বেড়ে গেল লকডাউন, জারি হল বিধিনিষেধ, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

করোনা মোকাবিলায় এবার ওড়িশা, পাঞ্জাব ও দিল্লির পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লকডাউন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠকের পর বিকাল বেলায় লকডাউন বাড়ানোর কথা তিনি ঘোষণা করলেন। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী লকডাউন চলবে আগামী ৩০ শে এপ্রিল পর্যন্ত।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার লকডাউন বাড়ানোর ঘোষণার আগে শুক্রবার রাজ্যের মুখ্য সচিব রাজীব সিনহা জানিয়েছিলেন, “রাজ্যের বেশ কয়েকটি জায়গাকে করোনা হটস্পট হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই সব জায়গাগুলিকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। করোনা মোকাবিলায় এছাড়া আর কোন উপায় নেই।” তবে কোন কোন জায়গাগুলিকে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে সে বিষয়ে মুখ্যসচিব স্পষ্ট করে কিছু জানাননি। কিন্তু শনিবার সকাল থেকেই রাজ্যের বেশ কয়েকটি জায়গাকে মুখ্যসচিবের কথামতো সম্পূর্ণ সিল করতে দেখা গেছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এর আগে একপ্রকার ইঙ্গিত দিয়ে দিয়েছিলেন রাজ্যে লকডাউন বাড়ার বিষয়ে। তবে তিনি বলেছিলেন, “লকডাউন বাড়লেও আমাদের মানবিক হতে হবে। লকডাউনে কড়াকড়ি হোক তবে বাড়াবাড়ি নয়।” এছাড়াও তিনি জানিয়েছিলেন, “আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন আরও বলেন, “৩০ শে এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আজ বৈঠকে জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মতো আমাদের এখানেও ৩০ শে এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন চলবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের সাথে কোনরকম মতবিরোধে যাবো না। পাশাপাশি বাংলায় তিনটে বর্ডার থেকে বাইরে থেকে লোক ঢোকার চেষ্টা করছে তাও জানিয়েছি কেন্দ্রকে।”

লকডাউন থাকলেও সামাজিক দূরত্বের নিয়ম মেনে গম, তেলের মিল চালু থাকবে। খোলা থাকবে বেকারিও। তবে ‘নিয়ম না মানলে কড়া ব্যবস্থার’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, ‘কাল, পড়শু নবান্ন বন্ধ থাকবে, কারণ স্যানিটাইজেশন কাজ চলবে।’ রাজ্য়ে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হটস্পট প্রসঙ্গ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কোনও এলাকা সিল করা হয়নি। আর এটা কোনও হটস্পট নয়। এটা সরকারি মাইক্রো প্ল্যানিং।’

লকডাউন বাড়ার পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এটাও জানিয়ে দেন, “রাজ্যের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি হোক অথবা বেসরকারি বন্ধ থাকবে ১০ই জুন পর্যন্ত। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ৯৫ জন করোনায় সংক্রামিত। এর মধ্যে ১৬ টি পরিবারের ৭০ জন রয়েছেন।”

পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এটাও জানিয়ে দেন, “নিয়ম না মানলে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত বিপণি খোলা থাকবে। লকডাউন চললেও খোলা থাকবে ওষুধের দোকান।”