ভারত জুড়ে ২০০-র বেশি মন্দির বানানো এই শিল্পী বানাচ্ছে রাম মন্দির

সম্পুর্ণ হল অযোধ্যার রাম মন্দিরের ভূমি পুজো। কিছুদিনের মধ্যেই সেখানে তৈরি হবে রাম মন্দির। এই মন্দির নির্মাণের দায়িত্ব গিয়ে পড়েছে সম্পুরা পরিবারের হতে।নির্মাণ কাজের দায়ভার দেওয়া হয়েছে লারসেন এন্ড টুব্রো সংস্থাকে।আজ মন্দির নির্মাণের রূপরেখা তৈরি করতে গিয়েছিলেন এই পরিবারের প্রধান চন্দ্রকান্ত সম্পুরা। জানেন কি এই পরিবারের সম্পর্কে? কারা তারা? আসুন জেনে নিই

এই পরিবার দেশ জুড়ে কমপক্ষে ২০০ মন্দিরের নির্মাণ করেছে। ৩ দশক আগে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট অশোক সিংহলের সঙ্গে অযোধ্যায় গিয়েছিলেন আজ ৭৭ বছর বয়সী চন্দ্রকান্ত। তার পিতামহ প্রভাশঙ্করের সম্পুরার হাত ধরে তৈরি হয়েছিল গুজরাটের সোমনাথ মন্দির। ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি ডাক্তার রাজেন্দ্রপ্রসাদ ১৯৫১ সালে সেই মন্দির উদ্বোধন করেছিলেন এবং পরবর্তীকালে তাকে পদ্মশ্রী সম্মানে সম্মানিত করা হয়েছিল।

প্রভাসংকরের অপর পুত্র, অর্থাৎ চন্দ্রকান্ত বাবুর ভাই বন্দ্রিনাথ মন্দির নির্মাণের কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। তবে সেই কাজের দেখাশোনার দ্বায়িত্বে থাকা কালীন তার মৃত্যু হয়।পরিবারের সদস্যরা মনে করেন তাদের মনের সবথেকে কাছে আছে সোমনাথ মন্দির নির্মাণের স্মৃতি।

এই পরিবারের সদস্যরা বিশ্বাস করেন যে তাদের পূর্বপুরুষেরা স্থাপত্যবিদ্যা শিখেছিলেন স্বয়ং বিশ্বকর্মার কাছ থেকে।এক্ষেত্রে চন্দ্রকান্ত বাবুর কথা তিনি নিজে কোনোদিনই স্থাপত্য বিদ্যা আলাদা ভাবে শেখেননি বরং তার সম্পূর্ণ জ্ঞান পূর্বপুরুষদের থেকে প্রাপ্ত তবে পুত্ররা এবং পরিবারের বাকি স্থাপত্য শিল্পীরা এই বিষয় প্রশিক্ষিত।এছাড়াও একটা বিষয় যে, তারা মনে করেন তারা চন্দ্রের অধিবাসী কারন সম অর্থাৎ চন্দ্র এবং পুরা অর্থাৎ শহর।

সেই সময় যখন তিনি রামমন্দির এর গর্ভগৃহে প্রবেশ করেন তখন সেখানে কোনরকম যন্ত্র নিয়ে ঢোকার অনুমতি না থাকায় নিজের পায়ের পাতার মাপে ভেতরের অংশ মেপে তার ভিত্তিতে প্রাথমিক পেন্সিল স্কেচ তৈরি করেছিলেন তিনি। তারপর ট্রেসিং পেপারে সেই ছাপ তুলে তৈরি করা হয়েছিল নক্সা। তবে এই বিষয়টি সোমনাথ মন্দিরের ক্ষেত্রেও ঘটেছিল প্রভাশঙ্কর বাবুর সাথে।কিন্তু সেক্ষেত্রে তার সাহায্য করেছিলেন তার পুত্র চন্দ্রকান্ত।

অন্যদিকে মথুরায় কৃষ্ণের জন্মস্থান নির্মাণে (১৯৯৩ খ্রি) চন্দ্রকান্ত কে তার পুত্র আশীষ সাহায্য করেছিলেন। রাম মন্দির নক্সা তৈরির ক্ষেত্রে প্রাথমিক ভাবে ২৩ টি নক্সা তৈরি করেছিলেন তিনি যার মধ্যে একটি বিশ্ব হিন্দু পরিষদ দ্বারা অনুমোদিত হয় এবং সেই অনুসারে মন্দির নির্মাণের ভাবনা এগোয়।সেই অনুযায়ী একটি কাঠের মডেল তৈরি করা হয় যা সে বছর কুম্ভ মেলায় সাধু সন্তদের দ্বারা অনুমোদিত হয়।

পুরোনো কথা মনে করে তিনি বলেন বাবরি মসজিদ ধ্বংসের আগে সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রী পি ভি নরসিমা রাও তাকে ডেকে পাঠান। তিনি জানতে চেয়েছিলেন যে মন্দির এবং মসজিদ উভয় কে রেখেই কোনো বিকল্প নক্সা তিনি তৈরি করতে পারবেন কিনা।তার পর তিনি মসজিদের তিনটি ডোমকে একইরকম রেখে তার পাশে মন্দির স্থাপন করার নক্সা তৈরি করেছিলেন কিন্তু সেই বিষয় মত দেয়নি বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। তাদের বক্তব্য ছিল সঠিক স্থানে মন্দির তৈরি না হলে সেই মন্দিরের তাদের কাছে মন্দিরের কোনো গুরুত্ব নেই। সেটি সরযূর তীরে বা আমেদাবাদে হতে পারে।

বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর রামের জন্মস্থানে এই প্রকল্পের গতি বৃদ্ধি পায় এবং ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ এর মধ্যে তার কাজ সম্পূর্ণ গতিতে চলতে শুরু করে। কিন্তু সেই সময় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অর্থ কোষে টান সহ বিভিন্ন মামলার চাপ এসে পড়ায় কাজের গতি ধীর হয়ে যায়। বিগত নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর আবার গতি পায় নির্মাণ কাজ। এখন মন্দির নির্মাণের দায়িত্ব চন্দ্রকান্ত বাবুর পুত্র আশীষ এবং নিখিলের ওপরই আছে যার সাথে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার আরেক পুত্র আশুতোষ যোগ দিয়েছেন।

পুত্র আশীষের ঘারেই এখন আছে এই মন্দির নির্মাণের মূল দায়িত্ব। এর আগে তিনি মুম্বাইয়ের আন্টিলায় আম্বানিদের ব্যক্তিগত মন্দির তৈরি করেছিলেন। এই কিংবদন্তি পরিবার অক্ষরধাম মন্দির এবং লন্ডনের এই অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামী নারায়ন মন্দির তৈরি করেছিলেন তাহলে এক্ষেত্রে একটা কথা বলাই যায় যে অযোধ্যায় তৈরি হওয়া রাম মন্দির একটি অসাধারণ স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে গড়ে উঠবে।