অন্ধ হয়েও অজস্র বেকারদের দিয়েছেন কাজ, সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে শ্রীকান্তের জীবনকাহিনী

জন্মান্ধ হয়েও ৫০ কোটি টাকার মালিক! বহু বেকারকে কাজ দিয়েছেন অন্ধ শ্রীকান্ত

Meet Srikanth Bolla Denied the IIT dream due to blindness but built a multi-crore business

কোনও কোনও মানুষের জীবনের গল্পটা সিনেমার গল্পকেও ছাপিয়ে যেতে পারে। অন্ধপ্রদেশের মছলিপত্তনমের বাসিন্দা শ্রীকান্ত বোল্লার জীবন কাহিনীটা সিনেমার থেকেও সুন্দর, সিনেমার থেকেও বেশি টানটান উত্তেজনাময়। শ্রীকান্ত অন্ধ হলেও অক্ষম ছিলেন না। আজ নিজের একটি কোম্পানি খুলে সেখানে আর পাঁচজন বেকারকে চাকরি দিয়ে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন। তবে এই পথে আসতে গিয়ে তাকেও অনেক বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। আজ তার জীবনের গল্পটাই শোনাব এই প্রতিবেদনে।

শ্রীকান্ত বোল্লা (Srikanth Bolla) অন্ধপ্রদেশের মছলিপত্তনমের সিতারামপুরমে এক দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান। অভাবের সংসারে একজন জন্মান্ধ শিশুর প্রতিপালন করে তাকে বড় করে তোলা পরিবারের জন্য ছিল যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। অনেকেই অনেক রকমের পরামর্শ দিয়েছিলেন বাবা-মাকে। তবে বাবা-মা ছেলেকে নিয়েছিলেন আশাবাদী। তাই তারা কারও কথায় কান দেওয়ার বদলে শুধু ছেলেকেই মানুষ করার দিকে মন দিয়েছেন।

ছোট থেকেই শ্রীকান্ত ছিলেন মেধাবী। তিনি মাধ্যমিকে দুর্দান্ত ফল করেছিলেন। উচ্চ মাধ্যমিকে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার শারীরিক অক্ষমতার জন্য তাকে স্কুলে বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে দেওয়া হচ্ছিল না। এই সময় দমে যাননি শ্রীকান্ত। তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালত তার পক্ষে রায় দেয়। তবে তাকে জানানো হয়েছিল তার পড়াশোনা থাকবে নিজের দায়িত্বে। অর্থাৎ বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনার জন্য তার কোনওরকম কোনও ক্ষতি হলে স্কুলকর্তৃপক্ষ তার জন্য দায়ী থাকবে না।

সব শর্ত মেনে নিয়েই বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন শ্রীকান্ত। এরপর তিনি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু তার শারীরিক অক্ষমতার দোহাই দিয়ে তার আবেদন বাতিল করে দেওয়া হয়। কিন্তু শ্রীকান্ত দমে যাওয়ার পাত্র ছিলেন না। তিনি আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে প্রথম আন্তর্জাতিক অন্ধ ছাত্র হিসেবে পড়াশোনা করার সুযোগ পান। এরপর তিনি কয়েক বছরের জন্য আমেরিকার কর্পোরেট সংস্থায় কাজ করেন।

কিন্তু দেশের টানে তিনি ফিরে আসেন ভারতে। সেই সময় তিনি দেশেই কিছু নতুন শুরু করতে চাইছিলেন। কিন্তু তার কাছে যথেষ্ট অর্থ ছিল না। তখন তিনি দেশের অন্যতম নামী ধনকুবের রতন টাটার সাহায্য পান। শ্রীকান্ত রতন টাটার সাহায্য নিয়ে বোলান্ট শিল্প তৈরি করেন। তার কোম্পানিতে পুরনো প্লাস্টিক ব্যবহার করে ক্রাফট পেপার বানানো হয়। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই নিজের পরিশ্রম এবং বুদ্ধির জোরে কোম্পানিকে সফলতার জায়গায় দাঁড় করিয়ে দেন শ্রীকান্ত।

তিনি তার সংস্থায় শারীরিকভাবে অক্ষমদের কাজ দিতে শুরু করেন। আজ এভাবে কাজ করে তিনি ৫০ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। তার জীবনকাহিনী অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার মত। তাই এবার তার জীবন কাহিনী অবলম্বনে বলিউড একটি বায়োপিক বানাতে চলেছে। বলিউড সূত্রে খবর, শ্রীকান্তর ভূমিকায় অভিনয় করবেন রাজকুমার রাও।