছিলাম, পড়া হয়ে গিয়েছে – এবার বাড়ি যাচ্ছি।” উল্লেখ্য এর আগেও দুর্গোৎসব উপলক্ষে, ক্রিসমাস উপলক্ষ্যে কিংবা খুশির ঈদ উপলক্ষে নেট মাধ্যমে উৎসবের আনন্দ সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চেয়েছেন মীর। তাতে মীর “সাচ্চা মুসলমান” কিনা, সেই নিয়েও আবার প্রশ্ন উঠেছে বারবার!