জঙ্গি থেকে সেনা হয়ে দেশের জন্য জীবন দিয়ে অশোক চক্র

99

একদশক আগে আত্মসমর্পণ করে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসেন ওয়ানি। পরে সেনায় যোগ দিয়ে জঙ্গি দমনে স্পেশালিস্ট হয়ে ওঠেন। ২০০৭ সালে সেনার মেডেল পান তিনি। সাহসিকতার জন্য পুরস্কৃতও হন। গতবছরও তাঁকে পুরস্কৃত করা হয়। কুলগাম তেহশিলের চেকি আশমুজি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাম এলাকা জঙ্গি অধ্যুষিত। সেখান থেকেই একসময়ে জঙ্গি দলে নাম লেখান আহমেদ ওয়ানি। সেখানেই জঙ্গি দমন অপারেশনে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। শহিদ ওয়ানি স্ত্রী ও দুই সন্তানকে রেখে গিয়েছেন। ২০০৪ সালে জঙ্গিদল ছেড়ে সেনার ১৬২ নম্বর ব্যাটেলিয়নে নাম লেখান ওয়ানি।

প্রজাতন্ত্র দিবসে শহিদ লান্স নায়েক নাজির আহমেদ ওয়ানিকে মরণোত্তর অশোক চক্র দিয়ে সম্মান জানানো হয়। প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে ওয়ানির স্ত্রী ও মায়ের হাতে ওই সম্মান তুলে দেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। গত বছর কাশ্মীরের সোপিয়ানে এক সেনা অভিযানে ৬ জঙ্গিকে নিধন করে শহিদ হন নাজির আহমেদ। ওয়ানিই প্রথম কাশ্মীরি যিনি এই সম্মানে ভূষিত হলেন।

সেনাবাহিনীর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ২০০৪ সালে জম্মু ও কাশ্মীর লাইট ইনফ্যান্ট্রির ১৬২ ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়নে যোগ দেন নাজির। তাঁর বাড়ি জম্মু ও কাশ্মীরের কুলগাম জেলার চেকি আশমুজিতে। শুরু থেকেই অসাধারণ বীরত্ব ও সাহসিকতার পরিচয় দিতে থাকেন নাজির। তিনি সবসময় জম্মু ও কাশ্মীরে শান্তি স্থাপনের চেষ্টা করতেন। সাহসিকতার জন্য ২০০৭ ও ২০১৮ সালে সেনা পদক পান তিনি।

আরও পড়ুন ঃ আমরা প্রজাতন্ত্র দিবস ২৬ শে জানুয়ারি পালন করি কেন ?

২০০৪ সালেই জঙ্গি ডেরা থেকে পালিয়ে আসেন নাজির। আত্মসমর্পণ করে পুলিশকে নাজির জানিয়েছিলেন, দেশের জন্য তিনি কিছু করতে চান। নাজিরের কথা বিশ্বাস করেন এক সেনা আধিকারিক। শুরু হয় তাঁর সেনা প্রশিক্ষণ। প্রশিক্ষণ শেষে কাজে যোগ দেন নাজির। একের পর এক অভিযানে গিয়ে জঙ্গি দমন করেন। গত ২৩ নভেম্বর সোপিয়ানে এমনই এক জঙ্গি নিধন অভিযানে যান ৩৪ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের এই জওয়ান। ওই দিনই শহিদ হন। কিন্তু মারা যাওয়ার আগে জম্মু কাশ্মীরের সোপিয়ানে হিজবুল ও লস্কর জঙ্গিকে নিকেষ করেন।

Loading...