করোনা মুক্ত হওয়ার কতদিন পর শরীর মিলনের জন্য স্বাভাবিক হয়

করোনা ভাইরাসের প্রকোপ এখন সর্বত্র। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে ব্যাক্তির অজান্তেই সে করোনা আক্রান্ত হচ্ছে আবার সেরেও যাচ্ছে। ফলে মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে করোনা সংক্রমণের কতদিন পর স্বাভাবিক জীবনে ফেরা যাবে? বিভিন্ন মানুষের ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা আলাদা রকম ভাবে প্রকাশ পাচ্ছে।

উদাহরণ স্বরূপ উত্তরবঙ্গের এক চিকিৎসকের কথা বলা যেতে পারে। তিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে কলকাতার হাসপাতালে ভর্তি হন। ভর্তি হওয়ার কিছুদিনের মধ্যে উপসর্গ কমে গেলেও পর পর সাত বার তার আরটিপিসিআর রিপোর্ট পজিটিভ আসে। অষ্টমবারের যখন নেগেটিভ রিপোর্ট আসে ততদিনে ৪০ দিন পেরিয়ে গেছে।

আবার অন্যদিকে কলকাতার এক চিকিৎসকের উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর তিনি কোয়ারেন্টাইনে চলে গেলেও পরীক্ষার রিপোর্ট আসে নেগেটিভ। কিন্তু উপসর্গ থাকায় তিনি আবারও টেস্ট করান, আবার একই রিপোর্ট – নেগেটিভ। কিন্তু কিছুদিন পর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে তার অবস্থার এমনই অবনতি হয় যে তাকে আইসিইউ তে ভর্তি করাতে হয় এবং দেখা যায় নিউমোনিয়া সংক্রমন মারাত্বক পর্যায় গেছে এবং এইবার করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ!

এইরকম পরিস্থিতিতে মানুষ বুঝে উঠতে পারছেন না কখন রোগ হলো বা কখন সেরে গেলো! তার ওপর কালোবাজারি তো আছেই, ফলে ভুয়ো পরীক্ষাকেন্দ্র এবং ভুয়ো রিপোর্ট দুটোই চলছে পুরো দমে। সুতরাং এমন অবস্থায় মানুষ বিভ্রান্ত যে কোন রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে কাজগুলো সাজিয়ে রাখবেন? কতদিন আরামের পর কাজে যোগদান? আপনজনদের কাছে যাওয়াই বা কতদিন পর?

করোনা পরীক্ষার ফলাফল কি হবে তা মূলত নির্ভর করে যখন পরীক্ষা করা হচ্ছে সেই নির্দিষ্ট সময় শরীরে ভাইরাস লোড ( ভাইরাসের পরিমাণ) কত তার ওপর। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করালে রোগ নিয়ন্ত্রণে যেমন খুব একটা সমস্যা থাকেনা তেমনই প্রশ্ন ওঠেনা স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সময়সীমা নিয়েও।

কোনও করোনা আক্রান্ত ব্যাক্তির জ্বর বা শ্বাসকষ্ট তিনদিন যদি পর পর না থাকে সেক্ষেত্রে তাকে ছুটি দেওয়া হয়। কিন্তু সেক্ষেত্রে রোগীকে বাড়ি গিয়ে পরবর্তী সাত দিন সবার থেকে আলাদা থাকতে বলা হয়। তার পরেও যদি কারোর ক্লান্তি থাকে তাকে বিশ্রাম নিতে বলা হয়। অনেকের ক্ষেত্রে কাশি বা অ্যালার্জি এর মতন উপসর্গ দেখা যায়। সেক্ষেত্রে উপসর্গ ভিত্তিক ওষুধ দেওয়া হয়। তবে সেই সময় রোগীর আর সংক্রমন ছড়ানোর ক্ষমতা থাকেনা। শরীরে দিলে সেই ক্ষেত্রে তিনি মাস্ক পরে অফিসেও যেতে পারেন।

করোনামুক্ত হওয়ার কতদিন পর শরীর স্বাভাবিক হয়

একবার যার করোনা সংক্রমন সেরে গিয়েছে অর্থাৎ তার শরীরে করোনা ভাইরাসের সাথে লড়াই করার অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গিয়েছে এবং তিনি আর সংক্রমিত হবেন না। সুতরাং তার থেকে সংক্রমন ছড়ানোর আশঙ্কাও নেই। তাহলে প্রশ্ন উঠছে সেরে যাওয়ার পড়েও মাস্কের প্রয়োজনীয়তা কি?

এখনও পর্যন্ত গবেষণা থেকে যে তথ্য সামনে এসেছে তাতে জানা যাচ্ছে অ্যান্টিবডি ১৫ দিন থেকে তিন মাস পর্যন্ত কার্যকর থাকে কোনো ব্যাক্তির শরীরে। এক্ষেত্রে যেদিন থেকে করোনা এর উপসর্গ ধরা পড়েছে বা করোনা ভাইরাসের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে সেই দিনটিকে ধরা হয়। এক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় যে কারোর ক্ষেত্রে সেটি ১৫ দিন এবং কারোর ক্ষেত্রে তা ৩ মাস সেটা নিশ্চিত ভাবে বলা যায়না।

স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কে করোনা ভাইরাসের প্রভাব

সিমেনে করোনা ভাইরাসের হদিশ পাওয়ার পর থেকেই কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে বিজ্ঞানীদের। জানা যাচ্ছে শরীর থেকে ভাইরাস চলে যাওয়ার পরেও সিমেনে ভাইরাস থেকে যায়। সেক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হলে করোনা সংক্রমন  ঘটতেই পারে। তবে সিমেনে করোনা ভাইরাসের হদিশ পাওয়া গেলেও তা সংক্রমন ছড়াতে সক্ষম কিনা তা এখনও নিশ্চিত ভাবে জানা যায়নি। তাই স্বাভাবিক সম্পর্কে কোনো সমস্যা না থাকলেও সেক্সের সময় কণ্ডম ব্যাবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

ডাক্তার এলেক্স জর্জ এবং আলিক্স ফক্স এক সাক্ষাৎকারে বিবিসিকে জানিয়েছেন, স্বামী এবং স্ত্রী পরিচিত গণ্ডির মধ্যে থাকলে যৌন মিলন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার তেমন কোন কারণ নেই। তবে এই মুহূর্তে নতুন কোনও সঙ্গীর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যিনি করোনা মুক্ত হয়েছেন তার কোনও সমস্যা না থাকলেও তিনি অপরজনকে সংক্রমিত করতে পারেন। মাস্টারবেশন এই অতিমারীর সময়ে সব থেকে নিরাপদ একটি যৌন ক্রিয়া। তবে মাস্টারবেশন এর আগে সেক্স টয় ভালো করে ধোয়া এবং মাস্টারবেশন পর হাত ধোয়া অত্যন্ত জরুরি।