মেয়েদের মাসিক নিয়ে কোন ধর্মে কী কী কুসংস্কার রয়েছে দেখে নিন

2142

মহিলাদের ঋতুস্রাব বা মাসিক একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। তবু আজও ঋতুস্রাব নিয়ে মহিলাদের ওপর রয়েছে নানান নিষেধাজ্ঞা। আজও ভারতের বিভিন্ন স্থানে মহিলাদের মাসিক চলাকালীন তাদেরকে কলঙ্ক ও অশুচি হিসেবে গণ্য করা হয়।

ঋতুস্রাব চলাকালীন মহিলাদের ওপর নানান সামাজিক ও ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বিভিন্ন ধর্মে মহিলাদের মাসিক বা ঋতুস্রাবকে ঘিরে আজও রয়েছে বিভিন্ন কুসংস্কার। চলুন জেনে নিন কী সেই নিষেধাজ্ঞা গুলি :-

১. হিন্দু ধর্মে মাসিক নিয়ে কুসংস্কার :-

হিন্দুধর্ম মতে, ঋতুস্রাব চলাকালীন নারীদেরকে অপবিত্র মনে করা হয়। এমনকী কোন শুভ কাজে তাদের উপস্থিতিকে অশুভ মনে করা হয়। ঋতুচক্র চলাকালীন কোন নারীর রান্নাঘর, পুজোর ঘর এবং মন্দিরে প্রবেশ করা নিষিদ্ধ। মাসিক চলাকালীন জোরে কথা বলা, খোপায় ফুল দেওয়া এমনকি অন্য কোন ব্যক্তিকে স্পর্শ করা পর্যন্ত বারণ।

২. ইসলাম ধর্মে মাসিক নিয়ে কুসংস্কার :-

হিন্দুধর্মের মতন ইসলাম ধর্মেও ঋতুমতী নারীর ওপর থেকে একাধিক নিষেধাজ্ঞা। কোনো অনুষ্ঠান বা ধর্মীয় কাজে উপস্থিত থাকা বারণ। ঋতুস্রাব চলাকালীন কোন প্রকার শারীরিক সম্পর্ক করা যায় না। এমনকী নামাজ পড়াতেও থাকে নিষেধাজ্ঞা।

৩. খ্রীষ্ট ধর্মে মাসিক নিয়ে কুসংস্কার :-

খ্রীষ্টধর্ম মতেও ঋতুমতী নারীকে অশুচি ও অপবিত্র মনে করা হয়। কোন অনুষ্ঠান বাড়িতে তার উপস্থিতি কাম্য নয়।

৪. শিখ ধর্মে মাসিক নিয়ে কুসংস্কার :-

তবে শিখধর্মে লেখা আছে, মাসিক বা ঋতুস্রাব অপবিত্র নয়। এক ঋতুমতী নারী এক পুরুষের মতই পবিত্র। গুরু নানকের ভক্তদের কাছে মাসিক হল ঈশ্বর কর্তৃক একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। তাই মাসিক চলাকালীন নারীর সেবা করা উঠিত।

৫. ইহুদী ধর্মে মাসিক নিয়ে কুসংস্কার :-

ইহুদী ধর্মে, ঋতুমতী নারীকে স্পর্শ করা ব্যক্তিকেও অশুচি মনে করা হয়। ইসলাম ধর্মের মতন এখানেও শারীরিক সম্পর্ক নিষিদ্ধ।

৬. কাশ্মীরীদের আইন মতে

ঋতুস্রাব নিয়ে কাশ্মীরিদের নিজস্ব বিশেষ কিছু আইন রয়েছে। এই আইন মতে, এক ঋতুমতী নারী তখনই অপবিত্র নয়। মাসিক চলাকালীন নারীর পরিবারের উচিত সর্বদাই তার যত্ন করা। এতে ভগবানের আশীর্বাদ লাভ হয়।