কোন গণেশ মূর্তির পূজা করলে কী মনস্কামনা পূর্ন হয়, জানুন সবকিছু

গণেশ পুরাণ এবং বিভিন্ন পুরান অনুযায়ী গণেশের নানান অবতারের কথা আমরা জানতে পারি। কোথাও ভগবান গণেশ আসনে উপবিষ্ট অবস্থায় আছে আবার কোথাও ভগবান গণেশ নৃত্যরত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়াও তার নানান মূর্তিতে আমরা দেখতে পাই কোথাও ওনার শুড় ডানদিকে ঘুরে আছে আবার কোথাও শুড় বাম দিকে ঘুরে আছে। আবার সোজা শুড়ের মূর্তিও দেখতে পাওয়া যায়। এইসব প্রতিটি মূর্তি কিন্তু আমাদের জীবনে নানান ভাবে সুখ বয়ে নিয়ে আসে। এই প্রতিবেদনে আমরা ভগবান গণেশের নানা মূর্তির পূজার মাধ্যমে যেসব আশীর্বাদ লাভ করা যায় তা জানানোর চেষ্টা করবো।

গণেশের শুড় আপনার বামদিকে থাকলে

যেসব গণেশ ঠাকুরের শুড় আপনার বাম দিকে থাকবে সেই ধরনের গণেশ ঠাকুর সংসারী মানুষদের জন্য অত্যন্ত শুভ। বাড়িতে এইরপে থাকা গণেশ পূজা করলে  বাড়ির প্রতিটি লোকের সুখ, শান্তি বজায় থাকে। বাড়ির মধ্যে থাকা লোকের মধ্যে মনোমালিন্য কম হয়। ঘরে এরকম মূর্তির পূজা বাস্তুমতে অত্যন্ত শুভ, এইধরনের মূর্তি বাড়িতে পূজিত হলে ঘরের মধ্যে থাকা সকল কুপ্রভাব যুক্ত শক্তি ধীরে ধীরে কমে যায় এছাড়াও পজিটিভ শক্তির বৃদ্ধি ঘটতে থাকে। তবে অবশ্যই দেখে নেবেন গণেশ ঠাকুর যেন দাঁড়িয়ে না থাকে অর্থাৎ বসে থাকা অবস্থায় আছে।

গণেশ ঠাকুরের শুড় ডানদিকে থাকলে

এই ধরণের গণেশ ঠাকুরের মূর্তিকে সিদ্ধিবিনায়ক মূর্তি বলা হয়ে থাকে। এই ধরনের গণেশ মূর্তি মুম্বাইয়ের সিদ্ধিবিনায়ক  মন্দিরে নিত্য পূজিত হয়। এই মূর্তি খুবই জাগ্রত মূর্তি। আপনি যদি ভক্তি ভরে এই ধরনের  গণেশ মূর্তির পূজা করতে পারেন আপনার গৃহের মধ্যে তাহলে সকল রকম বাধা, বিপত্তি থেকে আপনি এবং আপনার পরিবার মুক্ত থাকবে। তবে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, এইধরনের মূর্তি পূজার জন্য বাড়ির সকলকেই নিরামিষভোজী হতে হবে। তাই বাড়িতে এই ধরনের মূর্তি পূজা ভেবেচিন্তেই করবেন।

নৃত্যরত অবস্থায় গণেশ মূর্তি থাকলে

জেনে রাখুন বাস্তুমতে এবং জ্যোতিষ মতে এইধরনের গণেশ মূর্তি বাড়িতে পূজা করার জন্য একদম ঠিক নয়। এইধরনের মূর্তি বাড়িতে এনে পূজা করলে বাড়ির স্বাভাবিক শান্তি বজায় থাকে না। বাড়ির লোকেদের মধ্যে মতের মিল হয় না। সবাই উগ্র মানসিকতার হয়ে থাকে। এইধরনের মূর্তি ঈশ্বরের অনিয়ন্ত্রিত শক্তির প্রতীক।

সাধারণত যারা তাদের কাজ কর্মের সঙ্গে ফাটকা ব্যবসা যেমন লটারি বা শেয়ার বাজার কাজের সঙ্গে যুক্ত তারা এইধরনের মূর্তি বাড়িতে নিয়ে এসে পূজা করতে পারেন। তবে যে দিন থেকে বাড়িতে এইধরনের মূর্তি বাড়িতে রাখবেন সেইদিনগুলি লটারি বা শেয়ার মার্কেট কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলে হবে না।

গণেশের শুড় লাড্ডু ছুঁয়ে থাকলে

যদি বাড়িতে এমন গণেশ ঠাকুরের মূর্তি নিয়ে আসেন, যেখানে দেখা যায় গণপতি বাপ্পার শুড় লাড্ডু বা মোদককে ছুঁয়ে আছে, এইধরনের মূর্তি বাড়ির সকলের জন্য অত্যন্ত শুভ। এই মূর্তি বাড়িতে এনে পূজা করলে বাড়ির সকল লোকের সুখ শান্তি বজায় থাকবে। বাড়ির মধ্যে শান্তি বজায় থাকবে। বাড়িতে লোকের ঋণের বোঝা আসবে না।ব্যবসায় উন্নতি অবশ্যই হবে যদি ভক্তি ভরে পূজা করেন।তবে অবশ্যই এই ধরনের মূর্তি কেনার আগে দেখবেন অবশ্যই গণেশ ঠাকুর যেন উপবিষ্ট অবস্থায় থাকে।

গণেশ ঠাকুরের শুড় সোজা হলে

এই ধরনের মূর্তি বাড়ির উন্নতির জন্য খুব শুভ। তাই যদি পূজার জন্য মূর্তি নিয়ে আসেন তাহলে এইধরনের মূর্তি অবশ্যই নিয়ে আসতে পারেন। এই ধরনের মূর্তি আপনার উন্নতি বাড়াতে সাহায্য করবে সব রকম দিক দিয়ে। এছাড়াও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে আপনি লাভবান হতে পারবেন। বাড়ির সকলের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। তবে এই ধরনের মূর্তি বাড়িতে রাখলে বাড়ির পরিবেশ খুব পবিত্র রাখতে হবে এবং আমিষ ভোজন বাড়ির মধ্যে কারো করা যাবে না। তাই আপনি বা আপনার পরিবার যদি নিরামিষভোজী হয়ে থাকেন তাহলে এই ধরনের মূর্তি আপনার জন্য একদম উপযুক্ত।

দাঁড়িয়ে থাকা গণেশ মূর্তি থাকলে

দাঁড়িয়ে থাকা গণেশ মূর্তি বাড়ির জন্য একদম উপযুক্ত নয়। এই ধরনের মূর্তি আপনার অফিস বা কাজের জায়গায় পূজা করার জন্য উপযুক্ত। কাজের উন্নতি আনতে এই ধরনের মূর্তি খুবই সাহায্য করে। আপনার কর্মে যেকোন রকম দুশ্চিন্তা দূর করতে সাহায্য করে এই ধরনের দাঁড়িয়ে থাকা গণেশ মূর্তি।

বি:দ্র:- মনে রাখবেন “বিশ্বাসে বস্তু মেলে তর্কে বহুদূর” তাই আপনি উপরের বর্ণিত তথ্য যুক্তি দিয়ে মানবেন না মানবেন না তা আপনাদের একান্তই নিজস্ব ব্যাপার। আমরা এইসব তথ্য আপনার সামনে তুলে ধরেছি মাত্র।