করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে কোন রাজ্য কি কি ব্যবস্থা নিল, রইলো সম্পুর্ণ তালিকা

দিনে দিনে সংক্রমণের ধার বাড়াচ্ছে মারণ করোনা করোনা। মোট আক্রান্তের নিরিখেও ব্রাজিলকে টপকে বর্তমানে বিশ্ব করোনা মানচিত্রে দ্বিতীয় স্থানে উঠে উঠে এসেছে ভারত। এমনকী গত ২৪ ঘণ্টায় গোটা ভারতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লক্ষ ৬৫ হাজারের বেশি মানুষ। যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে সর্বকালীন রেকর্ড। ভারতে করোনা যেভাবে বাড়ছে সেটা চরম উদ্বেগজনক। গত দু’মাস ধরে বিশ্বজুড়ে করোনার নয়া সংক্রামিতের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার এ বিষয়ে রীতিমতো সতর্কবার্তা দিয়েছে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন বা হু।

এই মুহূর্তে কোভিড পরিসংখ্যান গত বছরের চেয়ে অনেক খারাপ হলেও জাতীয় পর্যায়ে দেশব্যাপী লকডাউন জারির কথা ভাবা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড মালপাসের সঙ্গে বৈঠকে সীতারামন বলেন, ভারত কোভিডের মোকাবিলা করবে টেস্টিং, ট্র্যাকিং, ট্রিটমেন্ট, টিকা আর কোভিডসম্মত আচরণবিধি পালনে জোর দিয়ে, লকডাউন দিয়ে নয়। তার কথায়, যতই দ্বিতীয় ধাক্কা আসুক, আমাদের স্পষ্ট কথা হলো ভারত বড় আকারে লকডাউনে যাবে না। কারণ অর্থনীতির চাকাকে স্তব্ধ হতে দেওয়া হবে না।

বিগত এক বছরের পুরনো স্মৃতি ফের ফিরে আসছে। দেশে দৈনিক সংক্রমণের হার রেকর্ড গড়ছে। দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা ইতিমধ্যেই দুই লক্ষের গণ্ডি পেরিয়েছে। নিত্য নতুন রেকর্ড গড়ছে করোনা আক্রান্তের হার। তবে দেশ এখনই লকডাউনের পথে হাঁটবে না। বরং করোনার হটস্পট যে রাজ্যগুলি, সেই রাজ্যগুলিকে আপাতত কড়া নজরে রাখা হবে। এর মধ্যে রয়েছে নিম্নোক্ত রাজ্যগুলি

চন্ডিগড় : এই রাজ্যের রাজ্য সরকার জানিয়েছে শুক্রবার রাত ১০ থেকে সোমবার সকাল ৫টা পর্যন্ত লকডাউন পালন করতে হবে। তবে জরুরি পরিষেবাগুলিতে অবশ্য ছাড় থাকছে। পাশাপাশি রাজ্যের কোনও বাসিন্দা যদি বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা করে থাকেন তাহলে তাকে আগে “COVA পঞ্জাব” অ্যাপে তা জানাতে হবে।

উত্তর প্রদেশ : সপ্তাহান্তে লকডাউন ঘোষণা করেছে উত্তর প্রদেশের সরকার। রবিবার সবকিছু বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে যোগীর প্রশাসন। রবিবার রাজ্য জুড়ে স্যানিটাইজেশনের কাজ চলবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের তরফ থেকে এও জানানো হয়েছে, মাস্ক না পড়ে রাস্তায় ঘুরলে ১ হাজার টাকা জরিমানা হবে। তবে কোনও ব্যক্তি যদি দুইবারের বেশি এই অপরাধ করে ধরা পড়েন তাহলে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

মহারাষ্ট্র : সংক্রমনের নিরিখে সারা দেশের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে মহারাষ্ট্র। উদ্ভব ঠাকরের প্রশাসন রাজ্য তাই ১৫ দিনের জন্য কার্ফু জারি করেছেন। একই সঙ্গে জারি আছে ১৪৪ ধারা। তবে স্বাস্থ্যসহ যে কোন জরুরী পরিষেবায় অবশ্য ছাড় থাকছে। একইসঙ্গে রাজ্যে নির্মাণ কাজগুলিও চলবে বলে জানানো হয়েছে।

