এবছর মা দুর্গার আগমন কিসে, বিসর্জনই বা কিসে, এর ফলাফল কী

মাঝে আর মাত্র ৯৭ দিনের অপেক্ষা। তারপরেই বাঙালি তাদের সব থেকে বড় উৎসব, দুর্গোৎসব নিয়ে আনন্দে মেতে উঠবে। তবে বাঙালির উৎসবের আনন্দ এবারও মাটি করে দিতে পারে করোনার তৃতীয় ঢেউ। গত ২০২০ এর দুর্গা পুজোতেও কার্যত বাঙালির দুর্গোৎসবের আনন্দে ভাগ বসিয়েছিল মহামারী করোনার প্রথম ঢেউ। সেবার কোনওরকমে নমো নমো করেই মায়ের আরাধনা সারতে হয়েছে বাঙালিকে।

দুর্গোৎসব শুধু বাঙালির কাছে একটি উৎসব নয়, এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাঙালির ঐতিহ্য, আবেগ, সংস্কৃতি। উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে হাজার হাজার মানুষের জীবিকা। প্রতিমা শিল্পী থেকে শুরু করে ফুল ব্যবসায়ী, প্যান্ডেল কর্মী থেকে শুরু করে মিষ্টি, জামা-কাপড়ের ব্যবসায়ীরাও অধীর আগ্রহে পুজোর এই মরসুমের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। দুর্গোৎসবের এই মরসুমে অনেকেরই সারা বছরের উপার্জন নির্ভর করে থাকে। তবে গতবছর থেকেই দুর্গোৎসবের আনন্দে কাটছাঁটের পাশাপাশি সাধারণের জীবন এবং জীবিকার উপরেও ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে করোনা।

এবারেও কার্যত তার অন্যথা হবে না বলেই আশঙ্কা করছেন বাংলার কোটি কোটি মানুষ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, পূজার সময়কালেই করোনার তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়বে দেশে। ফলে আসন্ন দুর্গাপুজোতে কতখানি আনন্দ করতে পারবে বাঙালি, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তার উপর আবার পঞ্জিকা থেকেও মায়ের আগমন সম্পর্কে বিশেষ কোনও শুভ বার্তা পাওয়া যাচ্ছে না!

প্রতিবছর আশ্বিন মাসের সপ্তমী তিথিতে ধরাধামে অবতীর্ণ হন মা দুর্গা। দশমীতে বিসর্জন, মা ফিরে যান স্বর্গে। স্বর্গ থেকে মর্তে এই আসা-যাওয়ার জন্য কোনও বার গজ বা হাতিতে , কোনও বার ঘোটকে বা ঘোড়ায়, কখনও আবার দোলায়, কখনও নৌকা বেছে নেন মা। আর মায়ের এই আসা-যাওয়ার জন্য নির্বাচিত যানের উপর নির্ভর করেই মর্তের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে বলে বিশ্বাস শাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের। আবার একই যানে যাতায়াত হলেও আগামী বছরে খারাপ প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হয়। গতবছর যেমন মায়ের যাওয়া এবং আসা, দুটোই হয়েছিল ঘোড়ায়। তারপর থেকেই দেশে জাঁকিয়ে বসে করোনা।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, চলতি বছরে মায়ের আগমন হতে চলেছে দোলায়। আর পঞ্জিকা মতে, দোলায় চড়ে মায়ের আগমন হলেই ধরাধামে মড়ক লাগবে। ফলে স্বভাবতই আতঙ্কে দিন গুনছেন সনাতন ধর্মে বিশ্বাসীরা। করোনার কারণে গত বছর থেকে এমনিতেই নাজেহাল সাধারণ মানুষ। গতবছর কোন রকমে মায়ের আরাধনা সারার পর অনেকেই আশা করেছিলেন যে চলতি বছরের দুর্গাপুজোতে তারা জাঁকজমক করেই মায়ের আরাধনা করবেন। তবে সেই আশায় কার্যত জল ঢালছে পঞ্জিকা।

সেই অনুযায়ী চলতি বছরে সপ্তমীর দিন দোলায় চড়ে আগমন হচ্ছে মায়ের। এদিকে আবার শাস্ত্রমতে বলে “দোলাং মড়কাং ভবেৎ”, অর্থাৎ মায়ের দোলায় আগমন হলে মর্তে মড়ক লাগবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা যুদ্ধের কারণে প্রবল প্রাণহানির আশঙ্কা থেকে যায়। এদিকে আবার মা ফিরে যাবেন নৌকায় চড়ে। নৌকায় চড়ে মায়ের গমন হলে তা বন্যার ইঙ্গিত দেয়। সব মিলিয়ে চলতি বছরের দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে বাঙালির মনে আশঙ্কা দানা বেঁধেছে।

আরও পড়ুন : মা দুর্গার প্রতিমা বানাতে বেশ্যালয়ের মাটি লাগে কেন?

প্রসঙ্গত, দেবী দূর্গার গমনাগমন ‘ঘটক’-এ অর্থাৎ ঘোড়ায় চড়ে হলে মর্তে চরম বিশৃঙ্খলা এবং ক্ষয়ক্ষতি সম্ভাবনা থাকে। নৌকায় চড়ে গমনাগমন হলে একদিকে যেমন বন্যার আশঙ্কা থাকে, অপরদিকে তেমনই ভালো ফসল হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। তবে দেবীর গজে আগমন সবথেকে শুভ বলে মানা হয়। এতে সুজলা, সুফলা, শস্য-শ্যামলা হয় পৃথিবী, সুখ স্বাচ্ছন্দ্যে ভরে ওঠে মর্ত্যবাসীর জীবন।

আরও পড়ুন : পাঁজি দেখার দরকার নেই, মা দুর্গা কীসে আসবেন জেনে নিন সূত্র