ভারতের ৪০টি জেলায় পঙ্গপালের হামলা, কতটা ক্ষতি করতে পারে এই পঙ্গপাল

আমফানের রেশ মিটতে না মিটতেই ভারতে হাজিরনতুন বিপদ। ভারতে ঢুকে পড়েছে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এক বিশাল পঙ্গপালের ঝাঁক। আর যার জন্য বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ক’‌দিন আগেই খবর এসেছিল, পঞ্জাবের পাকিস্তান সীমান্ত দিয়ে পঙ্গপাল দেশে ঢুকে পড়তে পারে। সেই আশঙ্কাকে সত্যি করেই মারাত্মক সংখ্যায় পঙ্গপালের আবির্ভাব ঘটেছে।

পঙ্গপালের আক্রমনের জেরে বিঘার পর বিঘা জমির ফসল সাবাড় করে দিয়েছে এই পঙ্গপালের দল। ইতিমধ্যে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে রয়েছেন। একে তো করোনার জেরে লকডাউনের জন্য মহাসমস্যায় পড়েছেন চাষীরা। ফসলের ন্যায্য দাম পাননি। তার মধ্যে এই নতুন বিপদ হাজির। ইতিমধ্যেই পাকিস্তানে জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। ভারতেও বাড়ছে উদ্বেগ।

এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে পাকিস্তান থেকে রাজস্থানে হামলা করে পঙ্গপাল। এবার ধীরে ধীরে রাজস্থান থেকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে অন্যান্য রাজ্যগুলিতে।  রাজস্থান থেকে পঙ্গপালের দল উড়ে গিয়েছে মধ্যপ্রদেশ। মধ্যপ্রদেশ থেকে উত্তরপ্রদেশে। এবার সেগুলি এগোচ্ছে দিল্লি, হরিয়ানার দিকে।

২০১৯ সালেও একবার পঙ্গপালের দল ভারতে হানা দিয়েছিল। সেবারও চাষীদের অনেক টাকার ফসল নষ্ট হয়েছিল। তবে জানা যাচ্ছে, এবারের দলটি গতবারের থেকে তিন গুণ বড়। তাই ক্ষতির আশঙ্কাও বেশি। গত বছর রাজস্থানের ১২টি ৬ লাখ ৭০ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট করেছিল পঙ্গপালের দল। স্থানীয় প্রশাসন কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ড্রোন চেয়েছে। যাতে বেশি জায়গায় নজরদারি চালানো যায়।

কোথায় কোথায় হামলা হতে পারে?

বিশেষজ্ঞদের ধারণা পঙ্গপালের দল হামলা চালাতে পারে আগ্রা, আলিগড়, বুলন্দশহর, মথুরা, ফিরোজাবাদ, হাথরাস, মইনপুরি, এটাওয়া, ফারুক্কাবাদ, অউরিয়া, জালাউন, কানপুর, ঝাঁসি, মাহোবা, হামিরপুর, ও ললিতপুর সহ ১৭ টি জেলায়। পথে যা কিছু সবুজ সমস্ত শেষ করে দিতে পারে পঙ্গপাল সেনা।

পঙ্গপাল কী?

পঙ্গপাল মূলত এক প্রকার পতঙ্গ। আর্কিডিডি পরিবারের ছোটো শিংএর এই পতঙ্গগুলি সাধারণত একা থাকে। তবে বিশেষ প্রয়োজনে তারা সবাই একত্রিত হয়। ঘাসফড়িং এর সাথে পঙ্গপালের পার্থক্যগত শ্রেনীবিন্যাস নেই। তবে পঙ্গপালদের মধ্যে একত্রিত থাকার একটি স্বতন্ত্র প্রবণতা দেখা যায়। একসাথে থাকতে থাকতে এরা সঙ্গলিপ্সু হয়ে পড়ে ও এদের মধ্যে আচরণগত কিছু পরিবর্তন দেখা যায়।

ভারতে পঙ্গপাল কীভাবে আসে?

পঙ্গপালরা সাধারণত সৌদি আরব থেকে মৌসুমি বায়ু চলাচল শুরু হলে ভারতের উদ্দেশে রওনা দেয়৷ রাজস্থান ও গুজরাতে নিয়ম করে প্রতি বছর পঙ্গপাল ভারতে আসে৷ বছরে অন্তত ১০ বার এর ভারতে আসে। কিন্ত ২০১৮ সালে সৌদি আরবে প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় আরবের মরুভূমিতে দুটি ছোট হ্রদেরও জন্ম হওয়ায় পঙ্গপালের আগমন আগের থেকে অনেক কম হয়েছে। কারণ পঙ্গপালরা আরবেই বর্তমানে খাদ্য ও প্রজননের অনুকূল পরিস্থিতি পাচ্ছে৷

ভারতে পঙ্গপাল কোন পথে আসে?

পঙ্গপালগুলি লোহিত সাগর পেরিয়ে ইরান ও পাকিস্তান ঢোকে৷ তারপর এরা পাড়ি দেয় ভারতে৷ সাধারাণত জুলাইয়ে পঙ্গপালরা ভারতে আসে৷ তারপর অক্টোবরে ফের পাকিস্তান ও ইরানের উদ্দেশে রওনা দেয়৷ তাড়াতাড়ি বর্ষা নামলে পঙ্গপালরাও তাড়াতাড়ি আসে৷

এবছর ভারতে পঙ্গপাল হামলার কারণ কি?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পঙ্গপালদের হামলার জন্য দায়ী জলবায়ু। গত দু বছরে আরব সাগরে একের পর এক ঘূর্নিঝড় ও নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়েছে। মাটি ভেজা থাকায় ডিম ফোটার জন্য মনোরম পরিবেশ পেয়েছে পঙ্গপালেরা। পর্যাপ্ত বৃষ্টির জন্য চাষও ভালো হয়েছে ফলে পঙ্গপালদের খাদ্যেরও কোনো অভাব হয়নি।

পঙ্গপাল হামলায় ভারতের কতটা ক্ষতি হবে?

গত বছর পঙ্গপালদের হামলা সামাল দেওয়া গেলেও এবছর পঙ্গপালের হামলা হাতের বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা। তাঁরা বলছেন পঙ্গপাল্পদের আক্রমন আটকানো না গেলে প্রায় আট হাজার কোটি টাকার মুগ ডালের ক্ষতি হতে পারে। ক্ষতি হতে পারে বিপুল অর্থের ফল, সবজি, তুলো ও লঙ্কার।

তাই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য উত্তরপ্রদেশ কৃষি বিভাগ কৃষকদের বিশেষ প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করছেন। আগ্রায় পঙ্গপালদের নিয়ন্ত্রনের জন্য বিশেষ রাসায়নিক স্প্রে ও ২০৪ টি ট্রাক্টর প্রস্তুত রাখা হয়েছে।