লকডাউনে কীভাবে সুস্থ থাকবেন, মন ভালো রাখবেন কীভাবে, জানিয়ে দিলেন মিমি

আগামী দিনে কি হবে, তা আমরা কেউই জানিনা। আগে থেকে সেই অনুমান করা বৃথা। ভালো হোক বা মন্দ, লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। বর্তমানে যে বিভীষিকাময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এগোতে হচ্ছে, তা থেকে সকলেরই কমবেশি “ডিপ্রেশন” হওয়াটাই স্বাভাবিক। বিগত প্রায় দেড় বছর ধরে মহামারী করোনা স্বাস্থ্যের দিক থেকে, রোজগারের দিক থেকে, সর্বোপরি মানসিক দিক দিয়ে সারা বিশ্বকে বিধ্বস্ত করে তুলেছে।

এই কঠিন মুহূর্তের শেষ কোথায়? আরও কি কি দেখতে হবে করোনার জন্য? স্বজন হারানোর যন্ত্রণা, চারিদিকে অক্সিজেন, আইসিইউতে বেডের জন্য মানুষের এই যে হাহাকার, এর থেকে মুক্তি মিলবে কবে? কবে সেরে উঠবে পৃথিবী? কার্যত কারোর কাছেই এর কোনও জবাব নেই। তবে কঠিন মুহূর্তের মোকাবিলা করা ছাড়া বিকল্প কোনও পথও তো খোলা নেই। তাই মানসিক জোরেই উপর ভর করেই অতিক্ষুদ্র অদৃশ্য মারণ শক্তির বিরুদ্ধে মানুষের সংগ্রাম চলবে।

সাম্প্রতিককালের এই কঠিন মুহূর্তটিতে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই চালাবেন কিভাবে? উত্তর দিলেন টলিউড অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। মিমির মতে, ভালো থাকার মূলমন্ত্রটিই হলো মনকে ভালো রাখা। মনই জীবনের চাবিকাঠি। অতএব কঠিন মুহূর্তে ডিপ্রেশন নয়, মনে পজেটিভ ভাইব আনতে হবে। করোনা নিয়ে দুশ্চিন্তা নয়, সাবধানে এবং সতর্ক থাকতে হবে। তবেই এই লড়াই সম্ভব।

সম্প্রতি মিমি চক্রবর্তী এই কঠিন মুহূর্তে ডিপ্রেশন কাটিয়ে ওঠার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস দিলেন নেট নাগরিকদের। নিজের ব্যবহৃত সোশ্যাল হ্যান্ডেলে অনুরাগীদের উদ্দেশ্যে এই খুঁটিনাটি টিপসগুলি শেয়ার করেছেন তিনি। একজন সুনাগরিক হিসেবে দেশের অন্যান্য নাগরিকদের উদ্দেশ্যে মিমি কি কি টিপস তুলে ধরলেন? দেখে নিন এক নজরে।

প্রসঙ্গত, অভিনেত্রী নিজেই সম্প্রতি ডিপ্রেশন কাটিয়ে উঠেছেন। আদরের সন্তানসম পোষ্য চিকুকে সম্প্রতি হারিয়েছেন অভিনেত্রী। সোশ্যাল মিডিয়ায় চিকুর মৃত্যু সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে ভেঙে পড়েছিলেন অভিনেত্রী। তবে সেই ডিপ্রেশন কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন তিনি। বর্তমানে তার জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে তার নতুন পোষ্য জুনিয়র! অত্যন্ত আদরের এই কুকুর ছানাটিকে সম্প্রতি বাড়িতে এনেছেন অভিনেত্রী। আপাতত তার সঙ্গেই কাটছে তার দিন।

এছাড়াও বর্তমানে কোভিড মোকাবিলার জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তৃণমূলের এই তারকা সাংসদ। যাদবপুর লোকসভা এলাকার বাসিন্দাদের জন্য কোভিড হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছেন মিমি চক্রবর্তী। এলাকার বাসিন্দারা তাদের প্রয়োজনে এই নম্বর মারফত তাদের জনপ্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। রাত দিন তাদের জন্য ফোনের নম্বর খোলাই রেখেছেন তৃণমূলের এই তারকা সাংসদ।

টিপস ১ :  সর্বদা পজেটিভ থাকুন। পজেটিভ ভাবুন। ডিপ্রেশন যদি মনকে গ্রাস করে বসে তাহলে কমেডি বা অ্যানিমেশন দেখুন। অভিনেত্রী খোদ এই কাজটি করে থাকেন।

টিপস ২ : আপনি ঠিক কোন কারণগুলির কথা ভেবে উদ্বিগ্ন বোধ করছেন, তা একটি সাদা পাতার উপর লিখে ফেলুন।

টিপস ৩ : ভালো খাওয়া-দাওয়া করুন। মিমি নিজেও এটি করেন যখন তিনি ডিপ্রেশনে থাকেন। তার ক্ষেত্রে এই কাজটি বেশ কাজে দেয়।

টিপস ৪ :  ডিপ্রেশন দূর করার একটি মহৌষধ হলো এসেন্সিয়াল অয়েল। যখনই স্নান করবেন, তখন জলের মধ্যে কয়েক ফোটা এসেন্সিয়াল অয়েল ফেলে দিন। এবার সেই জলে স্নান করুন। ডিপ্রেশন মুহূর্তের মধ্যেই গায়েব হয়ে যাবে। মিমি জানাচ্ছেন, আপনার কাছে যদি এসেন্সিয়াল অয়েল না থাকে তাহলে আপনি অনলাইনে তা অর্ডার করতে পারেন। খুবই সস্তায় পাওয়া যায়।

আরও একটি কাজ করতে পারেন। জলের মধ্যে এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে তা একটি স্প্রে বোতলে ভরে সেটিকে নিজের বালিশের উপর কিংবা ঘরে স্প্রে করতে পারেন।

টিপস ৫ : অভিনেত্রী সকলকে মেডিটেশন করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে তিনি নিজে কিন্তু মেডিটেশন করতে পারেন না। তবুও এই সময় তিনি সকলকে মেডিটেশন করার পরামর্শ দিচ্ছেন।

টিপস ৬ : হোয়াটসঅ্যাপের ফরওয়ার্ড করা মেসেজ থেকে সাবধান। ভুয়ো তথ্যে বিশ্বাস করবেন না।

টিপস ৭ : ভালো ভালো গান শুনুন অথবা চাইলে বইও পড়তে পারেন।

টিপস ৮ : বাড়িতেই গাছ লাগান। সেই গাছের পরিচর্যা করুন। এতে নিঃসন্দেহে মন ভাল থাকে।

টিপস ৯ : বাড়িতে বসেই সকলকে শরীরচর্চা করার পরামর্শ দিচ্ছেন অভিনেত্রী। যে কোনও ডিপ্রেশন কাটিয়ে ওঠার মহৌষধ এটি। প্রয়োজনে সপ্তাহে প্রথমে ২ দিন, এরপর ৩ দিন, তারপর ৫ দিন, এইভাবে সময় বাড়াতে পারেন।