দিল্লি : সপ্তাহান্তে কার্ফু জারি হয়েছে রাজধানীতেও। জিম, মল, স্পা বন্ধ রয়েছে রাজধানীতে। তবে ছাড় পেয়েছে সংবাদমাধ্যম। নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে যানবাহন চলাচলের অনুমতি পাওয়া গিয়েছে। বিয়ের অনুষ্ঠানে কিংবা শ্রাদ্ধের অনুষ্ঠানে যথাক্রমে ৫০ এবং ২০ জনের উপস্থিতির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে একটি বসতি এলাকায় একটি বাজার খোলা থাকবে। যারা ভ্যাকসিন নেবেন তাদের জন্য বিশেষ পাসের বন্দোবস্ত করেছে দিল্লির প্রশাসন।

মধ্যপ্রদেশ : রাজ্যজুড়ে করোনা কার্ফু জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, মহারাষ্ট্র থেকে যারা ভূপালে বা ইন্দরে আসছেন তাদের RT-PCR নেগেটিভ রিপোর্ট সঙ্গে আনতে হবে।

কর্ণাটক : রাত ১০টা থেকে সকাল ৫ টা পর্যন্ত বেঙ্গালুরু, মহীশুর, ম্যাঙ্গালুরু, কালাবুর্গি, বিদার, টুমকুরু, উডুপি, মণিপালে কার্ফু চলবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। চণ্ডীগড়, কেরল, পঞ্জাব, মহারাষ্ট্র থেকে যারা কর্নাটকে আসছেন তাদের করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ রিপোর্ট সঙ্গে আনতে হবে।

পাঞ্জাব : আগামী ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত রাত ৯টা থেকে সকাল ৫টা পর্যন্ত নাইট কার্ফু জারি করা হয়েছে এই রাজ্যে। জনসমাগম ও ভিড়ের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং একই সঙ্গে রাজ্যের স্কুল গুলি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

রাজস্থান : ১৬ থেকে ১৯শে এপ্রিল পর্যন্ত কার্ফু জারি করা হয়েছে এই রাজ্যে। ৫০ শতাংশ সিটে যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করতে পারবে যানবাহনগুলি। ভিড়ের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে অনুষ্ঠান বাড়িতে অত্যন্ত কম সংখ্যক মানুষের উপস্থিতির অনুমোদন জানানো হয়েছে।

উত্তরাখণ্ড : রাত ১০.৩০ থেকে সকাল ৫টা পর্যন্ত কার্ফু জারি থাকবে। কোচিং সেন্টার, সুইমিং পুল, স্পা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৫০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে যানবাহন চলাচলের উপর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

হরিয়ানা : নাইট কার্ফু জারি করা হয়েছে। আগামী ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত স্কুল, কলেজ, কোচিং সেন্টার, পাঠাগার, যে কোনও ট্রেনিং ইনস্টিটিউট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

গুজরাট : রাত ৮টা থেকে ৬টা পর্যন্ত ২০টি শহরে নাইট কার্ফু জারি রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

ওড়িশা : ১০টি জেলায় নাইট কার্ফু জারি করা হয়েছে।

কেরালা : রাত ৯টা মধ্যে সব দোকান বাজার বন্ধ করে ফেলতে হবে। যাতায়াতের জন্য ই পাস নিতে হবে। ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত জারি থাকবে এই নিয়ম।

জম্মু ও কাশ্মীর : ৮টি জেলায় নাইট কার্ফু জারি করা হয়েছে।

ছত্রিশগড় : ১৯শে এপ্রিল পর্যন্ত সুকমা ও দুর্গে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। সকাল ১০ থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ব্যাংক এবং পোস্ট অফিস খোলা থাকবে। সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দোকান খোলা থাকবে বলে জানানো হয়েছে।