ভারতীয় সেনার হাতে ‘MPATGM’ মিসাইল! সফল পরীক্ষায় চমকে গেল পাকিস্তান

73

পরীক্ষামূলক ভাবে বৃহস্পতিবার পোর্টেবল ট্যাংক-বিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ‘MPATGM’ ব্যবহার করে দেখল ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন। পরে DRDO-র তরফে দাবি করা হয়েছে, পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গেই উত্তীর্ণ এই মিসাইল।  শক্তিশালী অ্যান্টি ট্যাঙ্ক মিসাইলের সফল পরীক্ষা করল ভারত৷

ডিফেন্স রিসার্চ অ্যাণ্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন বা ডিআরডিওর এই সফল পরীক্ষায় পাকিস্তানের বুকে যে কাঁপন ধরবে, তা বলাই বাহুল্য৷ এই অ্যান্টি ট্যাঙ্ক মিসাইলটি মানুষের বহনযোগ্য হওয়ায়, খুব সহজেই এটিকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে যাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে৷

বৃহস্পতিবার রাজস্থানের বালিয়াড়িতে এই মিসাইল পরীক্ষাটি হয়৷ অ্যান্টি ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল বা MPATGMটিকে রাজস্থানের বালিয়াড়িতে পরীক্ষা করা হয়৷ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, এই মিসাইলটি ওজনে অত্যন্ত হালকা৷ ফলে খুব সহজেই বহনযোগ্য৷ এই মিসাইলে রয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, যাতে রাডারের মত দ্রুত নিশানা স্থির করা যাবে৷

MPATGM থার্ড জেনারেশন মিসাইল৷ যাতে উচ্চ মাত্রার বিস্ফোরক বহনের ক্ষমতা রয়েছে৷ ২.৫ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করতে পারে এই মিসাইল৷ ২০২১ সালের মধ্যে এই ধরণের মিসাইলের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে৷ মিসাইলটি ডিজাইনের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে৷

জানা গিয়েছে, ভারতীয় সেনার পদাতিক বাহিনীর কথা ভেবেই দেশীয় প্রযুক্তিতে এই অ্যান্টি-ট্যাংক মিসাইল বানিয়েছে ডিআরডিও। এক একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২ থেকে ৩ কিলোমিটার। DRDO জানিয়েছে, দু’টি ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে ‘MPATGM’। এই মিসাইল এতটাই হালকা, বহন করতে জওয়ানদের সমস্যা হবে না।

Read More : পাকিস্তানের প্যান্ট ভেজাচ্ছে ভারতের এই মিসাইল! জেনে নিন এর ক্ষমতা

এর আগে ১১ মার্চ পরপর দু’বার পরীক্ষা করা হয়। তিনবারই সফলভাবে মিসাইল উৎক্ষেপণ করা হয়। জানানো হয়েছে ভারতীয় সেনা ব্যবহার করবে এই মিসাইল। এটি একটি মাল্টিপল রকেট লঞ্চার, যা ভারতের মাটিতেই তৈরি হয়েছে। ডিআরডিও-র হাতেই তৈরি হয়েছে এই মিসাইল। ওডিশা উপকূল থেকে দু-দুটি মিসাইলের পরীক্ষা করে ভারত। মাটি থেকে আকাশে শত্রু ধ্বংস করতে এই মিসাইলগুলির পরীক্ষা করা হয়েছে। খুব দ্রুত এই মিসাইলগুলি শত্রুকে ধ্বংস করতে সক্ষম বলেও জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, মিসাইলগুলি আকাশে রাখা কল্পিত শত্রুকে সফল ভাবে আঘাত করেছে৷

ট্যাঙ্ক যুদ্ধে সেনার শক্তি বাড়াতে দেশিয় প্রযুক্তিতে অ্যান্টি ট্যাঙ্ক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ফ্রান্স থেকে ৩০০০ মিলান ২টি অ্যান্টি ট্যাঙ্ক ক্ষপণাস্ত্র কিনছে ভারত। এর জন্য খরচ পড়বে কমপক্ষে ১০০০ কোটি টাকা। এর আগে ২০১৬ সালে এই ধরনের একটি বহনযোগ্য অ্যান্টি ট্যাঙ্ক গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে ডিআরডিও। বুধবার যেটি পরীক্ষা করা হয়েছে সেটি হল তৃতীয় প্রজন্মের। এর প্রথম পরীক্ষা হয় ২০১৪ সালে।