রেলের বিভিন্ন প্রতীক চিহ্ন যেগুলো আমরা প্রতিদিন দেখি তাদের অর্থ

গন্তব্যস্থলে দ্রুত পৌঁছানোর অন্যতম মাধ্যম ট্রেন। ট্রেনে চড়ার সময়ে আমরা বিভিন্ন চিহ্ন ও প্রতীক দেখতে পাই। অনেকসময় তার মানে আমাদের কাছে জানা থাকে আবার নাও থাকে। এখন দেখা যাক ট্রেনের বিভিন্ন প্রতীকের ব্যবহারের কারণ ও মানে কি-

১. সতর্কতা সূচক বোর্ড- বোর্ডে থাকা ডানদিক ও বাম দিকের অ্যারো চিহ্ন আসসলে সতর্কতা সূচক। স্থায়ী বা অস্থায়ী বাবে যখন রেল লাইনের কাজ চলে তখন এটি বিশেষ ভাবে নির্দেশ দেয়। এটিকে ট্রেন চালকদের গতিবিধি নিরিনায়য়কও বলা যেতে পারে। অ্যারো চিহ্নের মাধ্যমে যে লাইনে কাজ হয় তা বোঝা যায়। এই বোর্ডগুলি সাধারণত কালো বা হলুদ রং-য়ের হয়। আগে শুধু লাইটের দুটো রং ব্যবহৃত হলেও এখন রাত্রি বা দিনের বেলা বোঝাতে বিভিন্ন রং ব্যবহার হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন : ভারতের নতুন ট্রেন, উদয় এক্সপ্রেস, জেনে নিন সব তথ্য

২. গতিবিধি নির্নায়ক সূচক বোর্ড- ট্রেনে যাতায়াতের সময় ট্র্যাকের পাশে T/G বা T/P লেখা গোল দাগ থাকে। এর ওপরে নির্ভর করে ট্রেনের গতিবিধি। টি জি মানে ট্রেন ফর গু্ডস এবং টি পি মানে ট্রেন ফর প্যাসেঞ্জার। এই বোর্ডটি ট্রেনলাইনের বাঁ দিকে থাকে। এই বোর্ডটি ট্রেনের চালকদের নির্দেশ দেয়, এর ওপর ভিত্তি করেই ট্রেনের গতিবেগ বাড়ায় বা কমায়। বোর্ড দেখা মানে চালক বুঝতে পারেন গতিবিধি বাড়ানো নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এটি সাধারণত আটশ মিটার দূরত্বে থাকে।

আরও পড়ুন : ভারতের সর্বোচ্চ গতির ১০ ট্রেন

৩. সিগন্যাল বোর্ড- ত্রিকোনাকৃতির মাঝে গোল ও হলুদের ওপর কালো দুটি আড়াআড়ি দাগ থাকে। প্রথমটি চালককে মনোযোগ দিতে এবং দ্বিতীয়টি আস্তে বা জোড়ে চালানোর নির্দেশ দিয়ে থাকে। সাধারণত দুটো সাইটিং বোর্ড থাকে- একটি, এটি মালবাহী গাড়ির জন্য যেটি সিগন্যালের 1400 মিটার দূরে থাকে। দুই, এটি প্যাসেঞ্জার ট্রেনের জন্য। সাধারণত 1000 মিটার দূরে থাকে।

৪. ভোঁ বাজার সূচক বোর্ড- ট্রেনের পাশের ট্র্যাকে হলুদেটে বর্গাকার বোর্ড যাতে W, W / L, W / B or C / F লেখা থাকে। ‘ডব্লিউ’ হল একটি সাধারণ হুইল্লি নির্দেশক, যখন ‘ডব্লিউ / এল’ লেভেল ক্রসিংয়ের জন্য হুইসলের জন্য দাঁড়ায়, হিন্দিতে দেখা যায় এই অক্ষরগুলি পিএ’  – ফাতাক।

আরও পড়ুন : ট্রেনের মধ্যেই আস্ত হাসপাতাল, গ্রাম ঘুরে পরিষেবা দেবে লাইফলাইন এক্সপ্রেস

৫. ট্রেনের পিছনে ক্রস চিহ্ন- সাধারণত ট্রেনের শেষের কোচে এই লাল রং-য়ের ক্রস চিহ্ন থাকে। এটি থাকা মানে বুঝতে হবে এর পর আর কোনও কোচ নেই। সাধারণত এক্সপ্রেস ট্রেনের ক্ষেত্রেই এটি বেশি দেখা যায়। তার পাশে একটি লাল ল্যাম্প থাকে যাতে রাত্রে ক্রস চিহ্ন ভালো করে দেখা যায়।

আরও পড়ুন : বায়ো টয়লেট কি?-জানুন এর সম্পর্কে খুঁটিনাটি

৬. শেষ কোচে এলভি লেখা- ট্রেনের শেষ কোচে একটি ছোট বোর্ডে লাল রং-য়ের ইংরাজীতে এলভি লেখা থাকে। পুরো কথা লাস্ট ভেহিকেলস। যদি লেখা না থাকে তাহলে বুঝতে হবে ট্রেন কোনও কোচ মাঝখান থেকে খুলে গেছে। তাই ব্যবস্থা নেওয়াও শুরু হয়।

৭. টানেল সূচক- হলুদ বোর্ডে কালো রং দিয়ে সি,টি লেখা থাকে। এটি থাকা মানে কিছুদূরেই টানেল রয়েছে।

আমাদের প্রতিটি পোস্ট WhatsApp-এ পেতে ⇒ এখানে ক্লিক করুন 

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের ফলো করুন : Facebook Instagram Twitter