পূজোর প্যান্ডেলে আর দর্শক নয়। রাজ্যের প্রতিটি প্যান্ডেল ই কন্তেন্টমেন্ট জোন। আজ এমনই একটি ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

দেশে করোনার এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে দুর্গাপুজো হোক কিন্তু উৎসব যেন না হয় এই মর্মে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন বিদ্যুৎ দপ্তরে প্রাক্তন কর্মী অজয় কুমার দে। আজ এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

রাজ্যের সমস্ত ছোট ও বড় পুজোর মণ্ডপকে “নো-এন্ট্রি জোন” হিসাবে ঘোষণা করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এই নির্দেশিকা কতটা পালন করা হলো, কিভাবে পালন করা হল তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ হলফনামা হিসাবে আদালতে জানাতে হবে রাজ্যকে।

এর জন্য রাজ্যকে আগামী  ৫  নভেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে আদালত।  কলকাতা পুলিশ কমিশনার এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি কে এই হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ছোট হোক বা বড়, রাজ্যের সমস্ত পুজো প্যান্ডেলের বাইরে লেখা থাকবে “নো এন্ট্রি জোন”। পাণ্ডেল থেকে ৫ ও ১০ মিটার দূরত্বে রাখতে হবে ব্যারিকেড। এই ব্যারিকেডের ভিতর কেউ ঢুকতে পারবে না।

একমাত্র পুজো কমিটির সদস্যরাই এই ব্যারিকেডের ভেতর ঢুকতে পারবে।  তবুও ১৫ থেকে  ২৫  জনের বেশি মন্ডপে একসাথে কেউ ঢুকতে পারবে না। মণ্ডপে যারা ঢুকবে তাদের নামের তালিকা বাইরে টাঙাতে হবে। এই তালিকায় যাদের নাম নেই তারা মণ্ডপের ভেতরে ঢুকতে পারবেন না। এই দূতত্ববিধি মানার দায়িত্বে থাকবেন পুজো কমিটির সদস্যরা ও পুলিশ।

বিচারপতির প্রশ্ন রাজ্যের পড়ুয়ারা ছ’মাস স্কুল কলেজে যায়নি, এহেন জীবন সঙ্কটে কী ভাবে দুর্গাপুজো সেলিব্রেশন হচ্ছে? সাধারণ মানুষ এবার পুজো ভার্চুয়ালি দেখুক।

কলকাতায় পুজোয় যেখানে ২ থেকে ৩ লক্ষ মানুষের ভীড়ের সম্ভবনা সেখানে ৩০/ ৩৫ হাজার পুলিশ নিয়ে কীভাবে এই ভিড় সামলানো যাবে। প্রশ্ন উঠছে।  তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় কলকাতা হাইকোর্টের রায়কে যেভাবে সমর্থন জানান হচ্ছে তাতে রাজ্যের সচেতন মানুষজন এই রাযকে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসাবেই দেখছে নিঃসন্দেহে বলা যায়।

কলকাতা হাইকোর্টের এই রায় শুনে স্বভাবতই অখুশি রাজ্য সরকার। হাইকোর্টের এই রায়ের পাল্টা রিট পিটিশন করতে পারে রাজ্য সরকার। এই রায় খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করে সুপ্রিম কোর্টেও যেতে পারে রাজ্য সরকার বলে শোনা যাচ্ছে।