ভারতের সমস্ত রাজ্যের নামের অর্থ এবং নামকরণের কারণ

বহু ভাষা-ভাষীর দেশ ভারত। প্রতি রাজ্যের আছে নিজস্ব সাস্কৃতিক লোকাচার। কোনও রাজ্যের নাম বাছতে দেখা হয় সেই নির্দিষ্ট রাজ্যের ইতিহাস, ভাষা কোনও ক্ষেত্রে ধর্মও। রাজ্যবাসী নিজের রাজ্যকে ডাকেন স্বতন্ত্র নামে। বেশীরভাগ রাজ্যের নাম এসেছে সংস্কৃত থেকে। মিশিছে প্রাকৃত এবং বিদেশী শব্দও। তবে মূল মোটামুটি এক। এখানে ভারতের রাজ্যগুলির নামের ব্যুৎপত্তি এবং অর্থের তালিকা তৈরি করেছি আমরা। আলোচনা করা হয়েছে রাজ্যগুলির এমন নামকরণের কারণ নিয়ে।

পশ্চিমবঙ্গ

সংস্কৃত ‘বঙ্গ’ শব্দ থেকে বেঙ্গল শব্দের উৎপত্তি। আবার বিভিন্ন ভাষায় এই শব্দের ভিন্ন সংস্করণ মেলে। যেমন পার্সিতে ‘বাংলাহ’, হিন্দিতে ‘বাঙ্গাল’, বাংলায় ‘বাংলা’। ১৯০৫ সালে প্রথমবার বাংলা ভাগের সময় পশ্চিম বা ‘ওয়েস্ট’ শব্দটির প্রবেশ। ১৯৪৭ সালে দ্বিতীয়বার বঙ্গভঙ্গের সময় ওয়েস্ট বেঙ্গল থাকল ভারতের রাজ্য হিসাবে, বাকি সমস্ত ইস্ট বেঙ্গল নিয়ে তৈরি হল আলাদা একটি দেশ। এখন সেটি বাংলাদেশ।

আসাম

‘অহম’ জনজাতির মানুষেরা একসময় আসাম শাসন করেছেন। তাঁদের নাম থেকেই রাজ্যের নাম আসাম।

Source

অরুণাচল প্রদেশ

সংস্কৃত ‘অরুণ’ শব্দের অর্থ ভোরের আলো। আর ‘অচ’ শব্দের অর্থ পাহাড়। এই দুই শব্দ মিলে অরুণাচল।

মেঘালয়

নামেই মালুম। মেঘের আলয় অর্থাৎ মেঘের আবাসস্থল বা বাড়ি মেঘালয়।

ওডিশা

‘উড়ের দেশ’ উড়িষ্যা। সম্প্রতি এই রাজ্যের নাম বদলে হয়েছে ওডিশা।

কর্ণাটক

‘করু’ শব্দের অর্থ নাকউঁচু বা অহংকারী। ‘নড়’ শব্দের অর্থ জমি বা জায়গা। ‘করু’ এসেছে কন্নড় থেকে। কন্নড়দের বাসস্থান কর্ণাটক।

Source

 

সিকিম

লিম্বু জনজাতির প্রভাব আছে সিকিম নামে। ‘সু’ অর্থে নতুন এবং ‘খিয়াম’ অর্থে প্রাসাদ।

মণিপুর

রত্নের দেশ বলা হয় মণিপুর কে। তাই এই নাম

চন্ডিগড়

দেবী চণ্ডীর নাম থেকে এই রাজ্যের নাম চণ্ডীগড়। বিশ্বাস, রাজ্যবাসীকে সুরক্ষিত রাখেন দেবী।

দিল্লি

এই নামটি কীভাবে এসেছে সে ব্যাপারে অনিশ্চয়তা আছে। হিন্দীতে ‘ধিল্লি’ শব্দের অর্থ হারানো। তোমর রাজত্বের কিছু মুদ্রায় ‘দিল্লিওয়াল’ নাম পাওয়া যায়। আবার অনেকে বিশ্বাস করেন দিল্লিকা থেকে দিল্লি নামটি এসেছে।

লাক্ষাদ্বীপ

হাজার-লক্ষ দ্বীপ থাকায় নাম লাক্ষাদ্বীপ।

পণ্ডিচেরী

পুদুচেরী নামেও অনেকে ডাকেন। তামিল ‘পুদু’ শব্দের অর্থ নতুন এবং ‘চেরি’ শব্দের অর্থ বন্দোবস্ত। দুয়ে মিলে পুদুচেরী বা পণ্ডিচেরী।

Source

কেরালা

সংস্কৃত ‘কেরলাম’ শব্দের অর্থ যে জমি যোগ করা হয়েছে। অন্য মতে, ঋষি পরশুরাম সমুদ্রের কাছ থেকে এই জমিটুকু উদ্ধার করেছিলেন। তাই এই রাজ্যের নাম কেরালা।

