১৯৬২-র যুদ্ধে চীনকে যেভাবে উচিত শিক্ষা দিয়েছিলেন মেজর শয়তান সিং

থার্মোপলির যুদ্ধে ৩০০ সৈন্য নিয়ে স্পার্টান লিওনিডাস যুদ্ধ করেছিলেন বিশাল পারস্য বাহিনীর বিরুদ্ধে। সেই অমর যুদ্ধ গাঁথার মতোই ভারতের মাত্র ১২০ জন্য সৈন্য পাঁচ হাজার চীনা সৈন্যর বিরুদ্ধে লড়েছিল ৬২ সালের যুদ্ধে। যা ঐতিহাসিক রেজাং লা গিরিপথের যুদ্ধ হিসাবে পরিচিত।

এই অসম যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিল কুমায়ুন রেজিমেন্টের মেজর শয়তান সিং। যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল চীনের আকসাই সীমান্ত থেকে অরুণাচল পর্যন্ত। লাদাখের চুশুল উপত্যকা ও বিমানঘাঁটির দায়িত্বে ছিল শয়তান সিংহের চার্লি কোম্পানির ১২০ জন ভারতীয় সৈন্য। প্রায় তিন কিলোমিটার লম্বা ও দুই কিলোমিটার চওড়া রেজাং লা গিরিপথের বিভিন্ন পোস্টে দায়িত্বে ছিল চার্লি কোম্পানির ৭, ৮ ও ৯ প্ল্যাটুন। পাঁচ হাজার সৈন্য নিয়ে চীনা সৈন্য বাহিনী রাত ৩.৩০ আক্রমণ শুরু করে।

এই সৈন্য বাহিনীর পিছনে ছিল আর্টিলারি বাহিনী। যা চীনা বাহিনী ১৪,০০০ ফুট উচ্চতা থেকে ১৮,০০০ ফুট উচ্চতায় তুলে আনতে সক্ষম হয়েছিল। যা ভারত দুর্গমতার কারণে বয়ে আনতে সক্ষম হয়নি। ভারতীয় সৈন্যদের হাতে শুধুমাত্র ছিল রাইফেল, গ্ৰেনেড, মেশিন গান ও বেয়নেট। থারমোপলির গিরিখাতে আটকে পড়ে যেমন মৃত্যু হয়েছিল লক্ষাধিক পারস্য সৈন্যর, ঠিক একইভাবে রেজাং লা গিরিখাতের মৃত্যু ফাঁদে পা দিয়েছিল চীনা বাহিনী।

গত সোমবারের মতোই ৭ নম্বর প্ল্যাটুন বাহিনীর সঙ্গে হাতাহাতি লড়াই হয়েছিল সেদিন। সেই লড়াই রাম সিং একাই বহু চীনা সৈন্যকে মেরেছিলেন। পেয়েছিলেন বীর চক্র। মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও বহু চীনা সৈন্য মারা যায় ভারতীয় সেনাদের হাতে। চীনা বাহিনী সবচেয়ে ক্ষতিগ্ৰস্থ হয়েছিল ৯ নম্বর প্ল্যাটুনের কাছে।

টানা চার ঘন্টা অসম লড়াইয়ে মেজর শয়তান সিংহের নেতৃত্বে এক ইঞ্চি জমি ছাড়েনি ভারতীয় সৈন্য বাহিনী। ততক্ষণে ১২০ জনের মধ্যে জীবিত ছিল মাত্র ২০ জন। হেড কোয়ার্টারকে আরও ৯টি প্ল্যাটুন পাঠাতে বলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

আরও পড়ুন :- মৃত্যুর ৫২ বছর পরও এই ভারতীয় সৈনিকের আত্মা সীমান্তকে রক্ষা করছে

দেহরক্ষী নিহাল সিং ও রেডিও ম্যান রামচন্দ্র যাদবকে তাকে ছেড়ে চলে যেতে বলেন। যদিও রামচন্দ্র যাদব শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃতদেহ নীচে নামিয়ে আনতে সক্ষম হন।

 

চীনা বাহিনী নিহাল সিং সমেত পাঁচজন ভারতীয় সৈন্যকে বন্দি করে নিয়ে যায়। ততক্ষণে ১১৪ জন ভারতীয় সৈন্য মারা গেছে। আর চীনা সেনা মারা যাওয়ার সংখ্যাটা ১৩০০-এর বেশি। তারপর আর এগোতে পারেনি চীনা সেনারা।

আরও পড়ুন :- চীন ভারত যুদ্ধ লাগলে কোন কোন দেশ কার কার পক্ষ নেবে

৬২ সালে লাদাখের রেজাং লা গিরিপথের অসম যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন যিনি তাঁর নাম ছিল শয়তান সিং, রেজিমেন্ট তাকে দিয়েছিল দেবতার মর্যাদা। ভারত তাকে দিয়েছিল পরম বীর চক্র। আর সেই পরম বীর, ভারতের বীর গাঁথার ইতিহাসে পেয়েছিলেন অমরত্বের স্থান।