অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ না লাভ ম্যারেজ, কোনটা বেশী ভালো?

অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ না লাভ ম্যারেজ, কোনটা বেশী ভালো?

বিয়েতে দুপক্ষই একে অপরের পরিচিত। নিজেদের ভালোটা নিজেরা ছাড়া কে আর বুঝবে! কিন্তু মা-বাবা যে সন্তানকে সবচেয়ে ভালো চেনেন। সন্তানের ভালোর জন্য অভিভাবকেরাই সব থেকে ভালো সঙ্গী নির্বাচন করতে পারবেন। তাই কী?

অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ এবং লাভ ম্যারেজ নিয়ে বিতর্ক বহু পুরনো। আমরা সবাই জানি কখনওই নিখুঁত সঙ্গী নির্বাচন করা যায় না। আদর্শ বন্ধন বলেও কিছু হয় না। বরং নিজেদের পার্থক্যগুলি উপভোগ করতে পারলেই দাম্পত্য সম্পর্কে বাঁধন তৈরি হয়। কিন্তু সেটা অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ না লাভ ম্যারেজ, বোঝা যাবে কিসে?

অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ না লাভ ম্যারেজ, কোনটা বেশী ভালো?

লাভ ম্যারেজ এর উপকারিতা

– একে অপরের পরিচিত এবং সারাজীবন একসঙ্গে কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুজনে।
– উভয়ের পছন্দ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকায় ভবিষ্যতের দায়ভার সম্পূর্ণভাবে তাদেরই।
– একে অপরের পছন্দ এবং অপছন্দ সম্পর্কে সচেতন।
– যৌতুকের মতো সামাজিক বিদ্বেষ থেকে দূরে থাকার স্বাধীনতা তাঁদের রয়েছে।
– নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়াতে দম্পতি নিজেরা সময় ব্যয় করতে পারে।

আরও পড়ুন :- হিজড়েরাও বিয়ে করেন! কিন্তু তাদের বিয়ের পদ্ধতি জানলে চমকে যাবেন

অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ এর উপকারিতা

– শুধু দুটো মানুষ নয় অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ দুটি পরিবারের বন্ধন।
– শুধু বুঝে নেওয়া নয় একে অপরের উপযুক্ত হলে তবেই দুই পরিবার অ্যারেঞ্জ ম্যারেজের মতো সম্পর্কে এগোয়।
– অ্যারেঞ্জ ম্যারেজে অনেক মানুষের উপস্থিতি থাকায় দাম্পত্য দ্বন্দ্ব উপস্থিত হলে তা মেটাতে এগিয়ে আসেন অন্যরা।
– অভিভাবকেরা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় অংশগ্রহণ করেন। লাভ ম্যারেজে যা অনুপস্থিত।

আরও পড়ুন :- বিয়েতে বর-কনেকে সাত পাকে ঘোরানো হয় কেন?

শেষ কথা

লাভ এবং অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ, দুটোরই ভালো ও খারাপ দিক আছে। আছে সুবিধা এবং অসুবিধা। তাই কোন ম্যারেজ ভালো সেটা নির্দিষ্ট মানুষের ওপর নির্ভর করে। লাভ না অ্যারেঞ্জ, তার ওপর বিয়ে টেঁকে না। বিয়ে টেঁকে একে অপরের বোঝাপড়ার ওপর। মনে রাখা দরকার, নিখুঁত বা আদর্শ বলে কিছু হয় না। বিয়েও জীবনের মতোই, অনিশ্চয়তায় ভরা।

অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ কেন দীর্ঘস্থায়ী হয়?

অ্যারেঞ্জ ম্যারেজে পাত্র-পাত্রী একে অপরের সঙ্গে বিয়ের আগে খুব কমই পরিচিত থাকে। একে অপরের সম্পর্কে কম জানেন। যতদিন যেতে থাকে তারা আস্তে আস্তে একে অপরকে চিনতে পারে এবং নতুনভাবে আবিষ্কার করতে পারে। তাই নতুন কিছু খুঁজে পাওয়া তাদের মধ্যে আনন্দের মুহূর্ত তৈরি করে। তাই আপনার জীবনে যদি কোনও ভয়ঙ্কর অতীত থেকেও থাকে, তাহলে তা আপনার বিবাহিত জীবনে প্রভাব ফেলে না। আপনি নতুন জীবন শুরু করতে পারেন।

আরও পড়ুন :- ছেলের বিয়ে ঠিক করে পাত্রীর মাকে বিয়ে করে পালালো ছেলের বাবা

যেহেতু অ্যারেঞ্জ ম্যারেজে পাত্র-পাত্রী একে অপরের সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানেন না, সেক্ষেত্রে তাঁদের কাছে একে অপরকে নতুন করে চেনার একটা সুযোগ থাকে। এতে সম্পর্ক আরও ভালো হয়। এবং সঙ্গীকে রোজ রোজ নতুন নতুন ভাবে জানা যায়।