৩০০ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে আজ কীভাবে ভারতের জনপ্রিয় সুপারস্টার হলেন যশ

৩০০ টাকা নিয়ে ঘরছাড়া Yash আজ ৯০০ কোটির সুপারস্টার

Life Story of KGF 2 Star Yash

২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত দক্ষিণী ছবি কেজিএফের (KGF) পর থেকেই কার্যত অভিনেতা যশের (Yash) কেরিয়ার গ্রাফ উপরের দিকে উঠছে। দক্ষিণের সুপারস্টার অভিনেতাদের সারিতে ঢুকে পড়েছেন তিনি। কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করছে তার ছবি। আজ গোটা দেশ তথা বিশ্ব তাকে সফল অভিনেতা হিসেবে চিনছে। তবে জীবনে এই সাফল্য অর্জন করতে তাকে অনেক স্ট্রাগল করতে হয়েছে। আজ জেনে নিন যশের জীবনের অজানা কাহিনী।

হাসান গ্রামে একেবারেই নিম্নবিত্ত একটি পরিবারে জন্ম হয়েছিল যশের। তার বাবা ছিলেন বাসের কনডাক্টর, আর ছিলেন মা গৃহবধূ। যশের আসল নাম নবীন কুমার গৌঢ়া। ছোটবেলা থেকেই তিনি অভিনেতা হতে চাইতেন। তবে সেই সময় তার স্বপ্নকে তেমন গুরুত্ব দিতেন না কেউই। ছোটবেলা থেকেই চরম অর্থকষ্ট এবং আর্থিক অনটনের মাঝে বেড়ে উঠছিলেন তিনি। অভাব কি তা খুব কাছ থেকে দেখেছেন।

KGF Actor Naveen Kumar Gowda - Movies, Biography & WiKi

যশ তার একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই অভিনেতা হতে চেয়েছিলাম। একজন অভিনেতার উপর সকলের নজর থাকে। সেই কারণেই বাড়ির সামনে ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ প্রতিযোগীতায় অংশ নিতাম। নিয়মিত নাচও করতাম। এটা আমার খুব ভালো লাগত। এভাবেই আমার যাত্রাটা শুরু হয়েছিল। আর আজ আমি এই জায়গায়।”

শুধু অভিনেতা নয়, যশের লক্ষ্য ছিল তিনি একদিন বড় সুপারস্টার হবেন। তার কথায়, “ছোটবেলায় ক্লাসে যখন কাউকে জিজ্ঞেস করা হত যে সে বড় হয়ে কী হতে চায় অনেকে বলত মহাকাশচারী বা অন্য কিছু আমি শুধু বলতাম অভিনেতা হতে চাই, আর এটা শুনে সবাই খুব হাসাহাসি করত। কিন্তু আমার নিজের উপর বিশ্বাস ছিল যে একদিন আমি বড় অভিনেতা হবই”। তার স্কুলের শিক্ষকরা যখন তাকে হিরো বলে ডাকতেন তখন তার খুবই ভালো লাগতো।

KGF Actor Naveen Kumar Gowda - Movies, Biography & WiKi

যশের বাবা-মা চেয়েছিলেন তাদের ছেলে কলেজে গিয়ে পড়াশোনা করুক। কিন্তু যশ অভিনয় করতে চাইতেন। তিনি একদিন তার বাবা-মার কাছে এই কথা জানান। অভিনেতার কথায়, “আমার বাবা মা আমায় বলছিলেন ঠিক আছে যাও, কিন্তু যদি তুমি ফিরে আসো আর অন্য কিছু ভাববে না। ওনারা ভেবেছিলেন আমি হয় তো কিছুদিনের মধ্যেই ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসব, কিন্তু সেটা আর হয় নি।”

KGF Actor Naveen Kumar Gowda - Movies, Biography & WiKi

সেদিন তার পকেটে ছিল মাত্র ৩০০ টাকা। সেই টাকা অবলম্বন করেই স্বপ্নের রাজ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে তার ছিল না কোনও গডফাদার। কিন্তু যশ হাল ছেড়ে দেননি। আজ তিনি ৩৮ কোটি টাকার মালিক। তিনি যে সুপারস্টার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন, সেই স্বপ্নও পূরণ হয়েছে তার। ট্রেড এক্সপার্ট মনোবালা বিজয়বালানএর পোষ্ট থেকে জানা যাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত ‘কেজিএফ চ্যাপ্টার টু’ ৯০০ কোটি টাকার বেশি ব্যবসা করে ফেলেছে।