দামি ঘড়ি নয়, বাবা চেয়েছিলেন একটুখানি সময়! স্মৃতির বেদনায় বিদ্ধ মীর

অ্যালঝাইমার্স (Alzheimer’s), ডিমেনশিয়া (Dimentia)! এমন এক মারাত্মক রোগ, যে রোগে আক্রান্তদের পাশাপাশি রোগীর আশেপাশের মানুষজনেরও সর্বদা রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়। আজ প্রায় চার বছর ধরে এই রোগের সঙ্গে লড়াই চালাচ্ছেন মীর আফসার আলির (Mir Afsar Ali) বাবা। সঙ্গে লড়াই চলছে মীরেরও। আজ ‘ওয়ার্ল্ড অ্যালঝাইমার্স অ্যাওয়ার্সনেস ডে’তে স্মৃতির পাতা থেকে এমন এক অভিজ্ঞতা তুলে আনলেন মীর, যা তার বাবার স্মৃতি থেকে প্রায় মুছে গিয়েছে।

আজ সকালে মীরের ফেসবুক পেজে ফুটে উঠলো তার বাবার ছবি। পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, “আব্বার জন্মদিন ৪ঠা এপ্রিল। বছর পাঁচেক আগে আব্বাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, জন্মদিনে কী গিফ্ট চান তিনি। আমার খুব ঘড়ির শখ। নানান ধরণের মডেল। বিদেশি ঘড়ি আমার বিশেষ দুর্বলতা। তো আব্বাকে ভীষণ উৎসাহিত হয়ে বললাম, ‘আব্বা… এই বছর আপনার জন্য আমার তরফ থেকে ঘড়ি’। মুচকি হেসে আব্বা বললেন, ‘ঘড়ি নয় বাপি, আমায় একটু সময় দিস”।

এরপর তিনি লিখেছেন, “ঘটনাটা আমার যতটা স্পষ্ট মনে আছে, আব্বার স্মৃতিতে সেটা ততটাই ঝাপসা। গত ৪ বছর ধরে ডিমেনশিয়ার সঙ্গে লড়ছেন আমার আব্বা। কিছুই মনে থাকে না। দিনক্ষণ, সাল, সময় – কোন কিছুরই জ্ঞান বিশেষ নেই। হ্যাঁ, এখনও চিনতে পারেন আমায়। নাম ধরে ডাকেন। আব্বা বললে সাড়া দেন। চিকিৎসা চলছে। আমি আশাবাদী। ডাক্তারদের উপর আমার অগাধ বিশ্বাস”।

সবশেষে তিনি সকলকে সতর্ক করে লিখেছেন, “আপনার বাড়িতেও কি এমন কেউ আছেন যিনি কাজে মন দিতে পারছেন না, সব ভুলে যাচ্ছেন এক এক করে? অবহেলা করবেন না। দেরী করবেন না। তাদের দূরে ঠেলে দেবেন না। যাদের আজকাল মনে থাকে না, তাদের আরও বেশি করে মনে ধরে রাখুন। ভালো থাকবেন সবাই”।

এই পোস্টের মাধ্যমে সাধারণের উদ্দেশ্যে সচেতনতামূলক বার্তা দিলেন মীর। আজকের এই বিশেষ দিনটিতে সকল অ্যালঝাইমার্স পেশেন্টদের প্রতি পেশেন্স ধরে রাখার বার্তা দিলেন তিনি। আজকের দিনে এমন রোগ বিরল নয়। ঘরে যাদের বয়স্ক বাবা-মা, দাদু-ঠাকুমা রয়েছেন, তাদের কমবেশি এমন সমস্যার সম্মুখীন হতেই হয়। অসচেতনতার কারণে অনেকেই ভুলে যাওয়ার কারণটি ধরতে পারেন না। তাদের উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তা দিলেন মীর।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by Mir Afsar Ali (@mirchimir13)

একইসঙ্গে স্মৃতির পাতা হাতড়ে তিনি এমন এক অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করলেন, যে ঘটনা বর্তমান এই ইঁদুর দৌড়ের যুগে বেশ প্রাসঙ্গিকও বটে। প্রায় প্রত্যেক পরিবারেই ছোটদের থেকে অবহেলিত হচ্ছেন বয়স্করা। তাদের চাহিদা এমন আর বড় কী? তারা তো আপনজনেদের থেকে শুধু একটু সময়ই আশা করেন। কোনও দামি উপহার নয়।