কয়েকশো বছর পুরনো মন্দির! বামাক্ষ্যাপার সঙ্গে ঘুরে দেখুন মহাপীঠ তারাপীঠের শুটিং ফ্লোর

দরমার বেড়া দেওয়া ঘর, মেঝেতে বিছানো রয়েছে খড়-বিচালি, রয়েছে পঞ্চমুন্ডির আসন! দৃশ্যটা চেনা চেনা ঠেকছে কি? দর্শক এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝে গিয়েছেন কথা হচ্ছে ‘মহাপীঠ তারাপীঠ’ (Mahapith Tarapith) নিয়ে। দীপাবলি উপলক্ষে ‘মহাপীঠ তারাপীঠ’ এর ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’ দর্শকদের ঘুরিয়ে দেখালেন শুটিং সেট।

সদ্য ৭০০ পর্ব ছুঁয়েছে ‘মহাপীঠ তারাপীঠ’। তাও আবার কালী পুজোর দিনেই। স্বভাবতই শুটিং সেটের কলাকুশলীদের মনে বিরাজ করছে ভক্তিভাব। অবশ্য এমনিতেই ‘মহাপীঠ তারাপীঠ’ এর শুটিং সেটটাই এমন যে সেখানে পা রাখা মাত্রই কলাকুশলীরা যেন অন্য জগতে প্রবেশ করেন। ভিডিও মারফত তারা মায়ের সেটের সফর করলেন নেটিজেনরাও। গাইড হলেন সব্যসাচী চৌধুরী (Sabyasachi Chowdhury)।

কালীপূজা উপলক্ষে চ্যানেলের তরফ থেকে তারা মায়ের শুটিং সেট ঘুরে দেখানোর বন্দোবস্ত করে দেওয়া হয়েছে। ভিডিও শুরুতেই দেখা যাচ্ছে আজ থেকে কয়েক শত বছর পুরনো তারা মায়ের মন্দিরের এক ঝলক। আজকের মত মার্বেল বসানো মন্দির নয়, তৎকালীন সময়ের টেরাকোটার নিখুঁত শিল্পকর্ম ফুটে উঠেছে মন্দিরের গায়ে।

প্রদীপের আলোয় আলোকিত তারা মায়ের গর্ভগৃহ। সেখানে লাল জবা ফুলের মালায় সেজেছে বিগ্রহ। মহাশ্মশানের ঠিক মাঝখানটিতে রয়েছে সাধক বামাক্ষ্যাপার ঘর। দরমার বেড়া দিয়ে বানানো সেই ঘরের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে খড়-বিচালি। এই খড়-বিচালির উপরেই চাদর বিছিয়ে নিয়ে সাধককে শুয়ে থাকতে দেখেন দর্শক।

সব্যসাচী লিখেছেন, “কালী পুজোর দিনেই আমরা ৭০০ পর্ব শেষ করলাম। এবং তা করতে আমাদের লাগল দুই বছর নয় মাস। এই দীর্ঘ সময়ে নানা অনিশ্চয়তা এসেছে। বাধা বিপত্তিও। অসুস্থতা গ্রাস করেছে। অতিমারির প্রকোপে লকডাউন হয়েছে। তবু সব বাধা পার করে ‘মহাপীঠ তারাপীঠ’ এই মুহূর্তে স্টার জলসার প্রবীণতম ধারাবাহিক”।

আন্দবাজার অনলাইনের কাছে একটি সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ‘মহাপীঠ তারাপীঠ’ এর পরিচালক শুভেন্দু চক্রবর্তী জানালেন, শুটিং সেটে তৈরি গর্ভগৃহে প্রবেশ করলেই সকলে যেন অন্য মানুষ হয়ে যান। পরিচালক নিজেও দৈবী অনুভূতি টের পেয়েছেন। এমন অনেকবার হয়েছে যে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। তবে শুটিংয়ের সময় আপনা আপনিই বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যায়। দিন থাকে ঝলমলে। শুটিং শেষ হতেই আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি নামে।

বামদেবের পঞ্চমুন্ডি আসন ঘিরেও তৈরি হয়েছে অলৌকিক আবহ। যদিও সেই আসন সেটেই তৈরি করা হয়েছে, তবুও আসন ঘিরে অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করে সকলের মনে। সকলেই বিশ্বাস করেন, একমাত্র সাধকই বসতে পারবেন সেই আসনে। অন্য কেউ বসতে গেলেই বৈদ্যুতিক শক পাবেন! পরিচালকের কথায়, ‘‘শ্যুটের অবসরে কেউ মেঝেয় বসেন। কেউ বসেন বাইরে রাখা চেয়ার বা বেঞ্চে। ভুলেও কেউ বামার পঞ্চমুণ্ডির আসনে বসেন না!’’