গণেশের আসল মাথা এখনও রাখা রয়েছে এই গুহায়

পার্বতীর ইচ্ছায় জন্ম হয়েছিল গণেশের। এরপর পার্বতী গনেশকে কৈলাসের দ্বার পাল হিসেবে নিযুক্ত করেন। গণেশ শিবকে কৈলাসে ঢুকতে বাধা দেন। একে অপরের পরিচয় না জেনেই যুদ্ধ শুরু হয়। আর শিব গণেশের মাথা কেটে দেন। এরপর পার্বতীকে শান্ত করতে তিনি হাতির মুন্ড গণেশের ধড়ে স্থাপন করেন‌।

শিব পুরাণ পড়লে জানা যায় শিব বলছেন -“গণেশের ছিন্ন মস্তক অপ্সরাগণ অবশ্যই ধরেছিল, তা এখন কোথায় কে জানে! যা হোক এখন গণেশের দেহ ধুয়ে তাঁর পূজা করো।তারপর উত্তর দিকে গমন করে প্রথমেই যে ব্যক্তির দেখা পাবে তার মস্তক ছেদন করে তা গণেশের দেহে সংযোজিত করবে।”অর্থাৎ মস্তক ছিন্ন করার পরে তা অপ্সরাগণ নিয়েছিলেন কিন্তু তারপর তা কোথায় গেল তার শিব পুরাণে বলা নেই।

পুরাণ মতে গণেশের আসল মুন্ডু এখন কোথায়?

আবার”ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণের” ‘গণপতি খন্ডে’ উল্লেখ আছে- “গণেশের দেহ হৈতে রক্ত বাহিরায়/পতিত মস্তক শীঘ্র গোলকেতে যায়/মস্তক বিলীন হৈল হরির শরীরে/হরি তেজ মিশে গেল হরি কলেবরে।।” অর্থাৎ গণেশের মুন্ড গোলকধাম এ চলে যায় শ্রী হরির কাছে। আর শ্রী হরির দেহের সঙ্গে সেই মস্তক মিশে যায়। গনপতি শ্রী হরির আরেক অংশ। তাই শ্রী হরির এই তেজ  অর্থাৎ গণেশের কাটা মুন্ডু শ্রী হরির শরীরেই মিশে গেল।

এরপর  গণেশের শরীরে হাতির মুন্ড  স্থাপন হলো। পুরাণে এই কথাই উল্লেখ আছে। কিন্তু লৌকিক মতে গণেশের কেটে যাওয়া মনুষ্য মুণ্ডটি কোথায় তা নিয়ে আছে একটি আলাদা গল্প।

লৌকিক মতে গণেশের আসল মুন্ডু এখন কোথায়?

ভারতের উত্তরাখণ্ডের পাতাল ভুবনেশ্বর মন্দির এলে এই লোককথার বিষয় জানা যায়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী এই মন্দিরেই আছে গণেশের কেটে যাওয়া মুন্ড আর সেই মুন্ড স্বয়ং পাহারা দিচ্ছেন দেবাদিদেব মহাদেব।

উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড় থেকে ১৪  কিলোমিটার দূরে ভূবণেশ্বর গ্রাম‌। এই  ভুবনেশ্বর মন্দিরের ভূগর্ভে একাধিক গুহা রয়েছে। আর এই একাধিক গুহা গুলি একটি জায়গায় গিয়ে মিলিত হয়েছে। লোককথা অনুযায়ী এই সকল গুহার মিলনস্থলে যে উঁচু পাথরের ঢিবিটি রয়েছে সেটি গণেশের মনুষ্য মুন্ড।

বলা হয় এই মন্দিরে একজন মানুষ একবারই প্রবেশ করতে পারেন। তাই কোন মানুষ যদি এই মন্দিরের গণেশের মনুষ্য মুন্ড রাখার মূল স্থলে  না গিয়ে মাঝপথ থেকে ফিরে আসেন তাকে আর ওই মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয় না।

আবার এমনটাও বলা হয় যে এই মন্দিরের গুহার দেওয়াল ধরে হাঁটলে পূণ্য অর্জন হয়। এই মন্দিরের গুহার দেওয়াল ধরে হাঁটলে দুঃখ-দুর্দশা দূর হয়‌। সরযু, রামগঙ্গা ও গুপ্তগঙ্গার মিলনস্থলে গড়ে উঠেছে এই মন্দির। এই মন্দির প্রদক্ষিণ করলে পাপ ক্ষয় হয়। শুদ্ধ মনে ভক্তি সহকারে এই মন্দির দর্শন করলে গণেশের কৃপায় সকল বিঘ্ন কেটে যায়।