তামিলনাড়ু

এই নামের অর্থ, তামিল জনগণের স্বদেশভূমি।

জম্বু ও কাশ্মীর

রাজা জম্বু লোচনের নাম থেকে রাজ্যের নাম হয়েছে জম্বু। ‘কাশ্মীর’ শব্দের অর্থ, জল থেকে শুকিয়ে নেওয়া জমি।

Source

মিজোরাম

‘মি’ শব্দের অর্থ মানুষ এবং ‘জো’ শব্দের অর্থ পার্বত্যঅঞ্চল। দুয়ে মিলে পার্বত্যঅঞ্চলের অধিবাসীদের মিজোরাম বলা হয়।
অন্ধ্রপ্রদেশ

ঝাড়খণ্ড

সংস্কৃত ‘ঝাড়’ শব্দের অর্থ জঙ্গল বা বন এবং খণ্ড অর্থ ল্যান্ড বা মাটি বা জায়গা। তাই এই রাজ্যকে বনাঞ্চল নামেও ডাকা হয়।

বিহার

এটাও সংস্কৃত শব্দ ‘বিহার’ থেকে এসেছে। যার অর্থ বাড়ি বা গৃহ।

উত্তরপ্রদেশ

নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে ভারতের উত্তরে এই রাজ্যের অবস্থান।

উত্তরাখণ্ড

উত্তরাঞ্চলের নতুন রাজ্য উত্তরাখণ্ড শব্দের অর্থ উত্তরের পাহাড়। ২০০০ সালে উত্তরপ্রদেশের একটা অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে তৈরি হয় এই রাজ্য।

মহারাষ্ট্র

Source

সংস্কৃত ‘অন্ধ্র’ শব্দের অর্থ দক্ষিণ। দক্ষিণের রাজ্য বলে নাম অন্ধ্রপ্রদেশ। এখন অন্ধ্র ভেঙে ন্তিন রাজ্য হয়েছে তেলেঙ্গানা। তেলেগু ‘অঙ্গন’ শব্দের অর্থ যেখানকার মানুষ তেলেগুতে কথা বলে।

মধ্যপ্রদেশ

নামেই ভূগোল ধরা আছে। যা আছে মাঝখানে- তাই মধ্য। ভারতের মাঝে বা কেন্দ্রে থাকার জন্য এই রাজ্যের নাম মধ্যপ্রদেশ।

ছত্রিশগড়

মধ্যপ্রদেশের পৃথক অংশ নিয়ে গঠিত এই রাজ্য। মধ্যযুগের ভারতে এটি দক্ষিণ কোশলের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই রাজ্যে আছে ছত্রিশটি প্রাচীন দূর্গ বা প্রাসাদ। তাই রাজ্যের নাম ছত্রিশগড়।

দুটি সংস্কৃত শব্দ থেকে মহারাষ্ট্র শব্দের উৎপত্তি। ‘মহা’ শব্দের অর্থ বিশিষ্ট বা মহৎ। রাষ্ট্র শব্দের অর্থ দেশ। দুয়ে মিলে মহান দেশ বা মহারাষ্ট্র।

গোয়া

মাঝখান বোঝাতে অনেক সময় সংস্কৃতে ‘গাউ’ শব্দের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। সেই থেকে এই নাম আসার সম্ভাবনা আছে। আবার গোয়া নামের পেছনে পর্তুগীজ যোগ উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

Source

ত্রিপুরা

ভারতের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম রাজ্য হল ত্রিপুরা। জানা যায়, ত্রিপুর রাজার নাম থেকেই এই রাজ্যের নাম ত্রিপুরা হয়েছে।

পাঞ্জাব

পাঁচ নদীর দেশ।

রাজস্থান

রাজা অর্থাৎ রাজপুতদের জমি।

গুজরাট

রাজা গুজ্জর-এর নাম থেকে এই রাজ্যের নাম গুজরাট।

আন্দামান ও নিকোবর

আন্দামান শব্দের অর্থ ঈশ্বরের দ্বীপ। এর আসল নাম ‘হন্ডুমান’ যার অর্থ হনুমান। চোল রাজত্বকালে নিকোবরের নাম ছিল ‘নক্কবরম’। তামিল ভাষায় যার অর্থ নগ্ন মানুষ।

Source

নাগাল্যান্ড

নাগাদের বাসভূমি।

হিমাচল প্রদেশ

‘হিম’ শব্দের অর্থ বরফ এবং ‘আচল’ শব্দের অর্থ পাহাড়। তুষারাবৃত পর্বত থেকে এসেছে হিমাচল প্রদেশের নাম।

হরিয়ানা

এই নামের অর্থ ঈশ্বরের দেশ। ‘হরি’ অর্থ বিষ্ণু এবং ‘আনা’ অর্থ আসে আসা। মহাভারতের সময়, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এই স্থানে আসেন। সেই কিংবদন্তি থেকেই রাজ্যের নাম হরিয়ানা।