ফেসবুক হোয়াটসআপে আসক্তি নেই এমন পাত্রী চাই, ভাইরাল হল পাত্রের বিজ্ঞাপণ

পাত্র চাই পাত্রী চাই বিজ্ঞাপনে বরাবরই নতুনত্ব থাকে। উল্লেখ থাকে আশ্চর্য সব বৈশিষ্ট্যের কথা। জানিয়ে তর্কে-বিতর্কে শেষ নেই। তবে সত্য ভাইরাল হওয়া ফ্যাট পাত্র-পাত্রী বিজ্ঞাপন এর চাহিদা একেবারে অন্যরকম। বিজ্ঞাপন দেখে হেসে খুন হচ্ছেন সবাই।

হুগলির কামারপুকুরের এক বাসিন্দা  পেশায় আইনজীবী (৩৭) বিয়ের জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। কিন্তু ওই বিজ্ঞাপন একেবারেই ব্যতিক্রমী। তাতে লেখা, “নেশাগ্রস্ত নই। হাইকোর্ট আইনজীবী। একটি গাড়ি রয়েছে। বাবা-মা জীবিত। কামারপুকুরে গ্রামের বাড়ি। ফর্সা, সুন্দরী, লম্বা, রোগা পাত্রীর দাবি নেই। দাবি একটাই পাত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় আকৃষ্ট হলে চলবে না।”

বিজ্ঞাপনটি টুইট করেন স্থানীয় আইএএস কর্মকর্তা নীতিন স্যাংওয়ান। বর্তমান যুগের যুবকের মনের মানুষ খোঁজার চাহিদাও বদলাচ্ছে বলে ওই বিজ্ঞাপন শেয়ার করে লেখেন তিনি। তার টুইট নিমেষেই ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই ওই আইএএস কর্মকর্তার সঙ্গে সহমত পোষণ করে বলেন সত্যিই চাহিদা বদলাচ্ছে। আবার কেউ কেউ মজার ছলে ওই যুবককে শুভেচ্ছাও জানান।

পাত্রের অভিনব চাহিদা শুনে নেটিজেনরা হেসেই খুন সবাই। তবে পাত্রের এই বিজ্ঞাপনে একথা স্পষ্ট যে যুগের সাথে সাথে মানুষও কতখানি যান্ত্রিক হয়ে উঠছেন। রক্তমাংসের মানুষের চাইতে মানুষ এখন যন্ত্রকে বেশি গুরুত্ব দেয়। বিভিন্ন সোশ্যাল সাইট গুলো আমাদের মনের রসদ যুগিয়ে চলে এ কথা সত্যি, তবে কোনো কিছুরই অত্যাধিক ব্যবহার ভালো না। সেটা হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়ায়‌।

একটা সময় মানুষ বই পড়তেন। বইয়ের প্রতি মানুষের বিশেষত বাড়ির মেয়েদের ভয়ঙ্কর রকম আসক্তি দেখা যেত। সারাদিনের সমস্ত কাজ সেরে দুপুরবেলায় খাটের কাছে বসে বা শুয়ে শরৎ চন্দ্রের উপন্যাস পড়তেন মহিলারা। কিন্তু আজ সেই যুগ গেছে। এখনকার প্রজন্ম বই কম মোবাইলে আসক্ত বেশি। নিজের পরিবার পরিজনকে সময় দেওয়ার বদলে ফেসবুক, টুইটার হোয়াটসঅ্যাপ নিয়েই মেতে থাকে এখনকার প্রজন্ম।

এমনও দেখা যায় যে স্বামী ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরেছেন তাকে জল দেওয়ার বদলে ফেসবুকে মিম শেয়ার করছেন স্ত্রী। বা বৃদ্ধ মা খাট থেকে থেকে গড়িয়ে পড়ে গেছেন মেয়ে তখনও হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসেই মগ্ন তাই বিয়ের ক্ষেত্রে অনেকেই পছন্দ করেন না যে তাদের স্ত্রী এইসব সোশ্যাল সাইটগুলোতে অধিকমাত্রায় আসক্ত হন। তবে এই রকম খোলাখুলিভাবে প্রকাশ্যে কোনও পুরুষই হয়তো এর আগে নিজের অভিনব চাহিদার কথা বলেননি।

আরও পড়ুন : স্বামীকে ছেড়ে ১৫ বছরের ছোট নিজের ছেলেকে বিয়ে করলেন মা

বড়জোর লাভ ম্যারেজ বা অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ এর পরিচয় পর্বে কায়দা করে মেয়ের লাইফস্টাইল জানার মধ্য দিয়ে জেনে নেন মেয়ে আদপে অনান্য কাজ গুলো কতক্ষণ করে আর কতক্ষন মোবাইল ঘাঁটে! কিন্তু এই পাত্র একেবারেই ঠোঁটকাটা স্পষ্টবাদী মানুষ। না হলে পাত্রী চাই বিজ্ঞাপন কেউ এমন কথা লেখে!