মাধ্যমিকে দশম টিকিট বিক্রেতার ছেলে শুভম রায়

প্রতিভার উন্মেষের জন্য যে অর্থের প্রয়োজন সবসময় হয় না, তা বারে বারে প্রমান করে কিছু মেধাবী। তারা তাদের সাফল্য দিয়ে বারবার আমাদের এটাই মনে পড়িয়ে দেয় যে, অর্থের চেয়ে অধ্যবসায় ও ভালো কিছু করার জেদ সকল প্রতিকূলতাকে ছাপিয়ে  যায়। সাফল্য যেন তাদের কাছে নিজেকে প্রমান করার এক তাগিদ। দারিদ্র্যকে হেলায় হারিয়ে যখন সফলতা মাথায় মুকুটের মতো বিরাজমান হয় তখন তা সবার কাছেই এক অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়ায়।

Photo : Rarh Bangla

আর আজ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হওয়ার পর তা সবার কাছেই প্রমান করে দেখালেন শুভম রায়। বাড়ি বীরভূমের  কৃষ্ণপুর গ্রামে। বর্তমানে  তারা থাকে সিউড়ির সাজানো পল্লীতে। তার মাধ্যমিকে প্রাপ্ত নাম্বার ৬৮০। সে চিনপাই এর  বি. কে. টি. টি. পি বিদ্যালয়ের ছাত্র। এই মেধাবী ছাত্রের পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা প্রায় নেই বললেই চলে। বাবা  পরিমল  রায় পেশায় একজন  লটারি টিকিট বিক্রেতা। শুনে চমকে উঠলেন। না ভুল কিছু শুনেন নি। সারাদিন ধরে মেরেকেটে  খুব জোর হলে ২০০ বা ৩০০ টাকার রোজগার। আর তার পর আছে সংসার চালানোর খরচ।

রোজকার মতো আজও  ভীমমগড়ে টিকিট বিক্রি করে যখন ট্রেনে চেপে বাড়ি যাচ্ছিলেন তখন তার কাছে আসে এই সুখবর। ছেলের এই সাফল্যের দিনে আজ চোখে এসে গিয়েছিল তার জল এই জল আনন্দের জল। এই জল সমাজে তার সম্মান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জল। একজন সামান্য লটারির টিকিট বিক্রেতার ছেলে যে তার ভালো কিছু করে দেখানোর জেদ দিয়ে ভালো কিছু করতে পারে তা আজ আমাদের কাছে করে দেখাল শুভম রায়। বাবার সামান্য আয় দিয়ে তাদের সংসার যে ভালোভাবে চলে না তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই তার ঠাকুরদার কাছে থেকেই পড়াশোনা করেন শুভম সিউড়িতে। যিনি পেশায় একজন সরকারি কর্মচারী হলেও বর্তমানে তার কাজ থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। তার পেনশনের টাকা দিয়েই চলে শুভমের পড়াশোনা। আর তাই শুভম সকল বিষয়ে যে আলাদা আলাদা গৃহশিক্ষক রাখতে পেরেছিল তা কিন্তু নয়। তবুও তার মেধা এবং অধ্যবসায় দিয়ে আজ সেরার তালিকায় দশম স্থান অধিকার করেছে।এছাড়াও বীরভূম জেলার সফল কৃতীদের তালিকায় তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে।

Photo : Rarh Bangla

মেধাবী ও কৃতী ছাত্র শুভমের ভবিষ্যত স্বপ্ন সে বিজ্ঞান বিষয় নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পড়তে চায়। আর তাই সে তার মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার এক মাস  পর থেকেই সেই একাদশ শ্রেণীর বিজ্ঞান  বিষয় নিয়ে  পড়াশোনা শুরু করে দিয়েছে। তার ইচ্চা সে ভবিষ্যৎ জীবনে একজন ডাক্তার হতে চায়। গরীবের দুঃখ সে নিজে উপলব্ধি করেছে আর তাই ভালো ডাক্তার হয়ে গরিব দুঃস্থ মানুষদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে চায় তার ভবিষ্যৎ জীবনে। আজ তার এই সফলতার কাহিনী সারা বীরভূম ছাড়িয়ে রাজ্য ও দেশের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।তাকে তার ভবিষ্যৎ জীবনের সফলতার কামনা করে আমরা চেষ্টা করলে আর্থিক সাহায্য করতে এগিয়ে আসতে পারি। মেধার জয় সর্বত্র এই কথা শুভম তার সাফল্য দিয়ে প্রমান করল।