টিকিয়াপাড়ায় তাণ্ডব নিয়ে কড়া পদক্ষেপ, ছাড় পাবে না কেউ হুঁশিয়ারি মমতার

লকডাউন চলাকালীন গতকালের টিকিয়াপাড়া কান্ডকে ঘিরে শুরু হয়েছে চাপানোতর। হাওড়ার টিকিয়াপাড়া কান্ডে দোষীরা কেও রেহাই পাবেন না, সাফ জানিয়ে দিলেন রাজ্য পুলিশের তরফ থেকে একটি টুইট করা হয়। সেখানে জানানো হয় “টিকিয়াপাড়া কান্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য পুলিশ। রাজ্য পুলিশের এই টুইট রিটুইট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে তিনিও যে টিকিয়াপাড়া কান্ডের জড়িতদের কড়া শাস্তি চাইছেন তা স্পষ্ট।

হাওড়ার টিকিয়াপাড়ার বেলিলিয়াস রোডে লকডাউন কার্যকর করতে গিয়ে ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় হাওড়া পুলিশকে। এমনকি কর্তব্যরত পুলিশকে প্রহার করেন বেশ কয়েকজন। হাওড়ার বেলিলিয়াস রোড কন্টেনমেন্ট জোন হিসেবে বিবেচিত ফলে করোনা রুখতে সেখানেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করার কথা। কিন্তু গতকালই ঘটে এক অন্য কান্ড। সময় তখন চারটে। প্রত্যেকদিনের মতোই পুলিশি পাহাড়া রয়েছে। এরই মধ্যে বেলিলিয়াস রোডের ফল বাজারে ফল কেনাকে কেন্দ্র করে জমায়েত করতে দেখেন পুলিশ। সম্পূর্ন লকডাউনকে তোয়াক্কা না করে এই জমায়েত দেখে পুলিশ তা ছত্রভঙ্গ করে দিতে এগিয়ে যান লাঠি হাতে।

জমায়েতের যুবকেরা পুলিশের আদেশ না মেনে উল্টো পুলিশের উপর চড়াও হন। দু পক্ষে বচসা শুরু হয়, শুরু হয় উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়। এরপরই একেবারে মারমুখী হয়ে ওঠে জনতা। পুলিশকে লক্ষ করে ইট, বোতল ছুঁড়তে থাকে জনতা। আহত হন দুই পুলিশ। পুলিশেরা কোনোভাবে সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে এসে থানায় খবর দেন। ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত জনতা পৌঁছে যান স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে সেখানেও শুরু হয় ভাংচুর। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে র‍্যাফ নামেন। র‍্যাফকে ঘিরে ধরেন উত্তপ্ত জনতা এমনকি তাড়া করেন তাঁদের। ভাংচুর করা হয় পুলিশের দুটি গাড়ি। এরপর হাওড়া ও ব্যাটরা থানার পুলিশ পৌঁছান ঘটনাস্থলে। সাথে সাথে এলাকা ফাঁকা করে দেওয়া হয়। গ্রেফতার করা হয় ৬ জনকে। এখনও সেখানে পুলিশি টহল চলছে।

এরপরই এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয় সমালোচনা। কন্টেনমেন্ট এলাকায় এমন কান্ড কিভাবে হয় এ নিয়ে শুরু হয় সমালোচনা। সাম্প্রদায়িক তোষনকে সামনে রেখেও সরকারের কটাক্ষ করেছেন অনেকে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক জলঘোলা নিয়ে বেশি চিন্তিত হয়ে পড়ে প্রশাসন, সাফ জানিয়ে দেন এই ঘটনার সাথে জড়িতদের কোনোভাবেই মাফ করবেন না রাজ্য পুলিশ।